১৯৭১ সনের যুদ্ধাপরাধে পাক বাহিনীর দোসর হিসেবে রাজাকার, আল-বদর, আল-শামসদের পাশাপাশি ছিলো ভারত থেকে আসা বিহারী লোকজন। এদের একজন ওসমান বিহারী। ১৯৬৮ সনে বাংলাদেশে আসে ওসমান বিহারী। প্রতারণার মাধ্যমে বগুড়া নিবাসী নাজনীন খানকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় নাজনীন খানের বয়স ছিলো ১৪ বছর। সেই সময়ে ওসমান বিহারীর প্রথম পক্ষের বড় পুত্র ইকবাল হোসেনের বয়স ছিলো ২৬।
১৯৭১ সনে ওসমান বিহারীর প্রথম পক্ষের ৫ পুত্রের ২ পুত্র ও ভাতিজা সহ ৩০ সদস্য দল গঠন করে। এদের মূল কাজ ছিলো হ্ত্যা, লুন্ঠন, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষন। এদের অপকর্মের শিকার হন কিশোর গুলজার। প্রত্যক্ষ সাক্ষী শহীদ গুলজারের মা জানান, কিভাবে ওসমান বিহারীর নেত্রীত্বে তার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। লুট করা হয়েছে গুলজারের নানার স্বর্নের দোকান, গুলজারের বাবার ঘড়ির দোকান সহ আরও অনেক দোকান। সব হারিয়ে গুলজারের মা আজ নিঃস্ব।
এরকম অসংখ্য অপকর্মের প্রমাণ তুলে ধরে আজ ঢাকার রিপোর্টারস্ ইউনিটিতে ওসমান বিহারীর ২য় পক্ষের ২য় ছেলে তারেক হাসান শেখ পাপ্পু তার বাবার ১৯৭১ এর কৃতকর্মের বিচার চাইলেন। তিনি আরও জানান তার ১৯৯৬ সনে তার বড় ভাই কামরুজ্জামানকে গুম করে দেয় তারই পিতা ওসমান বিহারী।
যুদ্ধাপরাধীরা শুধু ১৯৭১ এ যুদ্ধাপরাধ করেছে তা নয়, তারা এখনও তা করে যাচ্ছে। যুদ্ধাপরাধি ওসমান বিহারী অস্র, মাদক ও কাপড় চোরাচালানের সাথে জড়িত বলে তার ছেলে দাবি করেছে। সেই সাথে তিনি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। ভিকটিম পরিবার গুলোকে ওসমান বিহারী এখনও হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। যে ব্যক্তি নিজের সন্তানকে গুম করে দিতে পারে, তার দ্বারা কিনা সম্ভব।
যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিদে জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ, এমন কি তাদের পরিবারের সদস্য পুত্র, কন্যাও তাদের কৃতকর্মের বিচার চায়। সরকার অবিলম্বে তার প্রথম প্রায়রিটি হিসেবে, ১৯৭৩ এর আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের আলোকে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু করবেন, আমরা এমনটাই প্রত্যাশা করি।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মে, ২০০৯ রাত ১১:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



