somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আড্ডার সেই বেঞ্চটা আজও অপেক্ষায়।

২৭ শে মে, ২০২৬ রাত ৩:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আড্ডার সেই বেঞ্চটা আজও অপেক্ষায়

২০০৫ সাল।
বিকেলের শেষ আলোটা ধীরে ধীরে গাছের পাতায় এসে পড়তো। শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে, নির্ধারিত সেই জায়গাটায় প্রতিদিন জড়ো হতো ১০ জন বন্ধু। কারো হাতে চায়ের কাপ, কারো হাতে সস্তা মোবাইল ফোন, কেউ আবার শুধু গল্প শোনাতো।

সেখানে কোনো ধনী-গরিব ছিল না, কোনো পদ-পদবি ছিল না।
ছিল শুধু বন্ধুত্ব।

হাসির শব্দে জায়গাটা মুখর হয়ে উঠতো। কেউ স্বপ্ন দেখতো বড় চাকরির, কেউ ব্যবসার, কেউ বিদেশ যাওয়ার। আবার কেউ শুধু বলতো—
“আমরা কিন্তু কখনো আলাদা হবো না!”

তখন কে জানতো, সময় নামের অদৃশ্য শক্তি একদিন সবাইকে আলাদা করে দেবে?


---

২০১০ সাল

বন্ধুদের মধ্যে কয়েকজনের চাকরি হয়ে গেল।
কারো অফিস সকাল ৯টায়, কারো নাইট শিফট।

আগের মতো প্রতিদিন আর দেখা হতো না।
তবুও সপ্তাহে একদিন হলেও সবাই চেষ্টা করতো সেই পুরোনো জায়গায় আসতে।

তখনও বেঞ্চটা হাসতো।
তখনও চায়ের দোকানদার জিজ্ঞেস করতো—
“বাকি সবাই কই?”


---

২০১৪ সাল

সময় আরও বদলে গেল।

কেউ বিয়ে করলো, কেউ অন্য শহরে চলে গেল, কেউ সংসারের দায়িত্বে ডুবে গেল।

এখন আর ১০ জন নয়।
মাত্র ৩ জন বন্ধু নিয়মিত আড্ডা দেয়।

তাদের গল্পেও পরিবর্তন এসেছে।
আগে যেখানে প্রেম, সিনেমা আর স্বপ্নের কথা হতো, এখন সেখানে চাকরির চাপ, টাকার হিসাব আর জীবনের ক্লান্তি।

তবুও মাঝে মাঝে তারা পুরোনো দিনের কথা মনে করে হেসে উঠতো।


---

২০১৫ সাল

এখন শুধু ২ জন।

একজন এসে বসে থাকে, আরেকজন একটু দেরিতে আসে।
চায়ের কাপ দুইটা টেবিলে রাখা হয়।

চারপাশ আগের মতোই আছে, কিন্তু কিছু যেন নেই।
হয়তো সেই শব্দগুলো নেই।
হয়তো সেই মানুষগুলো নেই।

কথা কমে গেছে।
নীরবতা বেড়ে গেছে।


---

২০১৮ সাল

এখন শুধু একজন বন্ধু আসে।

সে চুপচাপ বসে থাকে।
মাঝে মাঝে মোবাইল বের করে পুরোনো ছবিগুলো দেখে।

কখনো বেঞ্চটার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে।
কখনো দীর্ঘশ্বাস ফেলে।

তার মনে পড়ে—
এই জায়গাটাতেই একদিন ১০ জন বন্ধু একসাথে ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিল।

আজ সেখানে শুধু স্মৃতি বসে আছে।


---

২০২৬ সাল

এখন সবাই ব্যস্ত।

কেউ কর্পোরেট অফিসে, কেউ বিদেশে, কেউ সংসারে, কেউ নিজের জীবনের যুদ্ধ নিয়ে ক্লান্ত।

সেই জায়গাটা আজও আছে।
গাছটা হয়তো আরও বড় হয়েছে।
বেঞ্চটা হয়তো পুরোনো হয়ে গেছে।

কিন্তু সেখানে আর কেউ বসে না।
কেউ কাউকে স্মরণও করে না।

আড্ডা নামের ছোট্ট পৃথিবীটা সময়ের ভিড়ে হারিয়ে গেছে।


---

জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলো হয়তো তখনই ছিল, যখন পকেটে টাকা কম ছিল কিন্তু সময় ছিল অনেক।
যখন ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ছিল, কিন্তু বন্ধুত্ব নিশ্চিত ছিল।

আজ সব আছে—
চাকরি আছে, ব্যস্ততা আছে, দায়িত্ব আছে।
শুধু নেই সেই বিকেলগুলো।
নেই সেই ১০ জন বন্ধু একসাথে হাসার শব্দ।

সময় মানুষকে বড় করে দেয়,
কিন্তু অনেক সময় দূরেও সরিয়ে দেয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মে, ২০২৬ রাত ৩:১০
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি!

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ২৬ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২২


২১বছর বয়সী তরতাজা ছেলেটি মায়ের কোলে মাথা দিয়ে কালেমা শাহাদাত ও সূরা আর-রহমান অর্ধেক তেলাওয়াত করেই আল্লাহর জিম্মায় চলে যায়! ৩৪বছর এই স্মৃতিকে বুকে ধরে অবশেষে সেই মা চলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোড়াতেই একটা বড় মিথ্যা বলিয়া আরম্ভ করিলেন , সেটা কি ভাল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৭


ঈদ-উল-আজহার এই আনন্দের সময়ে যখন দেশের মানুষ কোরবানির প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং ছুটির আমেজ উপভোগ করছেন, ঠিক তখনই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ শব্দটিকে কেন্দ্র করে নতুন নাটক শুরু হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুদের প্রতি হুজুরদের কেন এই দুর্নিবার আকর্ষণ? | বলৎকার পিডিয়া

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২৭ শে মে, ২০২৬ রাত ১:১২



আমাদের দেশে প্রায় সারা বছরই দেশের কোথাও না কোথাও মাদ্রাসার হুজুরদের দ্বারা ছেলে শিশু বলৎকার, মেয়ে শিশুকে ধর্ষণের ঘটনার খবর শুনতে পাওয়া যায়, তবে ইদানিং এমন ন্যক্কারজন ঘটনার হার বেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি সবটা খেতে চাইলে সবটা হারাবে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে মে, ২০২৬ সকাল ৭:৫৯




আপা ড. ইউনুসের চুক্তি মেনে নিলে, আমেরিকা ও ভারত এক হলে এবং সেনা আপার পক্ষে গেলে আপার আগমনে বিএনপিকে পালিয়ে যেতে হবে।তখন আপা কি করবেন সেটা আপার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ঈদ উৎসব এবং মা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৭ শে মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৩



ভোর বিহানে আজান হলেই মা করতেন ডাকাডাকি।
এই ঈদে আর ডাকেনিগো মা, এ দুঃখ কোথায় রাখি!

হারিয়ে গেছে মা জননী আমার, শূন্যতা অপার
এই জীবনে মায়ের সাথে দেখা কি হবে আর?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×