নবম শ্রেণীতে স্কুল পরিবর্তণ করে অন্য একটি স্কুলে ভর্তি হই। প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় ইংরেজী প্রথম পত্রের রেজাল্ট দেয়া হল। আমার চেয়ে পাঁচ মার্কস বেশী পেয়ে অন্য একজন প্রথম হয়। ইংরেজী দ্বিতীয় পত্রের রেজাল্টের দিন স্যার সবার কাছে , নিজ নিজ খাতা দিয়ে দিলেন। সবাইকে বললেন যে নাম্বারগুলো যোগ করে দেখার জন্য যে ঠিক আছে কিনা। আমি আমার নিজের খাতার নাম্বার যোগ করে দেখলাম যে, স্যার মোট যে নাম্বার দিয়েছেন, আমি তার চেয়ে দশ নাম্বার কম পেয়েছি।
আমি ভাবতে লাগলাম যে স্যারকে বলবো কিনা। প্রথমে ভাবলাম যে বলে ফেলি। পরে দেখলাম যে, এই দশ নাম্বার থাকলে ইংরেজী দুই পত্র মিলিয়ে আমার মার্কস সবচেয়ে বেশী হয়। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম স্যারকে বলবো না। যথারীতি দুইপত্র মিলিয়ে আমি সর্বোচ্ছ নাম্বার পেলাম।
এসএসসির রেজাল্ট হয়েছে। রেজাল্ট পাওয়ার পর স্যারকে সালাম করতে গেলাম। স্যার আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। স্যারকে সালাম করার পর স্যার বসতে বললেন।
-নাইনের প্রথম সাময়িক পরীক্ষাতে তো তুমিই প্রথম হয়েছিলে।
-জ্বী স্যার।
-তোমার ইংরেজী দ্বিতীয় পত্রে আমি দশ মাকর্স বেশী দিয়েছিলাম, তুমি কি বুঝতে পেরেছিলে?
-জ্বী স্যার।
-আমি তোমাকে পরীক্ষা করতে চেয়েছিলাম , তুমি মার্কস বেশী দেখে কি কর।
-স্যার, আমি দুঃখিত। আমাকে ক্ষমা করবেন।
-শোন, প্রথম হওয়াই সব নয়। আমি জানি তুমি অনেক এগোবে, কিন্তু তুমি সেটা বোধহয় সৎভাবে করতে পারবেনা। সৎ হও, এতে যদি একটু পিছিয়েও থাকো সমস্যা নেই।
স্যারের সাথে দেখা হয়েছিল সাত বছর আগে। সাত বছর আগাতে গিয়ে দেখলাম, এখানে সৎ হওয়া অনেক কঠিন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



