অনেকদিন থেকে কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় ঘুরাঘুরি করছে । সময় ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তের অভাবে বিষয়টিকে আর্টিকেলে রূপ দিতে পারি নাই ।
বিষয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর হওয়ায় বিনা রেফারেন্সে হাত দিতে ভয়ও হচ্ছিলো পাছে কেউ গলা টিপে ধরে । যাইহোক, দুই দিন আগে সাহস করে
বসে গেলাম । মোটামুটি একটা ভূমিকা লিখে মেইন পয়েন্টে এসেছি মাত্র এমন সময় লোডশেডিং । পিসির ব্যাকআপ না থাকায় যতটুকু লিখেছিলাম তা
কালের গহবরে হারিয়ে গেলো । সাধারণত কোন লেখায় বাঁধাপ্রাপ্তি ঘটলে আমি সেই লেখা এড়িয়ে যাই । কিন্তু এই টপিক টা নিয়ে না লেখলে মনের জ্বালা মিটছে না
তাই আজ আবার শুরু করলাম ।
ডাক্তার এবং ইঞ্জিনিয়ার দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক পদবী । যেকেউ যেকোন পর্যায়ের ডিগ্রী নিয়ে নামের আগে এই দুটি শব্দ বসাতে পারে না কিংবা নিজেকে
ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার বলে পরিচয় দিতে পারে না । কিন্তু আমাদের দেশে এর যত্রতত্র ব্যবহার লক্ষ্য করা যায় । ডাক্তার পদবী তবু কিছুটা হলেও ডিগ্রীধারীরা ব্যবহার
করে কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার তো গলির মোড়ের ওয়ার্কশপের ওয়েল্ডিং মিস্ত্রী কিংবা মোটর মেকানিক সবাই ব্যবহার করে । একজন ইঞ্জিনিয়ার বোধহয় নিজেকে ইঞ্জিনিয়ার
হিসেবে পরিচয় দিতে কিছুটা হলেও লজ্জা পাবেন । আমার ভাগনা আমাকে বলছিলো ইঞ্জিনিয়ার বলতে কেমন যেন লাগে, তাই বড় মামার কথা কেউ জিজ্ঞেস করলে
আমি বলি উনি একজন প্রকৌশলী । বলাবাহুল্য, আমার বড় ভাই একজন ইঞ্জিনিয়ার এবং "ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন বাংলাদেশ" এর ফেলো । যাইহোক,
আমিও চিন্তা করে দেখলাম আসলেই প্রকৌশলী বললে শব্দটা কিছুটা হলেও ভারী হয় । কিন্তু বিষয়টা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে অনেকক্ষেত্রে একজন ইঞ্জিনিয়ার
চাইলেও নিজের নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার পদবী লাগাতে পারেন না ।
## আসুন প্রথমেই দেখে নিই কারা কারা নিজেকে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেনঃ
১/ আইইবি (ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন বাংলাদেশ) স্বীকৃত সরকারী বা বেসরকারি বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী থাকে ।
অথবা
২/ স্বীকৃত বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং এর সমমানের ডিগ্রী থাকে ।
অথবা
৩/ এএমআইই (সেকশন এ এবং বি) পাশ থাকে ।
উপরোক্ত ডিগ্রীধারীরা নিজেকে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন তবে নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার পদবী ব্যবহার করতে পারবেন না ।
## আসুন দেখে নিই কারা কারা নিজের নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার পদবী ব্যবহার করতে পারেনঃ
১/ আইইবি স্বীকৃত সরকারী বা বেসরকারি বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী থাকে এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ
(আইইবি)-র এসোসিয়েট মেম্বার হিসেবে নিবন্ধিত হন ।
অথবা
২/ স্বীকৃত বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং এর সমমানের ডিগ্রী থাকে এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-র এসোসিয়েট মেম্বার
হিসেবে নিবন্ধিত হন ।
অথবা
৩/ এএমআইই (সেকশন এ এবং বি) পাশ থাকে এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-র এসোসিয়েট মেম্বার হিসেবে নিবন্ধিত হন ।
এর বাইরে কোনও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ডিগ্রীধারী কেউ নামের আগে কিংবা নিজেকে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না । তবে কিছু
ডিপ্লোমাধারী নিজেকে "ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার" হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন ।
## আসুন দেখে নিই তারা কারাঃ
১/ স্বীকৃত কোন পলিটেকনিক বা কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রকৌশল বিষয়ে ডিপ্লোমা থাকে ।
এবং
২/ ইনস্টিটিউশন অফ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ-থেকে নিবন্ধিত হন ।
এর বাইরে দুই মাস/ ছয় মাস/ ২ বছরের কোর্সকরে কেউ নিজেকে ইঞ্জিনিয়ার পরিচয় দিতে পারে না । এটা অন্যায় এবং দন্ডনীয় অপরাধ ।
সাথে সাথে এটা ইঞ্জিনিয়ার পদবী'র অপমান এবং মানুষকে ধোকা দেয়া ।
ঠিক তেমনি ভাবে ডাক্তার পদবীও ব্যবহার হচ্ছে দেদারসে । আসুন ডাক্তার পদবী ব্যবহারের কিছু আইন জেনে নিইঃ
বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অ্যাক্ট ২০১০(২০, ডিসেম্বর ২০১০-এ প্রকাশিত গেজেট) এর ধারা ২২(১) ও ২৯(১) এর আওতায় MBBS/BDS বাদে অন্য চিকিৎসকদের নামের আগে ডাঃ(ডাক্তার) পদবী ও নামের পরে ডিগ্রী ব্যবহার অপরাধ ।
** ন্যূনতম এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রিধারী ব্যতীত অন্য কেউ তাদের নামের পূর্বে ডাক্তার পদবী লিখতে পারবেন না। তাও আবার তাকে বিএমডিসি'র রেজিস্ট্রেশনভুক্ত হতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটানো শাস্তি যোগ্য অপরাধ
** বিএমডিসির সংশোধিত আইন অনুযায়ী পল্লী চিকিৎসক ও মেডিকেল অ্যাসিস্টেন্টরা তাদের নামের আগে ডাক্তার শব্দটি ব্যবহার করতে পারবেন না। নূ্যনতম এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রিধারী না হলে কেউ নিজেকে ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না। এই বিধান অমান্য করে কেউ নিজের নামের আগে ডাক্তার শব্দ ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বিএমডিসি।
** বিএমডিসির আইনের ২২ (১) ধারায় বলা হয়েছে, নিবন্ধন ব্যতীত অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা নিষিদ্ধ। অন্য কোনো আইনে যা কিছু থাকুক না কেনো এ আইনের অধীনে নিবন্ধন ব্যতীত কেউ নিজেকে মেডিকেল চিকিৎসক বা ডেন্টাল চিকিৎসক বলে পরিচয় প্রদান করতে পারবে না। কোনো ব্যক্তি এ ধারা লংঘন করলে ৩ বছরের কারাদণ্ড অথবা ১ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
** ২৯ (১) ধারা অনুযায়ী ভুয়া পদবী ব্যবহার নিষিদ্ধ। এ আইনের অধীনে নিবন্ধনকৃত কোনো মেডিকেল চিকিৎসক বা ডেন্টাল চিকিৎসক এমন কোনো নাম, পদবী, বিবরণ ও প্রতীক এমনভাবে ব্যবহার বা প্রকাশ করবেন না যার ফলে তার কোনো অতিরিক্ত পেশাগত যোগ্যতা আছে মর্মে কেউ মনে করতে পারে। এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রিধারী ব্যক্তিরা ব্যতিত অন্য কেউ তাদের নামের পূর্বে ডাক্তার পদবী ব্যবহার করতে পারবেন না। কোনো ব্যক্তি এ উপধারা লংঘন করলে তাকে ওই একই দণ্ড পেতে হবে এবং অপরাধ অব্যাহত থাকলে প্রত্যেকবার তার পুনরাবৃত্তির জন্য ৫০ হাজার টাকা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবেন ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




