somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রকৃতি কন্যা জাফলং ভ্রমণ

১৬ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ১১:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপ লীলাভূমি জাফলং ভ্রমণে গিয়েছিলাম আজ থেকে দু'বছর আগের এক ঈদের ছুটিতে। সাথে ছিল আমার তিন বন্ধু বাধন, সাইফুল এবং তামজিদ। সিলেটে আমার নানু বাড়ি। উঠেছিলাম সেখানেই। সিলেটে পৌঁছানোর পরের দিন আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী জাফলং এর উদ্দেশ্যে বের হই। সিলেট শহরের নয়াবাজার থেকে আমরা বাস ধরি। বলা বাহুল্য, সিট খালি থাকা সত্যেও আমরা বাসের ছাঁদে চড়ে যাই।



জাফলং যাওয়ার পথে অসম্ভব সব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমরা অনুভব করতে পারি এই ছাঁদে বসে যাওয়ার কারণেই। তবে যাওয়ার পথে বিভিন্ন সময় রাস্তায় প্রচুর বালু থাকায় কিছুটা অস্বস্তিতেও পরতে হয়েছিল।







আনুমানিক আড়াই ঘণ্টার মধ্যে বাস আমাদের নামিয়ে দিল জাফলং অঞ্চলে। যেখানে নেমেছি সেখান থেকে আবার অটোতে করে সামান্য একটু পথ পেরোতেই দেখা মিলল মূল পর্যটন স্থানের। সেখান থেকে হেঁটে একটু ঢালুতে নেমে গেলেই 'প্রকৃতি কন্যা'র অস্তিত্ব।

এইতো সেই জাফলং। আহা! প্রকৃতি যেন সব সৌন্দর্য এখানে ঢেলে দিয়েছে। সিলেট শহর থেকে ৫৬ কিলোমিটার দূরের গোয়াইনঘাট উপজেলার এই জায়গায় এসে চোখ দুটি যেন আমার সার্থকই হইল।





তবে এখানেই সব কিছু নয়। আরও কিছুটা পথ এগিয়ে যেতে হবে 'জিরো পয়েন্ট' নামক স্থানে। যেটা এই জাফলং এর মূল স্থান হিসেবে চিহ্নিত। আমরা হাটা শুরু করলাম। দূর থেকে দেখাই যাচ্ছে জায়গাটি। তবে কিছু দূর হাটার পরেই আমাদের থামতে হল। হাটা পথ এখানেই শেষ, এখন নৌকা নিতে হবে। চট করে সবাই নৌকায় উঠে পরলাম। দেড়ি যে আর সহ্য হচ্ছিল না।



অতঃপর আমরা এসে পরলাম ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা জিরো পয়েন্টে। কি অপরূপ দৃশ্য! ওপারে খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়, এপারে নদী। আর নদীর বুকে সাজানো রয়েছে নানা রঙের পাথর।



আমরা বেশিক্ষণ ডাঙ্গায় দাড়িয়ে থাকতে পারলাম না। কাপড়-চোপড় চোখের কাছাকাছি রেখে নেমে পরলাম পানিতে। সে কি আনন্দ! সে কি উৎসব!

পানি কোমর পরিমাণ। এর নিচে রয়েছে বিশাল বিশাল পাথর। তবে মাঝে মাঝে ভয় হচ্ছিল পাথরে পা আটকিয়ে যায় কিনা। তবে আশে পাশের অবস্থা দেখে সে ভয় আমার দৌড়ে পালিয়েছিল।





অবশেষে প্রায় এক-দেড় ঘণ্টা পানিতে দাপাদাপির পর ডাঙ্গায় এসে আশে পাশে হাঁটাহাঁটি করতে লাগলাম। দুচোখ যেদিকে চায় সেদিকে শুধু সৌন্দর্যেরই দেখা পায়। কি সুন্দর পাহাড়, কি সুন্দর পানির বাহার। কত কোটি কোটি পাথরের আনাগোনা! আশে পাশে বেশ কিছু দোকান খেয়াল করলাম। দোকানের প্রায় সকল পণ্যই মনে হচ্ছে ভারতীয়। এগুলো খুব সম্ভবত চোড়াই ভাবে এদেশে আসে। যাক গে, কিছুই কিনলাম না। বাইরে বেড়িয়ে লাঞ্চ করে টেম্পু যোগে সিলেটের দিকে রউনা দিলাম।

সিলেটের এই জাফলং ভ্রমণ আমরা চার বন্ধু অনেক অনেক উপভোগ করেছিলাম। সেদিনটা ছিল আমাদের জীবনের অন্যতম সেরা উপভোগ্যময় দিন। যারা ভ্রমণ পছন্দ করেন, প্রকৃতি ভালোবাসেন তাদের জন্যে এই জায়গাটি দর্শন করা অত্যাবশ্যক।


-১৬/০৭/২০১৬ ইং
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ১১:১৭
৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের এই সুযোগ কি আরেকবার আসবে? বা তারাই-কি এটা হাত ছাড়া করবে???

লিখেছেন লিংকন বাবু০০৭, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০

ইরানী নেতা খামেনি শহীদ হওয়ার পরে ইরান কি বলেছিল মনে আছে???

ইরান কইছিলো, ইরানের এই অবস্থার জন্য যারা দায়ী সেই বেবাক দেশকে রাস্তায় এনে দাঁড় করানো হবে।
প্যান্ট খুলে ছেড়ে দিবে-(এটা আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া কি ছিল?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৭



কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া হলো উদ্ভব। কারণ সৃষ্টি বা তৈরী কারক না থাকা। তাতে কী উদ্ভব হবে এটা অনিদৃষ্ট। কারণ এটা নিদৃষ্ট করার কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খাবেন সবাই সমকামী হয়ে যাবেন

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×