somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এলোমেলোগেলোখেলো- অপরাধী

১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

*
ছোটবেলায় দাদাবাড়িকে আমরা খুব একটা পছন্দ করতাম না। এর কারন এই না যে তারা দরিদ্র ছিলেন। তবে তাদের বাড়িতে কারেন্ট ছিল না। যদিও বড় হয়ে জেনেছি কারন দু'টি পরষ্পরের প্রতিবেশী।

দাদার কথা আজ আর খুব একটা মনে নেই। শুধু মনে আছে তিনি মাঝে মাঝে অল্পদামী বিস্কিটের প্যাকেট নিয়ে আমাদের দেখতে আসতেন। তবে আমরা তা পছন্দ করতাম। তখন তাকে বাজারের আর দশটা বুড়ো মানুষের মতই লাগত।

কোন এক শুক্রবার আমরা দাদাকে দেখতে দাদাবাড়ি গেলাম। তিনি মৃত্যুশয্যায় ছিলেন। এটা আসলেই তার মৃত্যুশয্যা ছিল। সেই দিনটা শুক্রবার ছিল মনে আছে কারন ছোটবেলায় প্রতি শুক্রবারে টিভিতে আলিফ-লায়লা নামক একটা ব্যাপার দেখানো হত।

একপাশে ধানের ক্ষেত রেখে একটা মাটির পথ অন্ধকারে লম্বা হয়ে শুয়ে আছে। দাদাবাড়ি থেকে রিকশা পেতে হলে এই পথটুকু পেরুতে হয়। আমাদের কাফেলা দাদাকে দেখে, তার সুস্থতা কামনা করে চলে যাচ্ছে। দূরের জঙ্গলে জোনাকীর আলো আমাদের শিশুমনকে খুব একটা আলোড়িত করতে পারছে না। আমরা খুব চিন্তিত। আলিফ-লায়লা শুরুর আগেই বাসায় পৌঁছাতে পারব কিনা সেই টেনশন। তবে আশার কথা- আরেকটু এগোলেই রিকশা পেয়ে যাবো।

কিন্তু পথটা পেরিয়ে যাবার আগেই ভেতরের বাড়ি থেকে একটা ক্রন্দনরোল ভেসে এসে আমাদের পথ আটকে দিল। গ্রামের প্রতিটা কান্নাই আলাদা আলাদা, শুনলে চেনা যায়। কান্না শুনে সবাই বুঝল আমাদের দাদা মারা গিয়েছেন।


*
মৃতবাড়িতে গ্রামের প্রায় সব মানুষ চলে এসেছে। বাড়ি গিজগিজ করছে শোকার্ত মানুষে। অনেকেই কাঁদছে, নানানবয়সী মানুষজন, কেউ কেউ ফোঁপাচ্ছে।

আমরা সবার সাথে পাল্লাদিয়ে কাঁদছি।
আমাদের মা আমাদের কান্না দেখে বিরক্ত হন। চাপা স্বরে ধমকে ওঠেন।
'চুপ করবি? নাকি মার খাবি?'
শুনে একদল মহিলা পরমাদরে আমাদের মাথায় আন্তরিকভাবে হাত বুলিয়ে দিলেন।
'আহারে। দাদা মারা যাওয়ায় কাঁনতেসে। থাক বৌ, বইক না।'

সাহস পেয়ে আমরা কান্নার মাত্রা বাড়িয়ে দিই। সব হারানোর ব্যথা না হলেও অনেককিছু হারানোর ব্যথা ছিল। আমরা কিছুতেই আলিফ-লায়লার সেই পর্বটি মিস করতে চাই নি। আর আমাদের অসহায় মা সব জেনেও কিছু করতে পারেন না। চুপচাপ বসে থাকেন। রাগ-শোক-বিরক্তি মেশানো একটা অদ্ভুত রাত উপহার নিয়ে বসে থাকেন।


*
অনেকবছর পর আলিফ-লায়লা দেখতে গিয়ে আমাদের সেই দিনটার কথা মনে পড়ে যায়। ভেবেছিলাম, ঘটনাটা মনে করে আমাদের নিজের কাছে অপরাধী লাগতে পারে। কিন্তু বাস্তবে আমরা ছোটবেলার কাছে অপরাধী হয়ে যাই। তখন আমরা ভান করতে জানতাম না। এখন আমরা ভান করি। শোকার্ত হওয়ার ভান করি, আনন্দ পাওয়ার ভান করি, পছন্দ করার ভান করি। চারিদিকে ভান আর ভান। ঠিক কবে জানিনা, তবে আমরা বোধহয় নষ্ট হয়ে গেছি।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১১:২৪
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পঁই পঁই করে হিসাব রাখতে হবে, নতুবা বিপদে!

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩৪

আমরা ক'জনা বেশ কিছুদিন আগে ব্যবসা শুরু করেছি। প্রথমেই একজনকে হিসাবের সব দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি নিয়েছিলাম মার্কেটিং ও টেকনিক্যাল সাইড গুলির দ্বায়িত্ব। সৌদীতে অনেক POS রেডিমেড পাওয়া গেলেও আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে কোন 'জঙ্গী' নেই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:২৫

'জং' শব্দটার অর্থ 'যুদ্ধ'। এভাবে, জঙ্গী কথাটার অর্থ দাঁড়ায় - যোদ্ধা বা যুদ্ধ করেন। যে কোন যুদ্ধই প্রাণহানি ডেকে আনে। আগের কালে, রাজারা যুদ্ধ করে দেশ জয় করতেন। তাঁদের অণ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই প্রথম খাল বাবার পলিটিক্যাল ম্যাচুরিটির নিদর্শন পেলাম

লিখেছেন অপলক , ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪

২০১০ সালে ফেব্রুয়ারীর ২২ তারিখ। মেয়েলি ব্যাপার বলি, প্রতিহিংসার ব্যপার বলি অথবা পলিটিক্যাল ইমম্যাচুরিটির কথা বলি, বাংলাদেশ জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নতুন করে আকীকা দিয়ে নাম রাখা হয়েছিল হযরত শাহজালাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাষণময়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১


বিশ্বাসগুলো হাবুডুবু খাচ্ছে
ভাগ্যের কম দোষটার হাত
ঝাঁকনি কম নেই তো- তাহলে
বিশ্বাসগুলো মরে যাচ্ছে এই;
মাটির আনন্দটা শুধু ফুল গন্ধ
নাকের সুসংবাদ যে দৌড়াচ্ছে
রাতের ঘুমটা যেনো স্বপ্নবিরল কষ্ট
ভোরের শিশির গড়ে না আর শক্ত;
তবু নিশ্বাসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×