somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মায়ের ত্যাগ, সন্তানের ভুল সিদ্ধান্ত

১৯ শে মার্চ, ২০২৫ সকাল ১০:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এক এলাকায় বাস করতেন এক অসহায় মা। স্বামী মারা যাবার পর অসংখ্য প্রতিকূলতা পেরিয়ে, সীমাহীন কষ্ট সহ্য করে তিনি একমাত্র ছেলেকে বড় করেন। নিজের প্রয়োজন-সুবিধা বিসর্জন দিয়ে সন্তানকে পড়াশোনার সুযোগ দেন, যেন একদিন সে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। মায়ের সেই ত্যাগ বৃথা যায়নি—ছেলেটি কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বিসিএস ক্যাডার হয়, একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার ইঞ্জিনিয়ার হয়ে ওঠে।

প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ছেলেটি সমাজে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী হয় এবং ধনী পরিবারের এক মেয়েকে বিয়ে করে। কিন্তু এই বিয়ের পরই শুরু হয় মায়ের জীবনের নতুন দুঃখের অধ্যায়। পুত্রবধূ শ্বাশুড়ির প্রতি অবজ্ঞাপূর্ণ আচরণ করতে থাকে—উঠতে বসতে কটূক্তি করে, তাকে যথাযথ সেবা দেয় না, খাবার পর্যন্ত ঠিকমতো দেয় না। ছেলেটি কর্মব্যস্ত জীবনে এসব খেয়ালই করে না। তার ধারণা, সংসারের দায়িত্ব স্ত্রী নিয়েছে, তাই তার আর চিন্তার কিছু নেই।

কিন্তু একদিন সেই স্ত্রী তার বৃদ্ধ শ্বাশুড়িকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে। সন্তান, যাকে মা তিলে তিলে বড় করেছেন, ভালো ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়ে বড় করেছেন, সেই সন্তানই আজ মায়ের শেষ জীবনের আশ্রয় হয়ে উঠতে পারেনি। সমাজের বাস্তব চিত্রও প্রায় এমনই। বৃদ্ধাশ্রমে থাকা মায়েদের বেশিরভাগ সন্তানই সফল, প্রতিষ্ঠিত, ধনী—কিন্তু তারা মায়ের প্রতি দায়িত্ব ভুলে গেছেন।

কিন্তু কি আশ্চর্য! আমরা কখনো দেখিনি কোনো আলেম বা ইসলামপ্রিয় ব্যক্তিকে তার মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাতে। কারণ, তারা জানেন—মা-বাবার প্রতি দায়িত্ব পালন করা শুধু নৈতিক নয়, এটি ধর্মীয় ও মানবিক কর্তব্যও। মা-বাবার প্রতি কর্তব্য ভুলে গিয়ে কেউ সত্যিকারের সফল হতে পারে না। সমাজের প্রত্যেক সন্তানের উচিত, মায়ের ত্যাগ ও ভালোবাসার মূল্য দেওয়া এবং বৃদ্ধ বয়সে তাদের পাশে থাকা, যেন তারা শেষ জীবনে কষ্ট না পান।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মার্চ, ২০২৫ সকাল ১০:৫১
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্ম পরে, আগে আল্লাহ্‌কে মনে রাখো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৩৭

প্রিয় শাইয়্যান,
পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্‌কে তুমি যখন সবার আগে স্থান দিবে, তখন কি হবে জানো? আল্লাহ্‌ও তোমাকে সবার আগে স্থান দিবেন। আল্লাহ্‌ যদি তোমার সহায় হোন, তোমার আর চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ কেন আমি বিএনপিকে ভোট দিবো?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



আসছে ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সরকারপক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নির্বাচন হবে বিতর্কমুক্ত এবং উৎসবমুখর পরিবেশে। আমার অবশ্য এই দুই ব্যপারেই দ্বিমত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামিলীগ আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫



চাঁদগাজী বলেছিলেন,
"যেসব মানুষের ভাবনায় লজিক ও এনালাইটিক্যাল জ্ঞান না থাকে, তারা চারিপাশের বিশ্বকে সঠিকভাবে বুঝতে পারে না, কোন বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সমাজে তাদের অবদান... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘বাঙালি মুসলমানের মন’ - আবারও পড়লাম!

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আহমদ ছফা'র ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ বইটা আরাম করে পড়ার মতো না। এটা এমন এক আয়না, যেটা সামনে ধরলে মুখ সুন্দর দেখাবে- এমন আশা নিয়ে গেলে হতাশ হবেন। ছফা এখানে প্রশংসা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অজানা হুমায়ুন

লিখেছেন আহমেদ রুহুল আমিন, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯

হুমায়ূন আহমেদের অসমাপ্ত গ্রন্থ হলো "নবীজি"। এই বইটি লিখতে শুরু করার পিছনে একটি গল্প আছে। একবার এক বইমেলায় হুমায়ূন আহমেদের সাথে একজন মাওলানার দেখা হলো। মাওলানা সাহেবের বহুদিনের শখ ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×