ফেসবুক কিছুটা হলেও আমাদের
সাহিত্যমুখী করেছে।আজকাল
অনেকেই খুব ভাল লিখছে।এই
লেখাগুলো সাহিত্যের
মানদন্ডের
বিচারে উতরাবে কি উতরাবে না
এটা বিবেচ্য না।পাঠক
পড়ে মজা পাচ্ছে এটাই বিবেচ্য।
ভালো লেখার লেখক ও পাঠক
বাড়ছে।অনেক দিন ধরেই
সুন্দরী ললনার
"ফ্রেন্ড্জ আজ আমার মন খারাপ।
আম্মু
বকেছে"
-১০০ লাইক ১৫০ কমেন্ট
এই টাইপের স্ট্যাটাস
চোখে পড়েনা।
সুন্দরীরা বুঝে গেছে ফটোশপে এডিট
করা নিজের
ব্যাং মার্কা প্রোফাইল পিকচার
দিয়ে জনপ্রিয় হওয়া দায়।জনপ্রিয়
হতে হলে মাথা লাগে।
ফেসবুকে যে সাহিত্য
হচ্ছে এটা মানতে নারাজ
সাহিত্যের আমার এক বন্ধুর।তার
কথা হচ্ছে-মাত্র কয়েক কুড়ি শব্দ
দিয়ে লেখা এসব ছাই পাশের
আবার
সাহিত্য মূল্য কি।সাইজ যে গল্পের
মূল্য
নির্ধারণে কিছুইনা এটা বুঝাতে
তাঁকে বললাম পৃথিবীর
সবচেয়ে ছোট
গল্পটার কথা।গল্পটা লিখেছেন-
গুয়েতেমালার লেখক
অগাস্তো মন্টেরোসো।গল্পের
নাম
'ডাইনোসর'
গল্পটা হচ্ছে-
'লোকটা যখন ঘুম
থেকে জাগলো,ডাইনোসরটা তখনো
সেখানে দাঁড়িয়ে।'
এই এক লাইনেই গল্প শেষ।
২০১০ এ
সাহিত্যে নোবেলজয়ী মারিও
ভারগাস লোসা বলেছেন-
'একটা সার্থক গল্পের সবরকম
উপাদান
এখানে আছে।চরিত্র
আছে,নাটকীয়তা আছে,আইডীয়া
আছে।বলা হচ্ছে একটা লোক ঘুম
থেকে উঠবার পর
দেখছে একটা ডাইনোসর
দাঁড়িয়ে আছে সামনে।
এখানে 'তখনো' শব্দটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
ঐ
শব্দটাই
পুরো নাটকীয়তা তৈরি করেছে।
অর্থাৎ লোকটা ঘুমানোর আগেই
ডাইনোসরটা ওখানে ছিল এবং ঘুম
থেকে উঠার পরেও
দেখা যাচ্ছে আছে।
প্রশ্ন
হলো এখানে কি প্রাগৈতিহাসিক
কালের কথা বলা হচ্ছে?কিন্তু তখন
তো ডাইনোসর আর মানুষ
একসাথে বাস করতোনা।গল্পের
খাতিরেই যদি ধরে নেই
তারা একসঙ্গে বাস
করতো কথা হচ্ছে কেনই
বা ডাইনোসর
একজন ঘুমন্ত মানুষের
পাশে দাঁড়িয়ে আছে?
নাকি এটা ঘটেছে বর্তমান সময়েই।
লোকটা হয়তো স্বপ্ন দেখছিল
যে একটা ডাইনোসর তাঁর
পাশে দাঁড়িয়ে আছে এবং ঘুম
থেকে জেগে দেখলো ডাইনোসরটা
সত্যি সত্যি তখনো দাঁড়িয়ে তার
বিছানার পাশে।
এখানে ফ্যান্টাসি আর
রিয়েলিটি একাকার
হয়ে গেছে।'
কেউ যদি দু-চার লাইন দিয়েই সুন্দর
গল্প বানাতে পারে মন্দ কি?
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মে, ২০১৪ সকাল ৯:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



