রাত ১১ টা।।।
কাকরাইল থেকে রিক্সায় করে ফিরছি। রিক্সা যখন রমনার সামন দিয়ে আসছে, রমনার ঠিক বিপরিত পাশে সোহওয়ারদির ফুটপাতে কিছু তাবু খাটানো হয়েছে। এই ১০ হাত পরপর। কিছু মেয়ে চকচকা জামা পরে তাবুর কাছে বসে আছে। মুখে সেই রকমের মেকাপ করা।
আমি প্রত্তেকটা মেয়েকে আলাদা আলাদা করে মনোযোগ দিয়ে দেখলাম। বয়স্ক রিক্সাওয়ালা। আসতে আসতে চলছে রিক্সা। তাই খুটিয়ে খুটিয়ে দেখতে সমস্যা হচ্ছে না।
একটা তাবুর সামনে দেখলাম একজন দাঁড়িয়ে আছে। একটা মহিলা, হাত না, মাথা দিয়ে ইসারা করে ডাকছে......।।
আমার কেমন জানি একটা মায়া মায়া লাগতে লাগল। এটাকে ঠিক মায়া বলবো না প্রেম বলবো বুঝতে পারছি নাহ।। আসলে মায়া বা প্রেম কিছুই না হয়তো। এটাকে সহজ ভাবে বলা যায়, মন খারাপ! তবে মন খারাপের উদ্ভবটা সম্ভবত, প্রেম থেকেই।। মায়া থেকেই।।
পুরো ঘটনাটা নিয়ে বাসায় এসে চিন্তা করলাম। আচ্ছা আমি যদি এমন একটা অবস্থায় থাকতাম যে, আমি একজনের ভাগ্য পালটিয়ে দিতে পারি, তাহলে আমি কি করতাম?? একটু গভীর চিন্তা করে দেখলাম, আসলে আমি কি করতাম বা কি করতাম না, সেটা আসল কথা নাহ! আসল কথা হচ্ছে, ও কি করতো!
ওর দিকে যদি ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিতাম, ও কি বুঝতে পারতো আমার ভালোবাসা?? বিশ্বাস করতো আমাকে?? আমি ১০০% সিয়র, ও আমাকে বলতো,- আসেন, ২০ টাকা দেন, কাম সারেন, চলে জান।।
আমাদের সমাজ আমাদেরকে ছোট থেকে ঠিক যে ভাবে বড় হবার সু্যোগ দেয়, ইচ্ছা করলেও আমরা তার বাইরে কিছু করতে পারি নাহ। আমাদের ইচ্ছাশক্তি, চাওয়া পাওয়ার মাঝে একটা অদৃশ্য শিকল পরিয়ে দেয়া হয় আমাদের পায়ে।
রাস্তার বেশ্যাও হয়তো কার মা, কারো বোন, কারোও বউ.......সে তাদের ভালোবাসা পায় এবং ভালোবাসা দেয়। সেই ভালোবাসা স্বাভাবিক যে কোন মহিলার ভালোবাসার চেয়ে কম না। এক অংশেও কম নাহ......।।
কিন্তু তারপরও, ২০ টাকার বেশ্যা আর যাই বুঝুক, আমার ভালোবাসা বুঝবে নাহ!
সমাজ তাকে সেই অধিকার দেয় নাই। দিবে না....!! কেন দিবে না? সবাই বিশুদ্ধ পথে আসার জন্য বিশুদ্ধ ভালোবাসা পাওয়ার কপাল নিয়ে জন্মায় না।
আর এটাই, নিয়তি।।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা অক্টোবর, ২০১৬ রাত ১:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




