somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছোটবেলার রমজানের সেই দিনগুলি

২৩ শে জুলাই, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত দুইদিন থেকে রোজা বড় লম্বা মনে হচ্ছে। দিন যেন কাটতেই চায় না। ২টার দিকে ঘুম থেকে ওঠার পর বাকি সময়টাও যেন চলতেই চায় না। আর, এর পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ হল, এয়ারটেল এর ইন্টারনেট কানেকশনে সমস্যা। গতকালকেও পুরোদিন ইন্টারনেট কানেকশন ছিল না, আজকেও ছিল না। আর, এই কারণে সময় কাটতেছে না।

মনে পড়ে গেল, ছোটবেলার রোজা রাখার কথা। রমজান মাসে স্কুল থাকত বন্ধ, সেহরী খেয়ে ঘুমিয়ে গেলেও ৯টার আগেই ঘুম থেকে উঠে ব্যাট-বল নিয়ে গ্রামের মাঠে যাওয়াই ছিল নিয়ম। প্রতিদিন সকাল থেকে জোহরের আগ পর্যন্ত চলত ক্রিকেট খেলা আর তার সাথে থুঁ থুঁ ফেলতে ফেলতে জোহরের আগেই গলা শুকিয়ে কাঠ, ঠিকমত চলতে পারাই যেন কষ্টসাধ্য কিন্তু ভাবখানা এমন যে, রোজা এমন কোন ব্যাপার না, মোটেও কষ্ট হয় না। খেলা শেষ করে পুকুরে চলত লম্বা গোসল। গোসল শেষে কিছুটা শক্তি ফিরত শরীরে; তারপর জোহরের নামাজ পরে প্রতিদিন এক পারা কোরআন তেলাওয়াত, মাস শেষে যাতে এক খতম হয়ে যায়।

তেলাওয়াত শেষ হতেই ব্যাডমিন্টন খেলার প্রস্তুতি। প্রথমেই বাড়ির উঠানে আমি আর আফছার (গ্রামের চাচা+বন্ধু) ট্রায়াল করতাম পুরাতন করক (ফ্লাওয়ার) দিয়ে। আছরের নামাজ পড়ে শুরু হত গোরস্থানের পাশের মাঠে ব্যাডমিন্টন খেলা। মাগরিবের আজানের আগ পর্যন্ত চলত এ খেলা। বেশিরভাগ দিন মাঠেই আজান পড়ে যেত; কাছেই বাড়ি হওয়ায় আজান শেষ হতে হতেই বাড়িতে পৌছে যেতাম। যদি কোনদিন তাড়াতাড়ি খেলা শেষ করে বাড়িতে যেতাম, তো ঐদিন যেন আজান আর হতেই চাইতো না। ঘড়ি দেখতে দেখতে শেষ তবুও আজান হয় না।

এখন, যদিও দিন লম্বা তবুও রোজা বলে মনে হয় না। ঘুম থেকে উঠতে উঠতেই তো অর্ধেকের বেশি দিন শেষ। জোহরের নামাজ পড়ে তেলাওয়াত করে আর ফেসবুকে নিউজফিড আর নোটিফিকেশন দেখেই মোটামুটি দিন কেটে যায়। এর মাঝে অনলাইনে ২/৩টা নিউজপেপারের হেডলাইনে চোখ চোখ বুলাতে বুলাতে আসরের আজান হয়ে যায়। নামাজ পড়ে রাস্তায় একটু হাটাহাটি করে বাসায় এসেই ইফতার। মনে হয় যেন, লান্চ করে কিছুক্ষন বিশ্রাম নিয়ে বেরিয়েছিলাম আর সন্ধ্যার পর নাশতা করছি।

এখনকার এই রোজা রাখার চেয়ে কষ্টকরে রাখা ছোটবেলার ঐ রোজা রাখার দিনগুলো মিস করি ভীষণ। সকালে ঘুম থেকে উঠে ক্রিকেট খেলতে যাওয়া মিস করি ভীষণ। বড় কাওকে দেখলে জোরে জোরে থুঁ থুঁ ফেলা (যাতে জিজ্ঞেস করে রাজা কি না?) মিস করি ভীষণ।পড়ন্ত বিকেলের সেই ব্যাডমিন্টন খেলা মিস করি ভীষণ। চন্দ্ররাতে বন্ধুরা মিলে বিয়ানীবাজারে দেয়া আড্ডাটা মিস করি ভীষণ।
সর্বোপরি, আমার চাইল্ডহুড তোমায় মিস করি ভীষণ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৩



তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে-

বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যু এখন রহস্যের আরেক নাম। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২



১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×