somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিথানে নিথানে!

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হাঁটতে যেয়ে মনে হল জুতার মধ্যে কি যেন ঢুকে আছে। গুড়ি গুড়ি। মনে হচ্ছে ছোট মারবেল নিয়ে হাটছি। কি এগুলা? তেলাপোকার ডিম হতে পারে। অনেকদিন পর জুতাটা পড়েছি, তেলাপোকা ডিম পাড়তে পারে। এদের কাজই হচ্ছে স্থির কিছু পেলে ডিম পাড়া। যেমন, বুক শেলফে রাখা বই।

হাটতে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে। কিন্তু এখন জুতা খোলার টাইম নাই। অতি ব্যস্ততায় আছি। জুতার মধ্যে তেলপোকার ডিম নিয়ে হাটতে হবে।

বাসে উঠলাম। রাস্তায় হেভি জ্যাম। গান শুনে সময় কাটানো যায়। মোবাইলে সব তামিল গান লোড করা।যদিও মেলোডি গান, কিন্তু এক গান বেশিবার শোনার কারণে কেমন গা গুলাচ্ছে। পাশে এক মুরব্বি বসে আছে, তার গায়ের উপর বমি করে দিতে পারলে ভালো হয়। গান বমি। চাচা বলবে "কি হইসে বাবা, কি হইসে?" আমি বলবো "নিথানে, নিথানে! (গানের লিরিক) ওয়াক! ওয়াক!"

তবুও গান ছাড়তে পারছি না। কানে বেজেই যাচ্ছে। নিথানে বাংলা অর্থ তুমি। মাথার মধ্যে তুমি ঘুরপাক খাচ্ছে। চলন্ত বাসে টাইপ করতে যেয়ে বমি ভাব আরো বেড়ে গেছে। vestibulo cochlear imbalance হচ্ছে। আমি ওয়াক ওয়াক করে চাচার দিকে এগিয়ে গেলাম। চাচা ভীত চোখে আমার দিকে তাকাচ্ছেন। "সরেন সরেন!" বলে সে নিজেই সিট থেকে উঠে গেল।

বমি না করেই বাস থেকে নামতে পারলাম। এখন এক কাপ করা চা খেতে হবে। হাসপাতালের পিছনে ভালো চা বানায়। দোকানদারের নাম জামাল।

চায়ের দোকানটাতে বেশ ভীড়। দুইজন পুলিশ আসামী নিয়ে চা খেতে এসেছে। আসামী বেড়ি শিকলে বাধা, হাত পা নাড়ালেই ঝনঝন শব্দ হচ্ছে। আশেপাশের লোকজন কৌতুহলী তাকিয়ে আছে। বাধা অবস্থায় চা খাবে কিভাবে? চায়ের দোকানদার মুচকি হাসছে। আস্তে আস্তে বললো,
'বেড়ি বাধা অবস্থায় হাঁটা কঠিন, চ্যাগায়ে চ্যাগায়ে হাটা লাগে, হে হে হে!
আমি বললাম 'বেশি হে হে কইরেন না, পুলিশ শুনলে আপনারেও মাইর লাগাবে, চ্যাগায় হাটা লাগবে, দিনকাল ভালো না'।
একজন বললো 'মনে হয় মার্ডার কেস! এই জন্য বেড়ি পড়াইসে'।
আমি সম্ভাব্য মার্ডার কেস আসামীর দিকে তাকালাম। রোগা শুকনা, নিরীহ চেহারা। তৃপ্তি করে চুকচুক করে চা খাচ্ছে।

চা খাওয়া শেষ হয়েছে। আসামী শিকলের ঝনঝন শব্দ করে হেটে যাচ্ছে। শব্দটা কেমন যেন, মাথায় ঢুকে যায়।

নর্তকীরা নাচের সময় কি এজন্যই নূপুর পড়ে? নূপুরের শব্দ মাথায় ঢুকে যায়, দর্শক মোহগ্রস্ত হয়?

হাই ফিলসফি হয়ে যাচ্ছে। আমার চোখের সামনে নর্তকী ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি বিড়বিড় করছি
'নিথানে নিথানে!'
'তুমি, তুমি!'হাতটতে যেয়ে মনে হল জুতার মধ্যে কি যেন ঢুকে আছে। গুড়ি গুড়ি। মনে হচ্ছে ছোট মারবেল নিয়ে হাটছি। কি এগুলা? তেলাপোকার ডিম হতে পারে। অনেকদিন পর জুতাটা পড়েছি, তেলাপোকা ডিম পাড়তে পারে। এদের কাজই হচ্ছে স্থির কিছু পেলে ডিম পাড়া। যেমন, বুক শেলফে রাখা বই।

হাটতে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে। কিন্তু এখন জুতা খোলার টাইম নাই। অতি ব্যস্ততায় আছি। জুতার মধ্যে তেলপোকার ডিম নিয়ে হাটতে হবে।

বাসে উঠলাম। রাস্তায় হেভি জ্যাম। গান শুনে সময় কাটানো যায়। মোবাইলে সব তামিল গান লোড করা।যদিও মেলোডি গান, কিন্তু এক গান বেশিবার শোনার কারণে কেমন গা গুলাচ্ছে। পাশে এক মুরব্বি বসে আছে, তার গায়ের উপর বমি করে দিতে পারলে ভালো হয়। গান বমি। চাচা বলবে "কি হইসে বাবা, কি হইসে?" আমি বলবো "নিথানে, নিথানে! (গানের লিরিক) ওয়াক! ওয়াক!"

তবুও গান ছাড়তে পারছি না। কানে বেজেই যাচ্ছে। নিথানে বাংলা অর্থ তুমি। মাথার মধ্যে তুমি ঘুরপাক খাচ্ছে। চলন্ত বাসে টাইপ করতে যেয়ে বমি ভাব আরো বেড়ে গেছে। vestibulo cochlear imbalance হচ্ছে। আমি ওয়াক ওয়াক করে চাচার দিকে এগিয়ে গেলাম। চাচা ভীত চোখে আমার দিকে তাকাচ্ছেন। "সরেন সরেন!" বলে সে নিজেই সিট থেকে উঠে গেল।

বমি না করেই বাস থেকে নামতে পারলাম। এখন এক কাপ করা চা খেতে হবে। হাসপাতালের পিছনে ভালো চা বানায়। দোকানদারের নাম জামাল।

চায়ের দোকানটাতে বেশ ভীড়। দুইজন পুলিশ আসামী নিয়ে চা খেতে এসেছে। আসামী বেড়ি শিকলে বাধা, হাত পা নাড়ালেই ঝনঝন শব্দ হচ্ছে। আশেপাশের লোকজন কৌতুহলী তাকিয়ে আছে। বাধা অবস্থায় চা খাবে কিভাবে? চায়ের দোকানদার মুচকি হাসছে। আস্তে আস্তে বললো,
'বেড়ি বাধা অবস্থায় হাঁটা কঠিন, চ্যাগায়ে চ্যাগায়ে হাটা লাগে, হে হে হে!
আমি বললাম 'বেশি হে হে কইরেন না, পুলিশ শুনলে আপনারেও মাইর লাগাবে, চ্যাগায় হাটা লাগবে, দিনকাল ভালো না'।
একজন বললো 'মনে হয় মার্ডার কেস! এই জন্য বেড়ি পড়াইসে'।
আমি সম্ভাব্য মার্ডার কেস আসামীর দিকে তাকালাম। রোগা শুকনা, নিরীহ চেহারা। তৃপ্তি করে চুকচুক করে চা খাচ্ছে।

চা খাওয়া শেষ হয়েছে। আসামী শিকলের ঝনঝন শব্দ করে হেটে যাচ্ছে। শব্দটা কেমন যেন, মাথায় ঢুকে যায়।

নর্তকীরা নাচের সময় কি এজন্যই নূপুর পড়ে? নূপুরের শব্দ মাথায় ঢুকে যায়, দর্শক মোহগ্রস্ত হয়?

হাই ফিলসফি হয়ে যাচ্ছে। আমার চোখের সামনে নর্তকী ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি বিড়বিড় করছি
'নিথানে নিথানে!'
'তুমি, তুমি!'
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৩৭
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভাবতে পারি না

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১৪


আমি ভাবতে পারি না মধ্য রাতের চাঁদ
আমি ভাবতে পারি না স্নিগ্ধ ভোরের স্নান
মধ্য দুপুরের সূর্য তাপ, সন্ধ্যার ক্লান্তি মুখ!
আমাকে ডেকে নিয়ে যায় ঘাসফড়িং কিংবা
জোনাকির ঘরপোড়া দল- শান্তির সংগ্রামে
দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পতাকার যুদ্ধ অথবা গামছা ও কালিমা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪০

একটি দেশের পতাকা শুধু কাপড় নয়। এটা একটি চুক্তি—আমরা কে, এই প্রশ্নের সম্মিলিত উত্তর। বাংলাদেশের পতাকার রং লাল-সবুজ। লাল মানে রক্ত, সবুজ মানে মাটি। এই দুটি রঙের পেছনে একটি নির্দিষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

কি করে কি করি, কি যে করি !

লিখেছেন মেহবুবা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৫




আজ বেশ ক'দিন হোল আমার ব্লগবাড়িতে জ্বীন ভূতের কারসাজি চলছে! আধা পৃষ্ঠা জুড়ে কয়েকটি পোষ্ট আসছে, সব আসছে না।নিজ ব্লগবাড়িতে কত কি আয়োজন থাকে ; যেমন মন্তব্য,... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের আন্দোলনরত HSC শিক্ষার্থীদের ধিক জানাই

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:২০



দেশের কমপক্ষে ৬ টি জেলায় উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বাতিল ও স্থগিতের জন্যে আন্দোলনে নেমেছে। এরা হল লীগ সরকরারের শিক্ষা ব্যবস্থায় বেড়ে ওঠা তরুন তরুনী, যারা পড়ালেখা না... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারত কোন ভাবেই স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশে সৈন্য পাঠায়নি!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৬


ভারত কোন ভাবেই বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য সৈন্য পাঠায়নি! সৈন্য পাঠিয়েছিল পাকিস্তানকে বিভক্ত করতে ও তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানকে লুটপাট করার উদ্দেশ্যে। প্রতিবেশি দূর্বল হলে দাদাগিরি করতে পারবে এটাই ছিল ইন্দ্রিরাগান্ধির ভিষন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×