somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Justine,the misfortunes of virtue(অনুবাদ,ধারাবাহিক)Marquis de Sade এর লেখা

২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


Justine,the misfortunes of virtue(অনুবাদ,ধারাবাহিক)Marquis de Sade এর লেখা
সময়কাল (১৭৪০-১৮১৪)
বিতর্কিত চরিত্র,কন্ডে এলাকার রাজ পরিবারের একজন
সাধারণ চিন্তাধারার বাইরে তার লেখাগুলোয় বিকৃত মনোভাব,দুঃখবাদী
justine the misfortunes of virtue,Juliette,120 days of Sodom,The crimes of love ছাড়াও অন্যান্য


(৪)কুচক্রী নিকোলাস
কত তাড়াতাড়িই না পাঁচটা বছর কেটে গেল জাষ্টিনের,আনন্দেই কাটলো পাঁচটা বছর কাউন্টেসের চাকরীতে, যতই যা হোক পচ্ছন্দের মানুষ কাউন্টের সঙ্গ সেটা তো স্বর্গ সুখ।আঁচারে ব্যাবহারে কাঊন্টেস বিস্রাক ছিল ধর্ম বিশ্বাসী,বিনয়ী এক মহিলা,জাষ্টিনের সাথে কোথাও যেন এক আত্মিক যোগাযোগ ছিল,তার।জাষ্টিনের বছরের নয় মাস কাটতো কাউন্টেসের সাথে প্যারিসে,আর তিন মাস প্রিয় কাউন্টের কাছাকাছি।যদিও কাউন্টের ছ্যাবলামী, জ্ঞানহীনতা আর অপকর্মের উচ্ছাসে জাষ্টিন মনকষ্টে ভুগলেও,ভালবাসার মানুষটার তিন মাসের সঙ্গ,সে তো স্বর্গীয় আনন্দ।
যদিও প্রায় গরমের শেষ তবুও তখন তারা প্যারিসে ফিরে যায় নি,নিকোলাস তখনও জাষ্টিনকে জানায়নি তার চক্রান্তের কথা।শুধু মাঝে মাঝে জাষ্টিনকে তার উপকারের কথা বলে,আদায় করে নিত দু চারটা উপকার নিজের জন্যে।নিকোলাসের আস্থা ছিল জাষ্টিনের আনুগত্যে,বিশ্বাস ছিল জাষ্টিন কোন ভাবেই তার আদেশই উপেক্ষা করতে পারবে না।
বিছানায় শুয়ে ছিল জাষ্টিন,হঠাৎ কাউন্ট নিকোলাস দরজায় শব্দ করে ঘরে ঢুকে আলাপ আরম্ভ করলো, কাউন্টের সঙ্গের প্রতিটা মিনিট ছিল জাষ্টিনের কাছে লোভনীয়,তাই আনন্দ সে হতবাক হয়ে গেল,কোন প্রশ্নই মনে আসেনি তার।বিছানার এক পাশে বসে কাউন্ট বললো,‘শোন তেরেসা,কিছু গুরুত্বপুর্ন আলাপ আলোচনা করতে চাই তোমার সাথে,আশা করি কথাগুলো কাউকে বলবে না’।
‘এ কি বলছো তুমি,আমার শেষ নিঃশ্বাসেও আমি কোনদিন তোমার বিশ্বাস ভঙ্গ করবো না’।
‘তেরেসা,আমি তোমার বন্ধুত্ব,বিশ্বাস হারাতে চাই না কোন ভাবেই,সেটা হবে আমার কাছে চ্রম শাস্তি। জানি না কি ভাবে বলবো, আমার মায়ের বোন তবে কাউন্টেস মারিয়ানার মত নিষ্ঠুর মানুষের এ পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার নাই।তুমি একটু সাহায্য করলেই আমি উদ্ধার পেতে পারি তার নিষ্ঠুর আচরন, অত্যাচার থেকে’।
বালিশ থেকে মাথাটা একটু একপাশে সরিয়ে জাষ্টিন বললো, ‘বল আমাকে কি করতে হবে,অবশ্যই আমি তোমাকে সাহায্য করতে প্রস্তত।তবে দোহাই আমাকে কাউকে খুন করতে বলবে না,তার চেয়ে বরং আমার মৃত্যু হোক’।
‘তেরেসা,তোমার উত্তরে আমি একটুও অবাক হইনি,তবে এ টুকু জানলাম আমার সিদ্ধান্তে কোন ভুল হয়নি। তোমার উত্তরও আমাকে বলে দিল,ঐ অন্ধ ধর্ম বিশ্বাসে তোমার মনে হতে পারে,প্রথমতঃএকজন মানুষ খুন করা পাপ,দ্বিতীয়তঃ এই পাপের শাস্তি হবে অসহনীয়,এই পৃথিবীতে হোক বা না হোক,পার পাবে না আরেক পৃথিবীতে।তবে প্রিয় তেরেসা,এ ধরণের মানুষকে খুন করা বোকামী হয়তো বা,তবে অন্যায় কোন ভাবেই হতে পারে না,এতে পৃথিবী রক্ষা পাচ্ছে এক নিষ্ঠুর মানুষের হাত থেকে।ধ্বংস,সৃষ্টির ক্ষমতা মানুষের হাতে নাই,তবে আছে বদলে দেয়ার ক্ষমতা।আর প্রকৃতির কাছে বদল খুবই সাধারণ এক পদ্ধতি,যা ঘটছে প্রতিনিয়ত,তাতে বদলায় না তার গতিশক্তি…। আহ!প্রকৃতির সৃষ্টির হিসেবে আজ আছে মাংস,রক্ত কাল কীট পতঙ্গ।কেউ কি নিশ্চিত ভাবে বলতে পারে,প্রকৃতির কাছে মানুষ আর পোকার মধ্যে কোন পার্থক্য আছে?তুমি যদি আমার কথার বিপরীতে কোন কিছু প্রমান করতে পার,আমি মেনে নিব তখনই যে খুন করা একটা অপরাধ।ভেবে দেখ,প্রকৃতি বা ঈশ্বরের কাছে এ পৃথিবীর সবকিছুই সমান,এর কোন কিছু এক থেকে অন্য কিছু হয়ে গেলে কোন ভাবেই কিছুর ভারসাম্য নষ্ট হবে না।মাছ,পশু,পাখী,গাছপালা,পোকামাকড়,বেড়ে ওঠে আবার শেষ হয়ে যায়,ফিরে ও আসে আবার অন্য চেহারায়।ভেবে দেখ কোন কিছুই একেবারে শেষ হয়ে যায় না,ফিরে আসে অন্য কোন এক চেহারায়।জন্মের জন্যে দরকার ধবংসের,চিন্তা করলে বুঝতে পারবে আমি শুধু প্রকৃতিকে সাহায্যই করার চেষ্টা করছি।তা ছাড়া তেরেসা,এ শুধু মানুষেরই সাজানো ন্যায়,অন্যায়ের হিসাব।মানুষ, আমরা নিজেকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ বলে দাবী করি,শুধু তাই না নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমান ক্রতে আমরা সাজালাম নানান ধরণের হিসেব।আমাদের চিন্তাধারা,যা ভাবছি আমরা সেটা তো ঈশ্বরের বা প্রকৃতিরই সাজানো,তা হলে সেটা অস্বভাবিক হয় কি ভাবে?আমাদের মনের আকাঙ্খা ঈশ্বর সাজায় তার চিন্তাধারায়, আমরা সেখানে খেলার পুতুল শুধু।আমাদের কামনায় লুকানো আছে প্রকৃতির নতুন আনার ছবি,আর ধ্বংসের ছবি সাজানো লালসা,লোভ,উচ্চাকাঙ্খা,ঘৃনা আর হত্যায়।তবে সব ক্ষমতা কি আছে,আমাদের হাতে,সে হলে সৃষ্টিই হতো না আমাদের।সমতা রক্ষার জন্যে দরকার বদল,শুধু পাপ পুণ্যের হিসেব আর আকাশের কাছে কান্না না’।
‘তোমার কথা শুনে সত্যিই আমি অবাক হচ্ছি,তুমি যাকে যাকে সরাতে চাচ্ছ,সে তো তোমার মায়ের আপন বোন’?
‘একজন দার্শনিকের কাছে স্ররম্পক,আত্মীয়তা একেবারেই অযৌক্তিক কথাবার্তা।সর্ম্পক নিয়ে তোমার সাথে আমি অযথা আর বাদানুবাদ করতে চাই না,বৃহত্তর এক উদ্দেশ্যের জন্যে এ ধরণের ছোটখাট বাঁধা সরাতেই হবে। তেরেসা,এ সব যুক্তি তক্কো একপাশে রেখে আমাকে যদি সাহায্য কর,তাতে আমার সাথে সাথে তোমারও লাভ হবে’।
‘তুমি যা বলছো,শুধুই তোমার স্বার্থের সাজানো হিসেব,যদি সুস্থ ভাবে বিবেচনা করতে,তোমার চিন্তাধারা বদলে যেত খুব সহজেই।আর ভুলে যাবে না তোমার বিবেক যা ব্লছে,সেও প্রকৃতির কথা?আজ যদি হত্যা করো কাউকে,কাল অনুশোচনা তোমাকে কুরে কুরে খাবে।তোমার অন্ধ মন এখন সব যুক্তি তর্কের বাইরে, সত্যিটা কোনভাবেই পৌচাচ্ছে না তার কাছে।এমনি তে আর কটা দিন বাঁচবে তোমার এই প্রিয়জন,পড়ন্ত বয়সে শান্তিতে কাটাক মানুষটা,তুমি অস্বীকার করতে পারবে না কাঊন্টেস মারিয়ানা তোমার একজন আত্মীয় শুধু না,শুভকামী,এমন কি বন্ধুও।ক্রোধের জোয়ারে নিজেকে যদি ভাসিয়ে দাও,সেটা কি ঠিক হবে?যখন থাকবে না তোমার সেই প্রিয়জন,যাকে তুমি সরিয়ে দিতে চাচ্ছ,প্রতিদিন তার ছবিটা ভেসে উঠবে চোখে, অচেনা কোন এক পৃথিবী থেকে সেই স্নেহের ডাক অস্থির করবে,তোমাকে।যে হাত দিয়ে হত্যা করবে তাকে, সেই হাতটায় ভেসে উঠবে লাল রক্তে ভেজা তার ছায়া।আর কোনদিন শান্তি ফিরে আসবে না আর তোমার জীবনে,বদলে যাবে অনেক কিছুই যা তুমি চাও না’।
এক স্ময় হাঁটু গেড়ে পা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে জাষ্টিন আকুতি করছিল নিকোলাসের কাছে,কাউন্টের এই রহস্য কোনদিন কেউ জানতে পারবে না,এই প্রতিশ্রুতিও ছিল তার কথায়।
ঠান্ডা মাথায় দাঁড়িয়ে কাউন্ট নিকোলাস বললো,‘পরিষ্কার বুঝতে পারছি,তোমাকে আমি ঠিক চিনতে পারি নি। আমি ঠিকই অন্য কাউকে খুঁজে বের করবো,শুধু দুঃখ হয় তোমার সারাটা জীবন এই পাপ পুণ্যের হিসেবে কষ্টে,শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে কান্নায় কেটে যাবে জীবনটা কষ্টে,সবলের অত্যাচারে’।
কাউন্ট নিকোলাসের মনোভাব দেখে জাষ্টিন তখন ভনিতা করে তার প্রস্তাবে রাজী হওয়ার ভান করলো। তবে জাষ্টিন নিকোলাসকে আবার সবকিছু বুঝিয়ে বলার জন্যে বললো,যাতে তার হঠাৎ এই মত পরিবর্তনে কাউন্টের কোন সন্দেহ না হয়।কাউন্ট আনন্দে তখন জাষ্টিনকে জড়িয়ে চুমু দিয়ে বললো,‘জান,এই আমার কোন মেয়েকে প্রথম চুমু খাওয়া,তুমি বেশ বুদ্ধিমত্তাই আর যাই ক্র বিচার ক্রতে ভুল ক্রনি।শেষ পর্যন্ত সত্যি সত্যিই আমার কথাগুলো তোমার মনে ঢুকলো,আর কতদিন ঐ অন্ধকারে লুকিয়ে থাকবে’?
এক এক করে ধীরে ধীরে কি ভাবে কি করতে হবে,সাজিয়ে বলছিল নিকোলাস, ‘শোন আর দুই বা তিন দিন পরে এক সময় সুযোগ করে,তুমি সকালে কাউন্টেসের চকলেট দুধে একটা পুরিয়ার ওষুধ মেশাবে,এ টুকুই।ছোট্ট একটা কাজ,আর হ্যা,তোমার সাহায্যের জন্যে কাজ শেষ হলেই পাবে তিন হাজার ফ্রাঙ্ক’।
জাষ্টিন আর কাউণ্ট নিকোলাসের আলাপ আলোচনার দুদিন পরে,প্যারিস থেকে নিকোলাস খবর পেল,তার মায়ের সন্তানহীন এক ভাই আত্মীয় মারা যাওয়ার সময় রেখে গেছে তার জন্যে বিপুল সম্পতি।
জাষ্টিন আনন্দে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলছিল,‘হায়,ঈশ্বর,এই তোমার বিচার,এই হলো অপরাধীর জন্যে শাস্তি?অপরাধের শাস্তি কোথায়,এ তো তাকে পুরস্কার দিলে’।তবে তার ধর্মের বিশ্বাসী মন ঈশ্বরকে অপরাধী করার ভঁয়ে হাঁটু গেড়ে ক্ষমা চাওয়া আরম্ভ করলো সাথে সাথে,জাষ্টিন নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করলো আকাশের বিচারের রহস্য মানুষ বুঝবে কি ভাবে?তবে আনন্দে ভঁরা ছিল তার মন,আর যাই হোক এ পর্বে তাকে হত্যাকারী হতে হবে না আর।তবে জাষ্টিনের জানা ছিল না,সেটা ছিল তার বোঝার ভুল।
সে দিনই রাতে জাষ্টিনের ঘরে এসে কাউন্ট বললো,‘তেরেসা আমি সত্যিই খুবই ভাগ্যবান,তোমাকে বলিনি অপরাধই মানুষকে সাহায্য করে সার্থকতার রাজ্যে পৌঁছাতে,তাকে ক্ষ্মতাশালী করতে’।
জাষ্টিন বললো,‘নতুন পরিস্থিতিতে তোমার মতামত নিশ্চয় বদলে গেছে,এখন তোমাকে আর কাউকে মেরে ফেলার কথা ভাবতে হবে না,তুমি নিশ্চয় অপেক্ষা করবে কাউন্টেসের স্বাভাবিক মৃত্যুর জন্যে’।
‘এ চিন্তা আবার তোমার মাথায় আসলো কোথা থেকে,আর কত অপেক্ষা করতে হবে আমাকে,উনত্রিশ ছেড়ে তিরিশ ছুঁই ছুঁই করছি।আগামী কাল না হয় পরশু এর বেশী দেরী করা যাবে না,কোন না কোন ভাবে কাজটা সারতেই হবে,সে ভাবে প্রস্তত থাকবে’।
জাষ্টিন হতবাক হয়ে গেল,বুঝতে পারছিল না কি করবে?তার মনের আসল কথা যদিও জানে না নিকোলাস,তবে দিন দুয়েকের মধ্যে তার কথামত কাজ না করলে বিপদ আসছে।আবার যদি কাউন্টেসকে সব কিছু খুলে বলে,কাউন্টেস যে কি করবে সেটাও বোঝা অসম্ভব।না বলে কিছু না করলেও বিপদ,এমনও হতে পারে কাউন্টের ক্ষোভে জাষ্টিন আর কাউন্টেস দুজনেই প্রান হারাবে।
কিছু একটা করতেই হবে ভেবে জাষ্টিন কাউন্টেসকে সব কিছু খুলে বলার চেষ্টা করলো,‘মাদাম,আপনাকে কিছু গোপনীয় কথা বলতে চাই,তবে আপনার কাছে অনুরোধ,আমার কথায় যেন কোন শাস্তি না হয় কারও। আমি জানি আপনি বিজ্ঞ মানুষ আর যথাযথ কাজই করবেন’।
কাউন্টেস বুঝতে পারলো নিশ্চয় এটা কাউন্ট নিকোলাসের কোন অপকর্মের কথা,তবুও কথা দিল জাষ্টিনকে। তবে জাষ্টিনের কথাগুলো কাউন্টেস মারিয়ানার চিন্তার বাইরে,সব কিছু শুনে কাউন্টেস নির্বাক হয়ে ছিল।
‘একটা পশু,না পিশাচ,মানুষ নামের কলঙ্ক,আবার আমারই রক্ত,কথাটা ভাবতেই নিজের উপরে ঘৃনা হচ্ছে। আমি তো ওর কোন ক্ষতি করিনি,বরং ওকে আদর করে গেলাম সারাটা জীবন তার সব অপকর্মের কথা জেনেও,ওর কেলেঙ্কারীর কথা জেনেও।নিকোলাস কি জানেনা আমার ভাই যে সব সম্পত্তি ওকে দিয়ে গেছে, সেটাতো আমারই কথায়।তোমার কথা আমি বিশ্বাস ক্রতে পারছি না,তোমাকে প্রমান করতে হবে’।
বাধ্য হয়ে জাষ্টিন কাউন্টেসকে বিষের বোতলটা দেখালো,কুকুরের খাবারে মিশিয়ে পরীক্ষার পর আর কোন সন্দেহের অবকাশ ছিল না।ভয়াবহ ছিল কুকুরের মৃত্যুটা,এতই রেগে গেল কাউন্টেস যে সাথে সাথে তার এক মন্ত্রী বন্ধুকে প্যারিসে খবর পাঠালো যাতে নিকোলাসের যথাযথ শাস্তি হয়,তা ছাড়া যত শীঘ্রি সম্ভব তাকে যেন প্যারিসে নেয়ার বন্দোবস্ত করে।যা ঘটলো সেটা ছিল অভাবনীয়,অচিন্তনীয়,ঘটনা চক্রে কাউন্টেসের চিঠি পাঠানোর কাজের লোক ছিল নিকোলাসের প্রেমিক,আর যা ঘটলো সেটা কারও অনুমান ক্রতে ক্ষট হওয়ার কথা না।
কাউন্ট নিকোলাস এক সময় জাষ্টিনকে ডেকে বললো,‘পরিকল্পনায় কিছুটা রদবদল করতে হবে,যাতে তোমাকে বেশী ঝুকি না নিতে হয়,এখন বলতে পারছি না,একটু বিস্তারিত বুঝিয়ে বলা দরকার।শোন,এক কাজ কর,সন্ধ্যা সাতটার দিকে পার্কের উত্তর কোনায় দেখা করো।হাঁটা ফেরায় গল্প করতে করতে তোমাকে বুঝিয়ে বলবো’।জাষ্টিন বুঝতে পারেনি নিকোলাসের নাটক,জানা ছিল না তার সব গোমর ফাঁস হয়ে গেছে,কাউন্টের সঙ্গ সব সময়ই ছিল তার কাম্য,আর একান্তের এই দেখা সেটা তো বেশ রোমান্টিক।একটা ক্ষীন আশা ছিল জাষ্টিনের মনে,হয়তো কাউন্টের মন ঘোরাতে পারবে।
ঠিক সময় মত পার্কে অপেক্ষা করছিল জাষ্টিন,নিকোলাস তখনও আসেনি,অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিইবা করার ছিল,তার?ঘ্ন্টা খানেক পরে কাউন্টক দেখা গেল,নিকোলাস একা দেখে উত্তেজনায় বেশ উল্লসিত হয়ে গেল জাষ্টিন।ও ভাবে ওত হাসিখুশী চেহারায় কাউন্টকে কখনও দেখেনি সে,পাশাপাশি হেঁটে যাচ্ছে দু জন,এ এক নতুন শিহরণ।কথায় কথায় জাষ্টিন কাউন্টকে তার নতুন পরিক্লপ্নার কথা জিজ্ঞাসা করলো,নিকোলাস বললো,‘এত তাড়াহুড়ার কি আছে?সবই তো তোমাকে বলবো,এ ভাবে আমরা দুজনে হেঁটে যাচ্ছি,এ এক অদ্ভুত অনুভুতি’।
জাষ্টিন তখন স্বপ্নের রাজ্যে,হেঁটে যেতে যেতে কখন যে তারা পৌঁছে গেছে সেই চারটা গাছের পাশে,যেখানে লেখা ছিল কাউন্টের তার উপরে চরম অত্যাচারের ইতিহাস।বছর পাঁচেক আগের সেই ঘটনা,যন্ত্রণা, মনে থাকবে তার আমৃত্যু্,ভঁয়ে অতিষ্ঠ জাষ্টিনের চোখে ভাসছিল,গাছের রশিগুলো যন্ত্রণার সুরে।
নিকোলাসের চেহারা ব্দলে গেছে তখন,সে চীৎকার করে বললো, ‘বেশ্যা,মাঘী,মনে পড়ে ঐ গাছগুলো আর ও পাশের ঝোপের কথা,সে দিন দয়া করে তোকে ছেড়ে দিলাম,আর তার এই প্রতিদান পেলাম তোর কাছে?মনে আছে আমার কথা,কি শাস্তি হবে কথা না রাখলে?বেশ্যা মেয়ে যদি আমার প্রস্তাবে তোর সম্মতি না থাকে এগিয়ে গেলি কেন?আমি তো তোকে জোর করিনি,অত্যাচার করে বাধ্য করিনি তোকে।এই তোর পুণ্যের হিসাব,উপকারীকে বিপদের দিকে ঠেলে দেয়া।দু দিকের দুটো পথ কেন খারাপটাই বেছে নিলি তুই?তুই তো আমার কথায় রাজী নাও হতে পারতিস বেশ্যা মেয়ে।আমাকে ঠকানোর চেষ্টা করলি কেন’?
নখ দিয়ে রাগে জাষ্টিনকে আঁকড়ে কাউন্ট বলে গেল, ‘কি লাভ হলো তোমার?নিজেকে বিপদের দিকে ঠেলে দিলে,আবার বাঁচাতেও পারলে না কাউন্টেস মারিয়ানাকেও,মারা গেছে প্রায় ঘন্টাখানেক হয়ে গেল।এখনচ তোমারও মৃত্যু ঘনিয়ে আসছে,তবে মৃত্যুর আগে বুঝতে পারছো নিশ্চয়,ঐ পুণ্যের পথে যতই ছুটে যাও উদ্ধার হবে না কোনভাবে’?
কথা না বাড়িয়ে জোর করে নিকোলাস জাষ্টিনকে নিয়ে গেল সেই চারটা গাছের পাশে,তার কাজের লোকেরা সেখানে রশি বেঁধে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিল।
‘এই সেই বেঈমান মেয়ে,আমার মায়ের সমতুল্য কাউন্টেসকে বিষ খাইয়ে মারার চেষ্টা করছিল চাচ্ছিল,হয়তো আমার উচিত ছিল ওকে আইনের হাতে তুলে দেয়া।তবে ঐ বিচারে অনেক স্ময় লাগবে,এই অত্যাচারী মেয়েকে আমি নিজের হাতে শাস্তি দিতে,চরম যন্রনায় ধুঁকে ধুঁকে মরবে’।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:১৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=মনের হিংসা দূর করো রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।

স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×