somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অতঃপর বিয়ে....

১৮ ই জুন, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ জিমামের বিয়ে হচ্ছে। পারিবারিক পছন্দে বিয়ে হচ্ছে। জিমামের এখন বিয়েতে আগ্রহ ছিলো না। কিন্তু মা ওয়ার্নিং দেওয়াতে রাজি হয়েছে।
কনে লামিয়া। অনার্স সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্রী। খুবই সুন্দরী। লামিয়ার পাশে জিমাম দাড়ালে জিমামের নিজেকে কালু মাস্তান মনে হয়।
জিমামের দাদুর বাড়ির পাশেই থাকতো কালু মাস্তান। অতি ডেন্জারাস পাবলিক। একবার ঝগড়ার এক পর্যায়ে কালু মাস্তান তারই এক বন্ধুকে ঘ্যাচ্যাং করে ছুরি ঢুকিয়ে দিয়েছিল। সে বর্তমানে জেলে আছে।

মানব মস্তিষ্ক খুবই আজব জিনিস। না হয় বিয়ের দিন বসে বসে কেউ কালু মাস্তানের কথা ভাবে? জিমাম কিছুটা বিরক্ত। বিয়ের এতো ফর্মালিটিজে যে মানুষ বিরক্ত হবে না, সে মহামানব।

সন্ধ্যা সাতটা। অনেক ধকল পেরিয়ে অবশেষে বিয়ে নামক ঝামেলার শেষ পর্যায়ে। একটু পরেই নববধূ লামিয়াকে নিয়ে বাড়ি ফিরবে। একে একে সবার কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার পালা। হঠাত্‍ একজনকে দেখে জিমাম চমকে উঠল। বুকের বাম পাশে মোচড় দিয়ে উঠল। সাদিয়া!! পাশে তিন-চার বছরের একটা বাচ্চা। কালো শাড়িতে অসাধারণ লাগছে তাকে।
জিমাম এগিয়ে গেলো।

:"কেমন আছো, সাদিয়া? তুমি এখানে?"

::"এইতো আছি, কোনরকম। তোমার সাথেই তাহলে লামিয়ার বিয়ে হচ্ছে। ও আমার কাজিন। ভালো। লামিয়া তাহলে অনেক লাকি।"

:"হুমম। তোমার বর কোথায়? তোমার ছেলে তো অনেক কিউট হয়েছে, নাম কি?"

::"ওর নাম রাইয়ান। ওর আব্বু ঐদিকে কোথাও আছে হয়তো। রাইয়ান বাবু, এটা তোমার মামা। মামাকে সালাম দাওতো আব্বু।"

পিচ্চিটা হাত তুলে সালাম দিলো। আফসোস্! বড়ই আফসোসের বিষয়। জিমাম মনে মনে বলল- 'ওহে সাদিয়া বেগম। আমি যেখানে রাইয়ানের বাবা হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেখানে এখন তার মামা হয়ে গেলাম! জটিল দুনিয়া!'

রাত ১২টা। জিমাম এইমাত্র রুমে এসেছে। লামিয়া রুমে গম্ভীর হয়ে বসে আছে। আসার সময় কান্না করায় লামিয়ার চোখ এখনো লাল।

::"তো, মিস লামিয়া কি অবস্থা তোমার? আসার সময় এভাবে কান্না করতে হয়? মানুষে ভাববে তোমাকে জোর করে বিয়ে দিচ্ছে।" -জিমাম হেসে বলল।

:"মিস না মিসেস। বিয়ের দিন সব মেয়েরাই এভাবে কান্না করে।"

::"ও। মিসেস লামিয়া। খেয়ালই করিনি। ছেলেদের আবার এইদিক দিয়ে সুবিধা, তারা অলওয়েজ মিস্টারই থাকে।"

:"হুমম, তা ঠিক।" -লামিয়া হেসে বললো।

যাক গম্ভীর পরিস্থিতি আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হচ্ছে।

::"তো বিয়ের পর তোমার অনূভূতি কী? কেমন লাগছে সবকিছু?"

:"খারাপ না। প্রথমবারের মতো বিয়ে করলাম তো, তাই অন্যরকম লাগছে সবকিছু, একটু অস্বস্থিও লাগছে।"

::"হা হা হা হা। তুমি তো অনেক ফানি! অনেক মজা করে কথা বলো। গুড। আই লাইক ইট।"

:"হুমম। আপনিও অনেক মজার মানুষ। আগেই শুনেছি আপনার সম্পর্কে।
আপনি সাদিয়া আপুকে অনেক ভালোবাসতেন তাই না?"

হঠাত্‍ এই প্রশ্নে জিমাম চমকে উঠল, কিছুটা অস্বস্থির মধ্যে পড়ে গেলো। সাদিয়া, জিমামের প্রথম প্রেম। ভার্সিটিতে একসাথে পড়তো। দু'জনে একে অপরের জন্য প্রচন্ড পাগল ছিলো। পড়ালেখার মাঝপথে সাদিয়ার বিয়ে হয়ে যায় এক ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে। তখন প্রচন্ড আঘাত পেয়েছিল জিমাম, পাগল হওয়ার অবস্থা হয়েছিলো। আসলে সে সময় দু'জনেরই করার কিছু ছিলো না।
তারমানে আজকে লামিয়ার সাথে আমার বিয়ে হচ্ছে সেটা সাদিয়া জানতো। সন্ধ্যায় তাহলে ভাণ করেছে না জানার।

::"হুম। তুমি কিভাবে জানলে?"

:"সাদিয়া আপু আমাকে সব বলেছে। বলতে গেলে তার উদ্দ্যোগেই আমাদের এই বিয়েটা হয়েছে। তাকে কি এখনো মিস্ করেন?"

::"থাক এসব কথা। বাদ দাও। পরে বলবো। আমি আসলে অনেক টায়ার্ড। কালকেও ঘুমাতে পারিনি। তুমিও নিশ্চয়ই টায়ার্ড। ঘুমিয়ে পড়ো।"

লামিয়া এক গ্লাস পানি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লো। জিমামও শুয়ে আছে। কিন্তু ঘুম আসছেনা। বারবার সাদিয়ার কথা মনে পড়ছে। ভার্সিটির সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ছে। পাশে বউ রেখে প্রাক্তন প্রেমিকার কথা ভাবা মোটেই উচিত হচ্ছে না। ডিম লাইটের নীল আলোয় লামিয়াকে অদ্ভুত সুন্দর লাগছে।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৮৫

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৫



ইদের আগে মেহেদি দেওয়া যেন খুবই গুরুত্বপূর্ন কাজ মেয়েদের!
মেয়েরা লম্বা লাইন ধরে মেহেদি দিতে যায়। সব মার্কেটের সামনে ছোট টেবিলে বসে মেয়েরা মেহেদি দিচ্ছে। গত বছর আমার দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদ মোবারক !

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৫২



আজ সকালটা খুব সুন্দর ছিলো! একদম ঈদের দিনের মতো! বারান্দার কাছে গেলাম। আমাদের বাসার পাশেই লালমাটিয়া গার্লস স্কুলের মাঠ। স্কুলের মাঠে একটা বটগাছ আছে। মাঠ থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদ মোবারক! ঈদ মোবারক!! ড: এম এ আলী ভাইয়ের লিরিকে আমার ঈদের গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৫৭

আমার জন্য ঘটনাটা একটু বিব্রতকর হয়ে গেছে। শায়মা আপুর এসো ঈদের গল্প লিখি ...... পড়ি পোস্টে আলী ভাইয়ের কমেন্ট (১০ নম্বর) পড়তে পড়তে নীচে নামতে নামতে নিজের নাম দেখে হুট... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদ মোবারক ! খুশীর দিনের ভাবনা

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২১ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৫৩

ঈদ মোবারক ! খুশীর দিনের ভাবনা




সামুর সকল সদস্যর প্রতি থাকল ঈদ মোবারক ! খুশীর আনন্দ বয়ে আনুক সারাদিন !!!

আমরা সবাই রীতি অনুসারে পারস্পরিক শুভেচ্ছা জানাই এই দিনে ।
ইসলামী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×