somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

Justine,the misfortunes of virtue(অনুবাদ,ধারাবাহিক)Marquis de Sade এর লেখা

০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


Justine,the misfortunes of virtue(অনুবাদ,ধারাবাহিক)Marquis de Sade এর লেখা
সময়কাল (১৭৪০-১৮১৪)
বিতর্কিত চরিত্র,কন্ডে এলাকার রাজ পরিবারের একজন
সাধারণ চিন্তাধারার বাইরে তার লেখাগুলোয় বিকৃত মনোভাব,দুঃখবাদী
justine the misfortunes of virtue,Juliette,120 days of Sodom,The crimes of love ছাড়াও অন্যান্য


(৫)
খাওয়া দাওয়া তখন প্রায় শেষ,জাষ্টিনের বোঝার বাকী ছিল না,ডাক্তারদের মনোভাব,সে দিন রাত্রেই পরীক্ষা নিরীক্ষা বা উৎসর্গ করা হবে রোসালীকে।জাষ্টিনের কাছে নষ্ট করার সময় ছিল না,সে ছুটে গেল নীচ তলার ঘরের দিকে, কোন ভাবে যদি রোসালী কোন কিছু করতে পারে।
‘শোন রোসালী…নষ্ট করার মত…সময় নেই আমাদের হাতে…ঐ পাষণ্ডরা…আজ রাতেই…কিছুক্ষনের মধ্যেই ওরা আসছে’।
জাষ্টিন চেষ্টা করছিল যদি কোন ভাবে দরজাটা ভাঙ্গা যায়,তবে রোসালীর দুর্ভাগ্য কাজের মেয়ের একজন সবকিছু দেখে তখন ছূটে গেছে রদিনের কাছে,কিছুক্ষনের মধ্যেই ছুটে আসলো রদিন আর রম্বুয়া।
ডাক্তার রদিন জিজ্ঞাসা করলো, ‘কি করছ তুমি,এক বাবার কাছ থেকে তার মেয়েকে ছিনিয়ে নিচ্ছ,এই তোমার ধর্ম বিশ্বাস,পাপ পুন্যের হিসাব’।
‘খুনী,অবশ্যই অপরাধীদের যথাযথ সাজা পাওয়া উচিত,ধর্ম আইনও সেই একই কথা বলে।তা ছাড়া তুমি নিজেকে বাবা বলে গর্ব করছ আবার মেয়ের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছো’।
‘এখন বুঝতে পারলাম,আড়ি পেতে আমাদের কথা শুনছিলে,চোরের মত।এখন তোমাকে আর রোসালী দুজনকেই নিয়ে যাব,আমরা,অসুবিধা কি তোমার জীবন যাবে না হয় মানবতার স্বার্থে’।
ডাক্তার রদিন আর রম্বুয়া,রোসালী আর জাষ্টিনকে ঘরের খুঁটিতে বেঁধে রাখলো।রদিন আর রম্বুয়া রাগে ফোঁস ফোঁস করতে করতে রোসালীর উপরে আরম্ভ করলো নানান ধরণের অত্যাচার।রদিন বলছিল,সে রোসালীকে কেটে দেখতে চায় শিরা উপশিরার রহস্য।থাপ্পড়ের পরে থাপ্পড় মারছিল দুজন,আর আর পাগলের মত বিশ্বাস করছিল প্রতিক্রিয়া।
রম্বুয়া রদিনকে বললো,‘আমাকে পরীক্ষা করার সুযোগ দাও,ঐ মেয়েটাকে’।জাষ্টিন রম্বুয়ার পা জড়িয়ে অনুরোধ করলো,‘প্রান গেলে যাক,তবে দোহাই আমার নারীত্বের হানি করবেন না’।
‘শোন তেরেসা,এ সব ঢং করার কোন মানে হয় না,এটা তো জানাই,তুমি কুমারী না,এই নারীত্ব,পবিত্রতার গল্প করে কি হবে?কোন পাপ হবে না তোমার,শরীর শুধুই শরীর আর তার যথাযথ ব্যাবহার আছে।শরীর খেলা নতুন কিছু না,আর খোলা মনে যদি এগিয়ে যাও,হয়তো আনন্দও পেতে পার।আর পাপবোধ আসবে কেন শরীরের কথায়,ঈশ্বর বল,প্রকৃতি বল,তারই সাজানো সবকিছু,আর ভালবাসার অনুভুতি সেটাও থাকবে অটুট’।
রম্বুয়া জাষ্টিনকে নিয়ে তখন তার কামখেলায় ব্যাস্ত হয়ে গেছে,পরীক্ষা নিরিক্ষা,বিজ্ঞানের জগত তখনঞ্ছুটে গেছে আরেকদিকে।রদিন তাকে বললো,‘শোন আমাদের আসল উদেশ্য ভুলে যেও না,রোসালীর পরীক্ষা নিরিক্ষা আরম্ভ করা যাক।ঐ ছেনালকে নিয়ে পরেও খেলা করতে পারবো,আমরা’।
কথা বলতে বলতে রদিন আগুনে একটা ক্রীতদাস চিহ্নিত করার শিক গরম করছিল।
‘আমি ওকে এম্নই ছেড়ে দিচ্ছি না,এমন ভাবে শাস্তি দিব যাতে ও ভুলে যেতে চাইলেও ভুলতে পারবে না।ওকে চিহ্নিত করে রাখবো,ওর গায়ে মার্কা থাকবে চিরদিনের জন্যে’।
রম্বুয়া জাষ্টিনকে দু হাতে ধরে ছিল আর রদিন গরম শিক দিয়ে তার কাঁধের পেছনে ছ্যাকা দিয়ে মার্কা দিল,দাস দাসীদের গায়ে মালিকের চিহ্ন,পতিতাদের গায়ে তাদের আস্থানার মার্কা।গোল একটা বিশেষ চিহ্ন,সাথে সাথে ভেসে আসছিল পোড়া চামড়ার গন্ধ।
রদিন আপনমনে বললো, ‘এখন কি ভাবে শরীর দেখাবে কাউকে,কোথায় থাকবে তোমার এই গর্বের মুখ’?
জাষ্টিন ঘর থেকে বের হওয়ার পর রদিন কয়েক চামচ হুইস্কি খাওয়ালো তাকে,গায়ের কাপড়ও পরিয়ে দিল,আর রাতের অন্ধকারে তাকে জঙ্গলে ফেলে আসলো দুজনে।সর্তক করে দিল জাষ্টিনকে,কোন বাড়াবাড়ি করলে সেই বিপদে পড়বে,কোন অভিযোগ করলে বিপদ হবে তারই।সে যেন ভুলে না যায় তার শরীরে আছে মালিকের মার্কা,পরিচয়ে সে শুধুই একজন ক্রীতদাস।
যদিও জাষ্টিনের ভঁয় ছিল না অপবাদের,কে কি বলবে সেটা ভেবে কোন সময় সে অস্থির হয়ে যায় নি,তা ছাড়া সত্যিটা প্রমান করা তার পক্ষে খুব একটা কষ্টকর হতো না।তবে প্যারিসের নানান দুর্ঘটনা,বিস্রাকের দুর্গের নিকোলাস পর্বের কথা ভেবে সাহস হচ্ছিল না তার আর,না জানি কি অঘটন ঘটে আবার।


’মোটা’ দেবতার মন্দিরে
চারদিন পরে জাষ্টিন পৌঁছালো লিউসেইন্টে,দক্ষিন দিকের রাস্তাটাই বেছে নিল,সে।কেন জানি তার বিশ্বাস ছিল দক্ষিন দিকেই সে খুঁজে পাবে,শান্তি আর স্বস্তি,যা তার মরিচিকার মত দূরে ছুটে যাচ্ছে।তবুও জাষ্টিন বিশ্বাস হারায়নি কখনও,ভাগ্যের দুঃখ কষ্টের কথা ভেবেও,ঈশ্বরের করুণার আস্থা হারায়নি সে কখনও।জন কয়েক অসৎ অত্যাচারী পুরুষের হাতে কম যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়নি তাকে,তবুও জাষ্টিন হারায়নি তার বিশ্বাসের আকাশ।কোন এক অঘটনে অচেতন শরীর থেকে কেউ কেড়ে নিয়ে গেছে,মেয়েদের সবচেয়ে বড় সম্পদ সতীত্ব,তবে সেটা তখন ইতিহাস,আর কোন না কোনভাবে মন থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করে যাচ্ছিল, সে। কিছু টাকাপয়সা ভাগ্যক্রমে তখনও তার হাতছাড়া হয়নি,আরেকটা কাজ খুঁজে পাওয়া পর্যন্ত কিছুটা সাহায্য হবে তাতে।তা ছাড়া অসুখ বিসুখ তেমন একটা ছিল না,দেখতে শুনতেও মন্দ না,যার প্রশংসায় সবাই ছিল পঞ্চমুখ।হিসাবের পৃথিবীতে তার সৎ স্বভাব,বিশ্বাসের জগতাটাই ছিল দোষের।জাষ্টিনের আত্মবিশ্বাস ছিল,তার উপকারী স্বভাব,নিঃসন্দেহে ঈশ্বরের চোখ এড়াবে না কোন।হিসেবের বৈষয়িক যান্ত্রিকতা মানুষকে ঠেলেদেয় আনন্দের দিকে হোক না যে কোন ভাবে পাওয়া,অত্যাচার অন্যায়ের ঐ পৃথিবীতে জাষ্টিনের কোন বিশ্বাস ছিল না।
আগষ্ট মাসের গরম দিনটা,জাষ্টিন অক্সারে ছেড়ে মাইল দুয়েকের রাস্তা ধরে পৌছালো এক পাহাড়ে,চার পাশের বড় বড় গাছে ঢাকা পাহাড়টা।পাহাড়ের চড়াই এ ক্লান্ত,ঘেমে যাওয়া জাষ্টিন একটা গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিতে এক স্ময় ঘুমিয়ে পড়লো।
বেশ গভীর ঘুমই বলা যায়,ঘুম ভাঙ্গলো এক দুঃস্বপ্নে,যেখানে রদিন,নিকোলাস,রোসালী আর তার বোন জুলিয়েট সবাই এক জায়গায় জড় হয়ে তর্ক বিতর্ক করছে,আধো ঘুম চোখে জাষ্টিন তখন স্বপ্নের ব্যাখায় ব্যাস্ত।নিজের আস্থানাটা ঠিক বুঝতে না পেরে জাষ্টিন আশেপাশের চারপাশটা পরখ করছিল,তার চোখে পড়লো দূরের কোন এক মন্দিরের ঘণ্টাঘর।
‘সুন্দর শান্তি পূর্ন একটা জায়গা,ঈর্ষা হচ্ছে এখানকার লোকজনদের কথা ভেবে।নিশ্চয় কোন সাধু সন্ন্যাসীর আস্থানা হবে হয়তো।সংসারের জঞ্জাল থেকে এক পাশে সরে গিয়ে ঈশ্বরের সাথে যোগাযোগের এর চেয়ে ভাল উপায় আর কি হতে পারে?ঈশ্বরের কৃপার এক আস্তানা,কত পবিত্র একটা জায়গা?আহ… আমার মন বলছে যদি ঐ সাধু সন্যাসীদের কাছাকাছি যেতে পারতাম…আমার মন বিশ্বাসী মানুষের সঙ্গে,পবিত্র আস্থানায় খুঁজে পেত সান্তনা’।
জাষ্টিন যখন চিন্তায় বিভোর হয়ে ছিল,একটা রাখাল মেয়ে তার পাশ সেখান দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল।জাষ্টিন মেয়েটাকে এলাকার নাম জিজ্ঞাসা করলো,জানতে পারলো মন্দিরটা ‘মোটা মহাদেবের’।মন্দিরে আছে চারজন পুজারী যারা দেবতার সমতুল্য,তাদের অলৌকিক ক্ষমতা,পবিত্র ভাব আর ঈশ্বর ভক্তি অতুলনীয়।
‘বছরের বিশেষ একদিনে মানুষ তীর্থ ভ্রমণে ছুটে যায় ওখানে,যতদুর জানি সবার মনকামনা পূর্ন হয় অলৌকিক ভাব,কেউ ফিরে যায় না খালি হাতে’,রাখাল মেয়েটা বললো।
সব শুনে তখন অভিভুত হয়ে গেছে জাষ্টিন,ক্ষীন একটা আশা মনে,বিশেষ,পবিত্র ঐ জায়গায় অলৌকিক সেই মহাশক্তির কাছে কোন ভাবে যদি একটু কৃপা চাইতে পারে!রাখাল মেয়েটাকে জাষ্টিন অনুরোধ করলো,যদি তাকে সাহায্য করতে পারে ঐ মন্দিরের প্রার্থনায়,যদি যাওয়া সম্ভব হয় তবে খুবই উপকার হবে তার।খুব বিনয়ের সাথে মেয়েটা জানালো,কোনভাবেই তার পক্ষে যাওয়া সম্ভব হবে না,তা ছাড়া ঐ মন্দির খুঁজে নিতে খুব একটা কষ্ট হবে না।
‘শোন ওখানে যাকে সবাই ডন সাভেরিনো নামে ডাকে,সেই প্রধান পুরোহিত,দেখবে সে তোমাকে খুব সাদরে গ্রহন করবে।যতদূর জানি,উনি ইতালীর রাজ পরিবারের একজন।শোন তুমি যদি যাও ঐ শান্তির আশ্রয়ে দেখবে ফিরে আসবে সর্ম্পূন এক নতুন মানুষ হিসাবে’।
রাখাল মেয়েটার কথা শুনে জাষ্টিনের উৎসাহ বেড়ে গেল বেশ কগুন,অপেক্ষা না করে সে যাওয়ার প্রস্ততি নিল,যাওয়ার আগে অবশ্য মেয়েটাকে একটা ফ্রাঙ্ক দিয়ে গেল তার সময়ের জন্যে।পাহাড় থেকে নেমে দেখে সামনে শুধু জঙ্গল আর জঙ্গল,মন্দিরের ঘন্টাঘর আর চোখে পড়ছে না কোথাও।
অর্ধেক পথ যাওয়ার পর জাষ্টিন বুঝতে পারলো হিসেবে অনেক ভুল হয়ে গেছে,আসলে মন্দিরটা চোখের হিসেবের চেয়ে অনেক দুরে।তবে তখনও দিনের আলোয় ভঁরা চারপাশ,না থেমে সে এগিয়ে গেল মন্দিরের দিকে,আশা ছিল সন্ধ্যার অন্ধকারের আগেই আগে মন্দিরে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
চারপাশে জঙ্গল আর জঙ্গল,জনবস্তি ছিল না আশেপাশে কোথাও।সুর্য ক্লান্ত হয়ে তখন বাড়ী ফেরার পথে, তাড়াতাড়ি হেঁটে যাচ্ছিল জাষ্টিন।দু পাশের ঝোপের মাঝে ছোট্ট একটা রাস্তা,কিছুদুর যাওয়ার পর তার কানে ভেসে আসছিল মন্দিরের ঘণ্টা।শব্দ শুনে আরও জোরে যাওয়া আরম্ভ করলো সে,ছোট রাস্তাটা শেষ করে পৌছালো বড় এক রাস্তায়।চোখে পড়লো জঙ্গলের কিছুটা ফাঁকা জায়গায় ছড়ানো মন্দিরটা,অনেকটা যেন সাজিয়ে রাখা একটা গর্তে।মন্দিরে যেতে বেশ কিছুটা নীচুতে নামতে হলো তাকে।
মন্দিরের দেয়ালের পাশে মালীর ঘর,লোকজনকে মন্দিরে ঢোকার আগে মালীকে না জানিয়ে ঢোকার উপায় নেই।জাষ্টিন মালীকে জিজ্ঞাসা করলো প্রধান পুরোহিতের সাথে দেখা করা সম্ভব হবে নাকি?মালী জানতে চাইলো,কি দরকার তার পুরোহিতের সাথে?
‘আমি একজন ভক্ত,মন্দিরের দেবতার কাছে নিজের মানসিক যন্ত্রনার কথা জানাতে চাই,কৃপা চাই আমি। জীবনের কান্না,অত্যাচারে অসহনীয় আমার জীবন,আমি আশ্রয় চাই দেবতার’।
মঠের দরজার ঘন্টা বাজিয়ে মালী দাড়িয়েছিল,রাতের খাবারের সময়,পুরোহিতদের খাবার সেরে দরজা খুলতে বেশ কিছুটা সময় লাগলো।মালীর সাথে হেঁটে আসলো একজন পুরোহিত।
‘মিস,ইনি ডন ক্লেমেন্ট,মঠের ব্যাবস্থাপনা করেন,সবকিছু খুলে বলেন,আপনাকে অবশ্যই সাহায্য করবেন’।
মোটাসোটা মাঝবয়সী ডন ক্লেমেন্ট,চোখে মুখে অদ্ভুত একটা পাশবিক ছাপ ছিল,যা জাষ্টিনকে কিছুটা বিচলিত বেশ নাড়া দিল।
বেশ কর্কশ স্বরে জিজ্ঞাসা করলো পুরোহিত ডন ক্লেমেণ্ট,‘কি চাও তুমি?তুমি কি মনে কর এটা কি মন্দিরে আসার একটা যথাযথ সময়?দেখে মনে হচ্ছে তুমি একজন ভবঘুরে,অযথা বিরক্ত করার জন্যে ছুটে আসা’।
‘দোহাই আপনার,আপনি একজন সাধু,আমাকে ফিরিয়ে দিবেন না,আমি তো জানি দেবতার দরজা সবসময় খোলা ভক্তদের জন্যে।অনেক দূর থেকে দেবতার মহিমার কথা শুনে ছুটে এলাম,আমার যন্ত্রণা আর বিশ্বাস নিয়ে।আমার জীবন যন্রনা,অসহায়ত্বের কাহিনী শুনলে আমাকে ফিরিয়ে দিতে পারবেন না,সবকিছু শোনার পর না হয় বিচার করলেন,দেবতার কৃপার পাত্রী কি না আমি’?
পুরোহিত কিছুটা নম্র সুরে বললো, ‘ঠিক আছে তোমার সব কথা বলবে না হয় পরে,তবে রাতের এই সময়টা ঠিক যথাযথ সময় না।রাতে তোমার থাকার জায়গা আছে তো,মঠে কিন্ত থাকার কোন জায়গা নাই।তোমার সকালে আসা উচিত ছিল।একটু দাড়াও,দেখি প্রধান পুরোহিত কি বলে’।
ডন ক্লেমেন্ট ভেতরে যাওয়ার কিছুক্ষন পরেই প্রধান পুরোহিত ডন সেভেরিনো নিজেই বের হয়ে আসলো,আর কথা না বাড়িয়ে জাষ্টিনকে মঠের ভেতরে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানালো।
বেশ সুপুরুষ ডন সেভেরিনো,লম্বা আর স্বাস্থ্যবান হলেও চেহারার মধ্যে প্রচ্ছন্ন একটা নম্রতা ছিল যা সহজেই যে কাউকে আর্কষন করবে।কথাবার্তায় বিনয়ী এক ভাব,আর আভিজাত্যের ছোঁয়া।জাষ্টিন ডন সেভেরিনোর চমকে বেশ স্বাভাবিক হয়ে গেছে তখন,মন্দিরে ঢোকার সময়ের ভঁয়টা ছিল না আর।
‘শোন,তোমার চোখে মুখে ভাসছে যন্ত্রণার ছবি,রাতের এই সময়ে না,সময়মত তোমার সব কথাই শুনবো। অপেক্ষা কর,দেখি তোমার রাত কাঠানোর কি বন্দোবস্ত করা যায়?সকালে যে ‘মোটা’ দেবতা তোমাকে এখানে টেনে আনলো,তার সামনে না হয় হাঁটু গেড়ে আবেদন করো’।
দুজনেই মন্দিরে ঢুকলো,মন্দিরের দরজা তখন পেছনে বন্দ হয়ে গেছে।দেবতার বেদীর চারপাশে বাতি জ্বালানো,ছয় কোনা বেদীর সামনে হাঁটু গেড়ে বসলো জাষ্টিন,পাশে পুরোহিত,‘বল তোমার মনের কথা খুলে বল,তোমার আর্তি বৃথা হবে না’।
ডন সেভেরিনোর দেবতুল্য চেহারার আশ্বাসে জাষ্টিন তার জীবনের কথা এক এক করে বলছিল সত্যি,কল্পনায় মেশানো,কোন কিছুই বাদ পড়েনি।তার দুর্ভাগ্যের কাহিনী বিস্তারিত ভাবে,আর তার মানসিক যন্ত্রনা।পুরোহিত ডন সেভেরিনো পাশে বসে সবকিছুই শুনছিল মনোযোগ দিয়ে আর তার মুখের প্রশান্তির ছায়া দেখে জাষ্টিন কিছু অংশ পুনরাবৃত্তি করছিল মাঝে মাঝে।অবাক হয়ে ভাবছিল জাষ্টিন তার জীবনের মানুষের নোংরা্মি,যৌন অপরাধ কেন জানি সবকিছুই খুলে বলতে তার দ্বিধা হয়নি।
এক সময় ডন সেভেরিনো জাষ্টিনের হাতটা হাতে নিয়ে বললো,‘ভাবতেই ক্ষট হচ্ছে,এই বয়সেই এত অত্যাচার,অন্যায়ের ঝড় সহ্য ক্রতে হলো তোমাকে?চিন্তা করো না,আগামী কাল তুমি ‘মোটা’দেবতার আর্শীবাদ পাবে নিঃসন্দেহে তার পা ধরে।তবে রাতের জন্যে তোমার কিছু একটা ব্যাবস্থা করা দরকার’,এ কথা বলে পুরোহিত জাষ্টিনকে মঠের ভেতরে নিয়ে গেল।
অবাক হয়ে জাষ্টিন জিজ্ঞাসা করলো, ‘কি,এই মঠে হবে,আমার রাত কাটানোর জায়গা’?
‘কেন,অবাক হওয়ার কি আছে?রাতটা কাটাবে চারজন পুরোহিতের সাথে,তোমার রাতটাও কষ্টের হবে না,তা ছাড়া আনন্দেরও হবে পুরোহিতদের’।
জাষ্টিন তখন ভঁয়ে অস্থির হয়ে গেছে,সারা শরীর ঘেমে গেছে তার অজানা ভঁয়ে।হেঁটে যাওয়ার পথটা তখন অন্ধকার হয়ে গেছে,আর সামনে তার জন্যে কি অপেক্ষা করছে ভেবে জাষ্টিনের পক্ষে এগোনো আর সম্ভব ছিল না,সে বসে পড়লো সেই অজানা,অন্ধকার জায়গায়।পুরোহিত ডন সেভেরিনো তখন চীৎকার করে বললো, ‘তুমি জান,তুমি একজন বেশ্যা ছাড়া আর কিছু না,এত ঢং করার কোন দরকার আছে কি’?
অন্ধকারে হেঁটে যাচ্ছিল জাষ্টিন মাঝে মাঝে এপাশ ওপাশ হয়ে,যদিও পরিষ্কার কিছু বোঝা যাচ্ছিল না,তবে পুরোহিতের সাথে পিছু পিছু হেঁটে যাওয়া আর কোন উপায় ছিল না তার।তারা পৌছালো এক সিঁড়ির সামনে,কটা সিঁড়ি ভেঙ্গে উপরে ওঠার আলোর জোয়ারে ধাধিয়ে গেল জাষ্টিনের চোখ।বিরাট এক হল ঘর আলোয় আলোয় ছড়ানো,টেবিলে বসে চারজন পুরুষ আর একজন মহিলা,আর জন চারেক মহিলা দ্রকার মত খাবারের জিনিষপত্র এনে দিচ্ছিল।
ভয়ে অস্থির হয়ে জাষ্টিন,ডন সেভেরিনো তাকে ধাক্কা দিয়ে সামনে ঠেলে বললো, ‘সবাইকে বলছি,এই মেয়েটা এক অবিশ্বাস্য চরিত্রের মেয়ে।এই মেয়ে নিজেকে পবিত্র,কুমারী ভাবে আবার ওর কাঁধে আছে বেশ্যাদের মার্কা চিহ্ন।কথাবার্তায় খোলামেলা,সততার এক অভাবনীয় উদহারণ।আহ!ক্লেমেন্ট আমার ভাবতে ভালই লাগছে তোমার বুড়ো শরীরে কত আনন্দই না আনবে ঐ যৌবনের জোয়ার’।
অর্ধেক মাতাল ক্লেমেন্ট বললো, ‘আহ!কি সুন্দরী এক ছেনাল।অদ্ভুত এক স্বররগীয় যোগাযোগ,ভাগ্য যেন ওকে আমার জন্যেই পাঠিয়ে দিল এখানে,পরীক্ষা করে দেখতে চাই’।
জাষ্টিন ভয়ে পিছিয়ে গেলে ডন সেভেরিনো বললো,‘ও সব আদ্যিখেতা করে কোন লাভ হবে না,বরং ঐ পাশের মেয়েরা যা করছে সেটাই তোমার জন্যেই যুক্তিযুক্ত।তোমার কাছেই শুনলাম অনেক ওঠানামা গেছে এই বয়সে,তবুও তুমি নিজেকে এখনও কুমারী ভাব,অবাক না হয়ে পারিনি?তোমার এই বয়সে কি কোন মেয়ে কুমারী হতে পারে,কে আছে জীবনের সব আনন্দের স্বাদ ছুঁড়ে ফেলে বসে আছে কুমারীত্বের পবিত্রতা আগলে? আর সেটা যদি সত্যি তা হলে যৌবনের এই অবিস্বাস্য স্বাদ উপভোগ করার সময় আর সুযোগ এখন তোমার সামনে।ঐ যে মেয়েদের দেখছো ওরাও যে প্রথম দিকে যুদ্ধ করেনি তা না,তবে লাভ হয়নি,এখন সবকিছু মেনে নিয়ে আনন্দ উপভোগ করছে।নিজেকে বঞ্চিত করে কি লাভ,আন্নদে যোগ দাও তাতে সবাই লাভবান হবে’।
দেয়ালে রাখা চাবুক,রশি,পেরেক সাজানো টুপি,লাঠি দেখিয়ে বললো ডন সেভেরিনো,‘ঐ যে চাবুক,রশি দেখছো,যারা বেশী বাড়াবাড়ি ওগুলো তাদের জন্যে।তা ছাড়া তুমি কি আশা কর,মানবতা,আকাশের প্রতিনিধি হয়ে সব কিছু বির্সজন দিয়ে শুধু উপকার করার জন্যে আমরা বসে আছি?তুমি যাকে পাশবিকতা বলছো,তা আমাদের জন্যে এক ধরণের আনন্দ।ধর্মের কথা বলছো?ধর্ম আর কিছুই না,শুধু দুর্বলের অসহায় কান্না।এখানে আর কিছু খুঁজে পাবে না,আছে শুধু তোমার হিসেবের কজন নিষ্ঠুর,লম্পট আর অত্যাচারী চরিত্র।তোমার স্থবির ম্ন হয়তো তোমাকে বলছে,আকাশ পারের পৃথিবীর কথা।কোথায় সেটা?কে বসে আছে সেখানে সাহায্য করবে তোমার মত অন্ধ দুর্বলদের?বাঁধা দিও না,যোগ দাও আনন্দে,আনন্দ খুঁজে পাবে তুমিও। এখন তোমার জানাই,কত দুর্গম এই মন্দির,কেইবা উদ্ধার করবে তোমাকে এখান থেকে?যদি লোকজন এসে মন্দির লুঠপাঠ করে পুড়িয়েও ফেলে,তবুও কেউ খুঁজে পাবে না আনাদের এই আস্থানা।চারপাশের অজানা অনেক কিছু দিয়ে অজানা হয়ে আছে আমাদের এই জায়গাটা।শোন আমার সুন্দরী,কুমারী বন্ধু,এই চারজন পুরুষের আর যাই হোক শুধু শুধু তোমাকে ছেড়ে দেয়ার কোন ইচ্ছে নেই।তোমার অযথার অনুরোধ,কান্না আমাদের কামুক চাহিদাকে আরও দশগুন বাড়াবে।কোথায় বা যাবে তুমি?কে তোমাকে সাহায্য করবে? তেরেসা,এমন কোন শক্তি আছে যে তোমাকে উদ্ধার করতে পারে,কে রক্ষা করবে তোমার এত সাজিয়ে রাখা কুমারীত্ব…পারবে কোন অলৌকিক শক্তি?আমরা তৃপ্ত হবো তোমার সাথে শরীর খেলায়,যুদ্ধ না করে তুমিও যোগ দাও আনন্দে।না হলে প্রস্তত হও,দেখবে আমাদের নিষ্ঠুর চেহারা’।
ডন সেভেরিনোর কথায় ঠিক কি করবে বুঝে উঠতে না পারলেও,তার পাপ পুণ্যের হিসেব তাকে ঠেলে দিল ডন সেভেরিনোর মত কোন ভাবে বদলানোর চেষ্টা করার জন্যে।পা জড়িয়ে কাঁদছিল চারজনের নেতার কাছে,বিপথগামী একজন মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করছিল জাষ্টিন,অযথার এই পাপ,অত্যাচারে ঈশ্বরের কাছে বিচার হবে তার।জাষ্টিনের কান্নায়,যুক্তিতে তখন ডন সেভেরিনো যৌন আর্কষনে বিভোর,আরও অবাক হয়ে কাছে টেনে আনার চেষ্টা ক্রছিল,সে।
‘ক্লেমেন্ট,বসে আছ শুধু,ওকে জড়িয়ে ধর,ও বুঝতে পারছে না এখনও এখানে সহানুভূতির কোন জায়গা নেই’।
মোটাসোটা ক্লেমেণ্ট চেষ্টা করেও প্রথমে আঁকড়ে ধরতে পারেনি জাষ্টিনকে,ছোটাছুটি করার পর হাঁসফাঁস করতে ক্রতে কোনভাবে লম্বা হাতে কোন ভাবে তাকে জড়িয়ে আনলো।
‘আহ!কি সুন্দর চেহারা,কি নমনীয় শরীর,ঈশ্বরের নিজর হাতে তৈরি,তুমি।আমি হলফ করে বলতে পারি, তোমার চেয়ে সুন্দরী আমি কখনও দেখিনি।অভিনন্দন জানানোর নিয়ম কানুন সবার মনে আছে তো,কোন কিছু বাদ না পড়ে যেন।আর হ্যা,অন্যান্য মেয়েরাও প্রস্তত থাকবে খেলায় যোগ দেওয়ার জন্যে’।


সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৩৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্প চাচা ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫


সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ভোট দিয়ে এসে অনেকক্ষণ ধরেই অপক্ষো করছিলাম কখন সন্ধ্যা হবে সে প্রত্যাশায়। সন্ধ্যার পর মোটামুটি বসে গিয়েছিলাম ফলাফলের উপর টেলিভিশনে বিশেষ আলোচনা দেখার জন্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্ধ দুয়ার"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪


"বন্ধ দুয়ার"

ক্লান্ত এ সপ্তাহে শুনি, আজ কারো কাজ নাই,
বন্ধ কারখানায় তালা, কোথা যাব তবে ভাই?
ছুটা বুয়া হয়ে খাটা, সে সুযোগও মেলা ভার,
তরুণী দেখিয়া মোরে, কেহ খোলে না যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

"আমেরিকাকে আবার মহান করব" বলে এসে যিনি দুনিয়ার সবাইকে বিরক্ত করলেন, ভোটাররা তাঁকে জানিয়ে দিলেন: হুমকি ধমকি আর উম্মাতাল আঁতলামির... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×