আমি
সারাদিন
বসে বসে বসে
তোমাদের টাকা গুনি,
সাদা শুকনা মুড়ি চিবাই,
আর সূর্য ডোবার আগ পর্যন্ত-
নিজেকে কয়েকবার করে খুন করি!
আজন্ম বেঁচে থাকবার উপর্যুপরি পাপে-
আমার মনে তখন কিছু দুঃখ এসে জমা হয়,
তোমাদের হেমন্তের সন্ধ্যায় মাঠের কোনে যেমন
লাজুক অন্ধকার কুয়াশায় মুখ থুবড়ে থাকে জুবুথুবু ঠাই!
আমি তখন আমার মায়াবৃক্ষের কাছে যাই,
আমি কিন্তু কোনো সিদ্ধার্থ নই,
বোধিবৃক্ষের সুড়ঙ্গে মাথা ঢুকিয়ে
নির্বাণ নগরের পাতানো রাজা হওয়ার
কোনো ইচ্ছে আমার কখনই জাগে নি।
তাই আমার আছে এক মায়াবৃক্ষ- তার চিরল সবুজ মায়া!
আমি আমার ক্লান্তিগুলোকে হলজীবনের ছাড়পোকার মত-
একটা একটা করে টিপে মারি,
সিদ্ধিমধু পান করে আবার আলো হয়ে উঠি,
আমার তখন খুব উড়তে ইচ্ছে করে,
আমার একটা রকেট আছে-
নাম বাঁশি বললে বোধহয় তোমরা বুঝবে!
তার ছয় ডানায় ছয় ভোর, শূন্যতার উড়ালযান!
আমি আমার রকেট-বাঁশির সুর পুড়িয়ে
অনন্ত নক্ষত্রবিথীর মাঝে হারিয়ে যাই,
ঈশ্বরের একান্ত বাগানের নেবুলা ফুলের সুবাস নেই,
গ্রহগুলোকে নিয়ে মার্বেলের মত কিছু কুড়মুঠ খেলি,
কয়েকটা তারা ধরে ধরে বাজির মত-
এক দেয়াশলাইয়ের কাঠিতে পুড়িয়ে ফেলি উৎসব উল্লাসে!
ওরা এক একটা সুরভিত কবিতার মত পুড়তে থাকে,
আমি মহাজাগতিক নেশায় মাতাল হয়ে-
উপড়ে ফেলতে চাই মহাবিশ্বের সমস্ত গন্ধমের নিষিদ্ধ শেকড়!
আর ঠিক তখনই-
টনক নড়ে ওঠে কপট-করুণাময় সুমহান ঈশ্বর বাবাজীর!
উনি বারোটার ঘন্টা বাজিয়ে আমাকে আবারো স্বর্গ থেকে বহিস্কার করেন,
নির্বাসন দন্ডের খর অপমান চোখে নিয়ে আমি কাঁদতে কাঁদতে
ফিরে আসি আবার তোমাদের জনারণ্যে- একা!
আমি চাই না আমার জন্য কেউ অপেক্ষার বেলী গাঁথুক,
কিন্তু আমার খুব সাধ হয়-
আমি কারো জন্য যেন-
রাত জেগে অপেক্ষায় থাকবো!
এবং আমি থাকিও তাই,
জানি কেউ ডাকবার নেই, তবুও-
আমি জেগে থাকি এক অজান অপেক্ষায়!
তারপর আবার ভোর হয়ে আসে,
আমি আবার বের হয়ে পড়ি,
তোমাদের যত রাস্তায়,
দুয়ারে, ফুটপাথে,
নীলিমা ছাড়া-
সর্বত্র!
আমি
সারাদিন
বসে বসে বসে
তোমাদের টাকা গুনি,
সাদা শুকনা মুড়ি চিবাই,
আর সূর্য ডোবার আগ পর্যন্ত-
নিজেকে কয়েকবার করে খুন করি...
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ১২:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



