somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মোঘল আমলের হোসেনী দালান

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ঐতিহাসিক কারবালার প্রান্তরে শহীদ হওয়া আল-হোসেনকে স্মরণ করে ইমারত (সাধারণত ইমামবাড়া বলা হয়) নির্মাণ করা মুসলিম-শিয়া সম্প্রদায়ের একটি সাধারণ রীতি। এই রীতিকে ধারণ করেই ১৭শ শতকে (আনুমানিক ১৬৪২ খ্রিস্টাব্দে) পুরান ঢাকার দিকে নির্মিত হয় হোসেনী দালান। এই ইমামবাড়া নির্মাণে সম্পূর্ণ পৃষ্ঠপোষকতা করেন সম্রাট শাহজাহানের পুত্র শাহ সুজা। যদিও তিনি শিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্গত ছিলেন না তবে কোন এক ভালোবাসার টানেই তিনি এই ইমামবাড়া নির্মাণে অগ্রসর হন।

পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে পৌঁছানোর পর খুব একটা বেগ পেতে হয়নি এই ঐতিহাসিক জায়গাটি খুঁজে বের করতে। লোহার গেট পেরিয়ে ভেতরে ঢোকার পর মনে হল চক্ষুদ্বয় আমার সার্থকই হল।

মাটি থেকে খানিকটা উঁচু প্লাটফর্মে মূল ভবনটি অবস্থিত। পূর্ব দিকে একটি গেট রয়েছে যার সাহায্যে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। ভেতরে প্রবেশ করার পর দালানের দেয়ালের নানা রকমের কারুকাজ দেখে আমার মনটা প্রশান্তিতে ভরে গেল। কি অপরূপ সৌন্দর্য এখানে! জানতে পারলাম ২০১১ সালে ইরান সরকারের উদ্যোগে এই হোসেনী দালান সংস্কার করা হয় আর তখনই ইরাকী বিভিন্ন কারুকাজে সজ্জিত হয় এই ভবন।





ভবনের ভেতরের একটা অংশ দেখলাম বিশাল কালো পর্দা দিয়ে ঢাকা। এছাড়াও একটা নির্দিষ্ট অংশে কিছু মানুষ ইবাদতে মশগুল। আরও দেখতে পেলাম একটি তরবারি। তবে এটি কিসের তরবারি বা কার তরবারি সে সম্পর্কে কিছু জানতে পারিনি।






ভবনের ঠিক পেছনেই রয়েছে একটি পুকুর। শুনেছি ১০ই মহররম মানুষজন তাজিয়া মিছিল শেষে এখানে এসেই স্নান করে।


(১৯০৪ সালের হুসনি দালান)

প্রায় সাড়ে তিনশত বছর আগে নির্মিত হওয়া এই ঐতিহাসিক স্থানটি আমাকে স্মরণ করিয়ে দেয় সুবেদার শাহ সুজার মহত্ত্বকে। সেই মহত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝেই। অক্ষত অবস্থায় টিকে থাকুক শিয়াদের এই পবিত্র স্থানটি। অধমের এই প্রত্যাশা।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ৮:৩৭
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জামাত কি আদতেই বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার রাখে?

লিখেছেন এমএলজি, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

স্পষ্টতঃই, আসন্ন নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি এবং জামাত। দুই পক্ষের কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে যেমন সক্রিয়, একইভাবে ফেইসবুকেও সরব।

বিএনপি'র কিছু কর্মী বলছে, জামাত যেহেতু ১৯৭১-এ স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ম্যাজিস্ট্রেট

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



আমাদের এলাকায় নতুন একটা ওষুধের দোকান হয়েছে।
অনেক বড় দোকান। মডেল ফার্মেসী। ওষুধ ছাড়াও কনজ্যুমার আইটেম সব পাওয়া যায়। আমি খুশি এক দোকানেই সব পাওয়া যায়। আমাদের এলাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকে জুলাইযোদ্ধাদের উপর পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:১৪

জুলাই যারা ঘটিয়েছে, তাদের উপর পুলিশের কী পরিমাণে ক্ষোভ, এটা ইলেকশনে যাস্ট বিএনপি জেতার পরই টের পাবেন।
আমি বলছি না, বিএনপির ক্ষোভ আছে।
বিএনপি দল হিসেবে অকৃতজ্ঞ হতে পারে, কিন্তু জুলাইয়ের উপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাশা : বাংলাদেশের নতুন জাতীয় খেলা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩৯


"ও শ্যামরে, তোমার সনে একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম, এই নিঠুর বনে। আজ পাশা খেলব রে শ্যাম।" প্রয়াত হুমায়ূন ফরীদির কণ্ঠে ছবিতে যখন এই গান শুনেছিলাম ,তখন কেউ ভাবেনি যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×