ইদানিং শিপন আর আগেরমত হাসে না,কারও সাথে মনখুলে কথাও বলে না।রাতেও ঠিক মতো ঘুমহয় না।বিছানায় শুধু এপাস ওপাস করে কোনমতে রাতপার করে।সকালে দোকান টা খুলায়।যেটুকু সময় দোকানে থাকে মোটামুটি চিন্তামুক্ত থাকার চেষ্টাকরে।দেনাপাওনা অনেক আছে।তবে সে সব নিয়ে বেশী টেনশন হয়না।টেনশন হয় শুধু কারেন্ট বিল নিয়ে!দোকানের কারেন্ট বিল দেয়াহয় না প্রায় ২ বছর!আগেই লাইনটা কেটে দিয়েছে।এখন সুদসহ প্রায় ১৮ হাজার টাকা বিল বাকী পরেরয়েছে!কোন ভাবেই বিলটা দিতে পারছেনা।শিপন চেষ্টার কোন ত্রুটি করেনি।যে ছেলে কোনদিন কোন কাজেই করেনি সে কিনা লেবারি কাজ পর্যন্ত করেছে।কিন্তু ভাগ্যে না ধাকলে যা হয় আর কি!কিছুদিন পর সেই কাজও আর হয়না,অর্থাত্ সে লেবারি কাজও বন্ধ হয়ে যায়।ইতোমধ্যে বাজারে কারেন্ট বিল বাকী থাকার কারনে কয়েক জনের নামে মামলাও হয়েছে।তবে শিপনের নামে মামলাহয় নি।এটা দেখে শিপন আরও ভেঙ্গে পরে।কখন যে তার বিরুদ্ধেও মামলাহয়।চিন্তা করে মামলাহলে হোক।কিন্তু তা লড়বে কিভাবে?তাছাড়া তার চেয়েও বড় কথাহল মামলাহলে তার নামে নয়!মামলাহবে বড় ভাইয়ের নামে!দোকানের মিটারটা যে বড় ভাইয়ের নামে করা!এ জন্য আরও বেশী টেনশন হয়।নিজের জন্য বড় ভাইয়ের নামে মামলাহবে,এটা কোন ভাবেই সে মেনেনিতে পারেনা।কিন্তু উপায়ও তো আর নাই।এই টেনশন সবসময় শিপনকে কুড়েকুড়ে খায়,কখন যে নোটিশ আসে,আর আল্লার কাছে ফরিয়াত করে,আল্লাহ আমাকে আর কয়েক দিন সময় দাও।শিপন সবসময় টেনশনে থাকে প্রতিমাসের ৩ থেকে ১৫ তারিখ কারন সে শুনেছে মামলাহলে তার নোটিশ আসে প্রতিমাসের ৩ থেকে ১৫ তারিখের জন্য।এছাড়াও প্রতি সপ্তাহের শুক্র ও শনি বার টেনশন মুক্ত থাকে।কারন এই দিন অফিস আদালত বন্ধ থাকে।এভাবে প্রতিনিয়ত,টেনশন করতে করতে শিপন এখন প্রায় পাগল!
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুলাই, ২০১৫ রাত ১২:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




