ঘুনে খেয়ে গিয়েছে সমাজ ব্যবস্থা, ঘুনে খেয়ে গিয়েছে মানুষ গুলোকে। নিজেদের বিবেক মৃত হবার কারণে এখন দেশপ্রেম তাদের একটু নাড়া দেয় না। আমার দুঃখী মানুষ গুলোর কথা তারা একবারও চিন্তা করে না। মুনাফা চাই মুনাফা, সুদ চাই, ঘুষ চাই, অবৈধ ক্ষমতা চাই, আমার দুঃখী মানুষদের রক্ত চাই তাদের। পত্রিকার পাতা খুললে প্রথম পাতার অর্ধেক জুড়ে দেখতে পাই চাটুকারদের দৌরাত্ব্য। ওনারা আবার দেশপ্রেমিক! মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে তারা লিখে দেশীয় শিল্প বাঁচান, নিউজপ্রিন্ট শিল্প বাঁচান, লোহা শিল্প বাঁচান। কে কাকে বাঁচায়? আর, কাকে মেরে কাকে বাঁচায়? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দেশের সাধারণ মানুষের চেয়ে কতিপয় দুধের মাছি, অতি মুনাফাখোরদের স্বার্থ আপনার কাছে বেশি হতে পারে না।
রমজান সমাগত, বার বার অনুরোধ করার পরও আমদানিকারকদের সিন্ডিকেট কোন ভাবেই তেলের বেধে দেয়া সরকারি দামে বাজারে তেল দিচ্ছে না। ডালের দাম আবারও বাড়ছে, চালের দামও স্থিতিশীল থাকছে না। বাজার নিয়ন্ত্রণে সকল ফর্মুলা ব্যর্থ। দেশী নিউজপ্রিন্ট শিল্প বাঁচানো মানে তাদের সিন্ডিকেটের বেধে দেয়া দামে বাজার থেকে নিউজপ্রিন্ট কিনতে হবে, কম দামে অন্য দেশ থেকে আমদানির সুযোগ থাকলেও তা করা যাবে না। কেউ তা করতে চাইলে তার আমদানীর উপর বড় অংকের ট্যাক্স ধার্য্য করে দিতে হবে যেন, এই সিন্ডিকেটের বেধে দেয়া দামের চেয়ে কম মূল্যে কেউ নিউজপ্রিন্ট বিক্রি করতে না পারে, এ কেমন বিচার? প্রতিটন আয়রন রডের মূল্য এখন ৫২,০০০ টাকার উপরে। অথচ, তুরস্ক থেকে আমদানিকৃত আন্তর্জাতিক মানের আয়রন রডের প্রতিটনের মূল্য পরবে ৩০,০০০ টাকা। কাদের স্বার্থে আমরা দেশের স্ক্রাব জাহাজের তৈরি লোহার রড যা টন প্রতি ২৫-৩০ হাজার টাকার বেশি নয় তা ৫২,০০০ টাকায় কিনবো? এই সিন্ডিকেট থেকে আমাদের মুক্তি উপায় কি?
নিজেদের স্বার্থে যখন আঘাত লাগে তখন কথায় কথায় এরাই রাজনীতিবিদদের গালি দেন। ৭০' এর দশকের রাজনীতিবিদরা তো এমন ছিলেন না। তবে আমার দেশের রাজনীতিকে কলুসিত করেছে কারা? এই অসাধু ব্যবসায়ীরা নয় কি? আমার কৃষক মজুর যখন ১৬-১৮ টাকায় চাল কিনে খায়, তখন ৩৬ টাকার চাল কেউ রেশনের নামে আড়াই টাকায় কিনে খায়, আর নন কমিশনাররা তা খায় ৫ টাকা দরে, এ কেমন বিচার? এদের প্রতিহত করতে চাই সৎ লোক, চাই সচেতন নাগরিক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



