somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কান ধরে টান দিতে ভয় লাগে - যদি মাথা চলে আসে...!

১১ ই মে, ২০১৪ সকাল ১০:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক লোক নিজের স্ত্রীর
কাছে হাতে নাতে ধরা খায়।
তারপরেও স্ত্রীর
কাছে নিজেকে ধোয়া তুলসী পাতা হিসাবে প্রমাণের
চেষ্টা করে। স্ত্রীকে বলে ,
বিশ্বাস করো, এই
হতভাগা মেয়েটি তোমার মত
একই রংয়ের শাড়ি পড়েছিল
বলেই এই
ভুলটি করে ফেলেছি। "
এই স্বামী তার
স্ত্রীকে যতটুকু
বোকা মনে করেছিলেন
সরকারের মন্ত্রীগণ
এদেশের মানুষকে তার চেয়েও
বড় বোকা ঠাহর
করে বসেছেন ।
সরকারের প্রতিটি পাপ
নগ্নভাবে প্রকাশ পাওয়ার
পর সরকারের মন্ত্রীদের
মন্তব্যগুিল এই স্বামীধনের
আত্মপক্ষ সমর্থনের মতই
চিত্তাকর্ষক ও অভিনব।
বুঝতে পারছি না যে এই
ধরনের মগজ
খালি ওয়ালারা সব সময়
মন্ত্রী হয়
নাকি মন্ত্রী হওয়ার পর
মগজ এই ভাবে ড্রেইন
বা খালি হয়ে যায়।
রানা প্লাজা থেকে শুরু
করে বিশ্বজিৎ
হত্যা এমনকি হালের
নারায়নগঞ্জের ঘটনাতেও
তাদের সেই প্রবণতা লক্ষ্য
করা গেছে। সাংস্কৃতিক
মন্ত্রী নূর আজ এক
সমাবেশে বলেছেন, অরাজক
পরিস্থিতি সৃষ্টিতে স্বাধীনতা বিরোধীরা দায়ী।
কিন্তু সব জায়গায়
ধরা খাচ্ছে আবার তাদের
জয়বাংলার মায়া গণ।
অন্যদিকে এক
ব্যবসায়ীকে আটকে মুক্তিপণ
আদায় করতে গিয়ে গতকাল
ছাত্রলীগের পাঁচ জন
হাতে নাতে ধরা খেয়েছে।
আটক
হওয়া ব্যক্তিরা হলেন:
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয়
কমিটির উপ-
ক্রীড়া সম্পাদক সৃজন
ঘোষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
কমিটির
সহসভাপতি তানভীরুল
ইসলাম, জগন্নাথ হল
কমিটির সহসভাপতি অনুপম
চন্দ্র, মুহসীন হল কমিটির
ছাত্রবৃত্তিবিষয়ক সম্পাদক
মামুন, জসীমউদ্দীন হল
কমিটির সাবেক সহসম্পাদক
বাপ্পী ও ছাত্রলীগের
কর্মী হিমেল।
কাজেই অ-সুশীল হাছান
মাহমুদ, হানিফ কিংবা আমির
হোসেন আমুদের সাথে এই
সুশীল ঘরানার
আসাদুজ্জামান নূরের
মানসিক গঠনে কোনই
পার্থক্য নেই ।
আমু দাবি করেছেন , '
সরকারকে বিপদে ফেলার
জন্যে বিএনপিই
সারা দেশে এখন
পরিকল্পিতভাবে গুম-
হত্যা করছে।' হাছান মাহমুদ
নারায়নগঞ্জের ঘটনায়
বিরোধীদলের
সম্পৃক্ততা খুজে বের করার
নির্দেশ দিয়েছেন।
নারায়নগঞ্জের ঘটনায়
অনুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও
প্রধানমন্ত্রীর অফিস
কোন বিরোধী দলের
নেতা কিংবা তাদের কোন
মামা শ্বশুর বা খালু
শ্বশুরকে খুঁজে পাচ্ছে না।
বিশ্বজিত
কেইসে প্রধানমন্ত্রীর
অফিস খুনী ছাত্রলীগ
নেতাদের
মধ্যে কারো কারো বিএনপি-
জামায়াতের আত্মীয়
খুজে পেয়ে ইউরেকা ইউরেকা বলে চেচিয়ে উঠেছিল
। রানা প্লাজার রানার
কপালে আওয়ামী এমপি মুরাদ
জংয়ের স্নেহের চুম্বনরত
ছবি যখন
সারা দেশবাসী উপভোগ
করছে তখন
প্রধানমন্ত্রী সাভারের
যুবলীগ নেতাদের
তালিকা দেখিয়ে বলেছেন
যে লিষ্টটিতে রানার নাম
নেই। দেশের মানুষ
কোনটি বিশ্বাস করবে,
প্রধানমন্ত্রীর হাতের লিষ্ট
নাকি নিজেদের চোখ ?
সমস্ত আলামত
দেখে মনে হচ্ছে স্বয়ং স্রষ্টা তার
কোন
পরিকল্পনা থেকে প্রশিক্ষিত
খুনীদের এতসব সতর্কতার
পরেও সাত সাতটি লাশ
ভাসিয়ে দিয়েছেন। লাশের
সঙ্গে ইট বেঁধে এবং নাভির
নিচে ছিদ্র করে দেয়ার পরেও
যখন
লাশগুলি ভেসে ওঠে তখন
এটাকে স্বয়ং স্রষ্টার
ষড়যন্ত্র না বলে উপায়
থাকে না।
পাপ নাকি তার বাপকেও
ছাড়ে না। তবে আমাদের
এখানে মনে হচ্ছে পাপ তার
বাপকে খাতির
করে ছেড়ে দেয়।
মাঝে মাঝে দুয়েকজন
চাচাদের খেয়ালের
বশে ধরে ফেলে।
অনেক সময় এই পাপের শুধু
কানটি ভেসে ওঠে । তখন
কানটি ধরে টান
দিলে মাথাটি বেরিয়ে আসতে পারে এই
ভয়ে আমাদের মিডিয়া ও
সুশীল সমাজ এই কান
নিয়ে বেশি টানাটানি করতে ভয়
পায়। শেয়ার বাজার,হলমার্ক,
বেসিক ব্যাংক,কুইক রেন্টাল,
ডেসটিনি,সাগর-
রুনি,পদ্মাসেতু সব জায়গায়
এই কানটি দেখা গেলেও
মাথাটি ভালোভাবে দেখা হয়ে ওঠে নি এদেশের
মানুষের।
পদ্মা সেততে যে কানটি দৃষ্টির
মধ্যে এসেছিল
তা ধরে সামান্য টান
দিলে মাথাটি বেরিয়ে আসতে শুরু
করেছিল। এই সময় মাননীয়
প্রধানমন্ত্রী নিজের
স্বজনদের পরিধিটি ছোট্ট
করে ফেললেন। বললেন
নিজের ও বোনের
ছেলেমেয়ে ছাড়া তাঁর আর
কোন স্বজন নেই।
পদ্মা সেতুর দুর্নীতির
সাথে জড়িত বেশ কয়টি নাম
এই লাশের মত
ভেসে উঠেছিল। সরকারের
ভয়ে কিংবা প্রীিততে মুখ
বন্ধ করে রাখা এদেশের
মিডিয়া এই
নামগুলি নিয়ে তখন তেমন
নাড়াচড়া করে নি।
হাওয়া ভবনে সমপরিমাণ
মাল মসলা পেলে এদেশের
মিডিয়া কী করতো তা কল্পনা করলেও
জলতেষ্টা পেয়ে যায়।
এদের মধ্যে একটি নাম
আবারও অন্য
কারনে ভেসে উঠেছে। তার
স্ত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু
হয়েছে । কিন্তু এই
ব্যাপারে মিডিয়া এবং প্রশাসনের
ফিসিফসানি টাইপের
অঙ্গভঙ্গি দেখে মনে হয়েছে যে দেশটি যেন
মধ্য প্রাচ্যের শেখ শাসিত
কোন একটি রাজ্য।
মধ্যপ্রাচ্যের কোন
প্রিন্সের স্ত্রীর এই ধরনের
অপমৃত্যু হলে যে ধরনের
ট্রিটমেন্ট দেওয়া হতো এই
ঘটনাটিতে সেই ধরনের
প্যারামেডিক, প্রশাসনিক ও
মিডিয়া ট্রিটমেন্ট
দেয়া হয়েছে । এতে স্পষ্ট
হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী তাঁর
স্বজনের পরিধিকে যতটুকু
ছোট্ট বলে দাবি করেছেন
বাস্তবে এটা ততটুকু ছোট্ট
নয়।
সাধারন মানুষের বউ অপ -
মৃত্যুতে মারা গেলে যতটুকু
ঝামেলা পোহাতে হয়,
রাজা শাসিত রাজ্যের
রাজপুত্রদের
তা পোহাতে হয় না ।
এটা নিয়ে মানুষের মনে সৃষ্ট
অনেক প্রশ্ন বিশেষ
বোতলে ঢুকিয়ে আপাতত
ছিপি মেরে রাখা হয়েছে।
কোনদিন এই
ছিপি খোলা যাবে কি না জানি না।
সমাজে এক ধরনের
বিচারহীনতার
সংস্কৃতি বা বোধ
আমাদেরকে গ্রাস
করে ফেলেছে। এখন কেউ
যদি তার বেয়াই বা বেয়াইনের
চেয়ে দুর্বল হয় তবে প্রিয়
সন্তানটি এভাবে অপমৃত্যুর
মুখোমুখি হলে তার
ময়না তদন্ত
না করে তাড়াতাড়ি সমাহিত
করার জন্যে একান্ত বাধ্য
বেয়াই সাজতে হবে।
কোন
রাজপরিবারে কিংবা নিজের
চেয়ে শক্তিসালী পরিবারে মেয়ে বিয়ে দিয়ে তৃপ্তির
ঢেকুর তোলার দিন বোধ হয়
শেষ হয়ে পড়েছে ।কারন
কুইনাইন (বেয়াইন)
দিয়ে জ্বর সারালেও এই
কুইনাইন (বেয়াইন)
সারাবে কে ?
টিভি চ্যানেলে প্রচারিত
একটি অনুষ্ঠানে দেখলাম
এক এলাকার এক শাহানশাহ
এক সমাবেশে গর্ব
ভরে বলছেন যে আপা তার ,
সেনাবািহনী তার। সেই
মঞ্চে দেখা গেলো সদ্য
বিধবা হওয়া নারীটিও যেন
তারই সহানুভূতির কাঙাল ।
অর্থাৎ বিধবাটিও তার। এক
কথায়
আপা তার,সেনাবাহিনী তার,
বিধবাও তার। এই
হলো শাহান শাহ।
বোবা একটা দৃষ্টি দিয়ে জনগণ
শুধু হা করে তাকিয়ে দেখছে।
এদের ঘুটির চালে কেউ
বিধবা হলে আবার তাদেরই
সহানুভূতি গ্রহন
করতে চাহিবামাত্র স্মরণ
সভা বা প্রতিবাদ সভার
সভামঞ্চে উপস্থিত
হতে হবে। কারো কলিজার
টুকরা মেয়ের অপমৃত্যু
হলে জামাই
বাবাজিকে কুর্নিশ
করে খুশি মনেই ময়না তদন্ত
ছাড়াই মেয়ের লাশটি দাফন
করতে হবে। বাবার কাধে এই
সন্তানের লাশ কতটুকু
ভারি লাগবে তা ঘুণাক্ষরেও
বলা যাবে না।
কারন
ইনহাস্ত ওয়াতনাম ।
এই তো আমার জন্ম ভূমি !
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×