somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অপহরণ,হত্যা, গুম, রাজনীতি এবং কালকেউটের গল্প (ছোটগল্প)

০১ লা মে, ২০১৪ সকাল ১০:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা সড়ক। এর উপর দিয়েই প্রতিদিন শত শত গাড়ি ঢাকার বাইরে সংযোগ রক্ষা করে চলেছে। তবে সেই রাস্তাটি আজ বন্ধ করে রাখা হয়েছে, গাড়ি চলাচল করা যাচ্ছে না। তৈরী হয়েছে তীব্র যানজট। বিক্ষুব্ধ মানুষ আগুন জ্বালিয়ে রাস্তার উপর বিক্ষোভ করেই চলেছে। পুলিশ তাদের কোন বাঁধা দিচ্ছে না, কিসের ভয়ে কে জানে। সামান্য শিশু থেকে শুরু করে অশিতীপর বৃদ্ধ সকলেই একই স্লোগান দিয়ে বেড়াচ্ছে। তারা তাদের রাজনৈতিক নেতার হত্যার বিচার চায়। টেলিভিশনের সাংবাদিকদের কাছেও বুক ফুলিয়ে তারা ঘোষণা করছে এই কথা।

এদিকে তীব্র যানজটে বিরক্ত ঢাকাগামী মানুষেরা। কেউ ট্রাকে করে মাল নিয়ে যাচ্ছে, কাওরান বাজারে কাচা সবজি নিয়ে যাচ্ছে, কেউ আগামীকালের অফিস ধরতে যাচ্ছে, কেউ বা ব্যবসার কাজে যাচ্ছে। গরম এবং যানজটে কেউ বা অসুস্থও হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সামনে এগোবার উপায় নেই। কারণ একটু আগে পেট্রল পাম্পে একটা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে স্থানীয়রা। এটা নাকি তাদের শোক প্রকাশের নমুনা। যাই হোক, আপাতত কেউ সামনে যাবার সাহস করছে না।


অপহরণ, হত্যা এবং গুম
মাত্র তিনদিন আগে একজন সাংসদ সহ চরজন লোক ঢাকা-আরিচা কোন এক স্থান থেকে অপহৃত হয়। কে বা কারা এ কাজে জড়িত তা জানা যায়নি। ভিআইপি পার্সন বিবেচনায় পুলিশ বরাবরের মত ছিল অনেক ততপর। কিন্তু তারা কিছুই বের করতে পারল না।

এর মাত্র তিনদিন পরই হঠাৎ করে একটা বিলের পাশে ঝোপঝাড়ে পূর্ণ নির্জন স্থানে দেখা মেলে চারটি লাশের। লাশের অনেকটা অংশ পচে গলে বিকৃত হয়ে গেছে। বিভৎস সব ক্ষত চিহ্ন দেখে বোঝা যায় তাদের ছুড়ি দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর ভিতর একজনের চোখ গেলে দেয়া হয়েছে।

খবর পাওয়া মাত্র স্থানীয় শত শত ব্যক্তি রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে ফেটে পরে। সেই বিক্ষোভের কথাই উপরে বলা হয়েছে।

সংবাদ মাধ্যমের সাহায্যে হত্যা এবং গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় নিম্নরূপে পাওয়া যায় (বিশেষ কারণে নাম উহ্য রাখা হল),

> একজন সাংসদ, এবং জনপ্রতিনীধী। স্থানীয় লোকের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তার জন্য পর পর দু'বার সাংসদ নির্বাচিত হন।

> সাংসদের সেক্রেটারী, একজন হাসীখুশি মানুষ। বয়সে সাংসদের প্রায় সমান বলতে গেলে। মুখে দাড়ি, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন।

> সাংসদের ড্রাইভার। এলাকার ছেলে, এবং সাংসদের দলের প্রতি একনিষ্ট। অর্থাৎ, একজন রাজনৈতিক কর্মীও বটে।

> স্থানীয় যুবক, ড্রাইভারের বন্ধু এবং রাজনৈতিক কর্মী। এলাকার অনেক তরুনের কাছে তিনি একটা আদর্শ। খেলাধুলা থেকে শুরু করে সবখানেই তার সরব উপস্থিতি।



রাজনীতি
রাজধানীতে তখন চলছে ভয়াবহ তোলপাড়! দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সবাই হঠাৎ নড়েচড়ে বসছে। নেতা এবং মন্ত্রীদের সবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো বেশি জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ আর র‌্যাবের সদস্যদের ঘুম নেই, সারাক্ষণই উপরের ধমক খেয়েই যাচ্ছে। অনেক অফিসার সাস্পেন্ড হয়ে গেছে।

সদাহাস্যজ্জ্বল স্বরাস্ট্রমন্ত্রী এখন বড়ই গম্ভীর! মাত্র সপ্তাহ খানেক আগেও সাংবাদিকদের হেসে হেসে বলতেন, - আইন-শৃংখলা ভালোই আছে, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় যথেষ্ট ভালো....গুম, খুন, অপহরণ এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা, আগে ছিল এখনো আছে....অপরাধ তো আর একবারে নির্মূল করা যায় না....আর আপনাদের সাংবাদিকদের আরো দায়িত্বশীল হতে হবে.....

কিন্তু এখন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে আর এসব বলতে পারবেন না। কারণ এবার গুম হওয়া ব্যক্তি তারই দলের লোক এবং তার খুব কাছের লোকও। তাই চুপচাপ সবকিছু এড়িয়ে যেতে হয় তাকে। মন্ত্রী পরিষদের অন্যরাও নিশ্চুপ। তারা বুঝে গেছে এটা স্বাভাবিক কোন ঘটনা নয়, এর ভিতর আরো কিছু আছে। কারণ পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের বাইরেও গুম হওয়া সেই চার ব্যক্তির আরো কিছু পরিচয় রয়েছে।

> একজন সাংসদ যিনি এলাকায় ব্রিজ বানানোর কথা বলে বছরে লাখ লাখ টাকা মেরে দিয়েছেন, স্থানীয় সন্ত্রাসীদের গডফাদার, যার নামে ঢাকায় চারটি আলিসান বাড়ি এবং একটি আবাসিক হোটেল, যার নামে ভোটের সময় ভোটারদের দিকে পিস্তল তোলার অভিযোগ আছে....

> সাংসদের সেক্রেটারী, পিস্তলটা আসলে তিনিই তুলেছিলেন।

> সাংসদের ড্রাইভার, দুটো খুনের আসামী। তবে তার করা পাঁচ-পাঁচটি ধর্ষণের আজো কোন মামলা হল না।

> স্থানীয় যুবকজ এবং এলাকার তরুনদের আদর্শ। হতেই হবে, এত সস্তায় কে তাদের হাতে আর মাদক দ্রব্য তুলে দিবে?




কালকেউটে
নিউজ প্রোগ্রাম দেখতে দেখতে কালকেউটের সদস্যরা তৃপ্তির ডেকুর তুলল। চ্যানেলগুলোও আরো এক কাঠি সরেস হয়েছে, একেবারে আগা-গোড়া কোন কিছুই শালারা বাদ দেয় নাই। ফলে ঘটনাস্থলে গিয়ে আর দেখা লাগছে না কিছু। নয়তো পরে গিয়ে কারো দেখে আসতে হত কোথাও কোন ভুল-চুক হল কিনা।

বাইরে তখন নির্জন রাত। এওমন রাতে অতিসাধারণ একটা নির্জন স্থানে ভাঙ্গাচোরা একটি বাড়িতে বসে বসে খবর দেখছে তারা। সকলেই যুবক বয়সী। নিউজ শেষ হলে আরসাদ নামের ছেলেটা কথা বলে উঠে। এই নরম-সরম চেহারার ছেলেটাকে দেখে কে ভাববে যে সে এ পর্যন্ত ঠান্ডা মাথায় দু'দুটি খুন করেছে?

আরসাদ বলে, - তো কালকেউটের সদস্যরা, আমরা আরেকটি সফল অভিযান সম্পন্ন করলাম। রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের উপর দোষ চাপিয়ে চলেছে, আর জনগণ তো এমনিতেই বিভ্রান্ত! সুতরাং, আমাদের কথা কেউ কল্পণাও করতে পারবে না এই মুহুর্তে। এখন পর্যন্ত কোন অনাকাংক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু ভবিষ্যতে আমাদের যে কোন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। কারণ সামনে আরো বড়সড় কাজ আসছে আমাদের হাতে। আর এর মধ্যে যদি আমাদের সামান্যতম পরিচয়ও ফাস হয়ে যায় তবে আমাদের রক্ষা নেই। কারণ আমাদের লক্ষ্য হল দেশের দুর্নীতিবাজ এবং ক্ষমতাপিয়াসী লোকগুলো যাদের জন্য দেশের কোন উন্নতি হচ্ছে না। এদের সরিয়ে দিতে পারলেই নতুনেরা এসে তাদের জায়গায় বসবে এবং একটা পরিবর্তন আসবে। আমাদের হিটলিস্টে আছে দেশের অসংখ্য রাজনীতিক ব্যক্তিত্ব। খুব স্বাভাবিকভাবেই যদি আমাদের পরিচয় তারা জানে, তবে কোন রকম ছাড় দিবে না। সুতরাং, সাবধান!!!.....






--------------------------------------------------------------------
এটা নিছক একটা গল্প মাত্র। অথবা আরো ভালোভাবে বলতে গেলে একটা উপন্যাসের খসড়া। তবে কোনদিন এ উপন্যাস লেখা শেষ হবে কি না জানি না। তাই আপাতত সেখান থেকে এই সামান্য অংশটুকু তুলে দিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মে, ২০১৪ সকাল ১০:৫৩
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×