somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুই নিয়ে দুই নাম্বারী.....

০২ রা এপ্রিল, ২০০৭ রাত ২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(দুই হাজার দুই সালের দুই নাম্বার মাসের দুই তারিখে (02/02/2002) বেলা দুই প্রহরের সময় দুইটি কলম ও দুইটি কাগজ নিয়ে বসে দুই ঘন্টা দুই মিনিট অলস সময় কাটানোর প্রচেষ্টায় আমার এ দুই নাম্বার জীবনি সৃষ্টি।)
আমি যখন ক্লাশ দুই এ পড়তাম, তখন থেকে প্রত্যেক ক্লাশের দুই নাম্বার সেকশনের দুই নাম্বার ছাত্র হইতাম। এমন কি এস.এস.সি; এইচ.এস.সি এবং বি.এস,সি পরীক্ষায় আমি দুই নাম্বার ডিভিশনে পাশ করি। বি.এস.সি পাশ করে দুই মাস বেকার থাকার পর এক চাকুরীতে দুই নাম্বার ভাবে দুই হাজার দুই শত টাকা দিয়ে দুই মাস পর নিয়োগ পেলাম। বেতন ছিল মাত্র দুই হাজার থেকে দুইশত টাকা কম। দুই মাস পর হটাৎ একদিন দুইজন মানুষের মধ্যে আলাপ হতে শুনলাম আমাকে চাকুরীদাতা সংস্থাটি নাকি দুই নাম্বার! ইতোমধ্যে এই সংস্থায় আমার দুই মাসের বেতন পাওনা রয়েছিল বলে দুই সেকেন্ডের ভিতর আমার হৃদস্পন্দন দুই শত গুন বেড়ে গেল।
ঘটনার দুইদিন পর গিয়ে দেখি আমার অফিসের প্রধান দুইটি দরজায় বড় বড় দুইটি করে তালা ঝুলছে। অফিসের দুই নাম্বার দরজার সামনে বসে দুই ঘন্টা সময় কাটাবার পরও যখন কেউ এসে তালা দুইটি খুলল না, তখন লাইনের দুই নাম্বার বাস ধরে চলে আসছিলাম; পকেটে দুই শত টাকা ছিল, বাসে ভিড়ের মধ্যে কোন বাটপার দুই আঙ্গুল দ্্বারা দুই মিনিটের ভিতর আমাকে দুই চমক দেখিয়ে দিল।
খালি পকেটে দুই ঘন্টা হাটার পর বাসায় এসে আমার গায়ে দুই শত দুই ডিগ্রী জ্বর দেখে একসাথে দুইটি প্যারাসিটামল খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। এর পর দুই দিন কি হয়েছিল, বলতে পারিনি।
এর দুই সপ্তাহ পর স্কুলের এক দুই নাম্বার কাতারের বন্ধুর সহযোগিতায় দুই নাম্বার ব্যবসায় নামলাম। প্রথম মাসে দুই লক্ষ টাকা লাভ হল, দুই বন্ধু দুই ভাগ করে নিলাম।এভাবে দুই বছর যেতে না যেতে আমার দুইটি বাড়ি, দুইটি গাড়ি ও দুইটি ইন্ড্রাষ্টি হয়ে উঠল।
স্কুল লাইফে প্রেম নিবেদন করার পর যে মেয়ে আমাকে বলতো, তুমি দুই নাম্বার লাইনে আছো; এখন সেই আমায় দিনে দুই শত বার ফোন করে।
আল্লাহর রহমতে এবং আপনাদের দোয়ায় সেই মেয়েটিকে আমি আমার দুই নাম্বার বউ বানালাম। দুই বউকে দুই বাড়িতে থাকতে দিতাম। এভাবে দুই বছর সূখের সংসার অতিবাহিত হবার পর আমি আমার দুই নাম্বার ব্যবসায় ধরা পড়িলাম।
দুই দিন পলাতক থাকার পর জেলে গিয়ে দেখি আমার সেই দুই নাম্বার বন্ধুটি দুই দিন আগেই ধরা পড়েছে। দুই সপ্তাহ জেলে থাকার পর আমাদের দুই বন্ধুকে কোর্টে চালান করা হল; সেখানে দুইজন অ্যাডভোকেট আমাদের দুই বন্ধুর জামিনের জন্য দুই ঘন্টা ব্যাপী বৃথা চেষ্টা করলেন। আমাদের দুই বন্ধুর দুই বছরের জেল হল।
দুই বছর পর বেলা দুই প্রহরের সময় জেল থেকে বের হয়ে আমরা দুই বন্ধু দুই দিকে চলে গেলাম। পার্কের দুই নাম্বার রাস্তার পাশের দুই নাম্বার বেঞ্চিতে বসে দুই ঘন্টা সময় কাটাবার পর দুই হালি বছর বয়সের মানে আট বছর বয়সের একটি ছেলে বাদাম নিয়ে আসলো। ভাগ্যক্রমে আমার পকেটে দুই টাকা ছিল, তাই দিয়ে দুই টাকার বাদাম কিনে দুই মিনিট তৃপ্তি সহকারে খেলাম।
সেখান থেকে উঠে দুই কিঃমিঃ হাটার পর আমার দুই নাম্বার শশুড় বাড়ি গিয়ে জানতে পারলাম, দুই নাম্বার এর আগের বউ মারা গেছে; এবং দুই নাম্বার বউ নাকি এই পাড়ার দুই নাম্বার ব্লকের দুই নাম্বার রোডের দুই নাম্বার বাড়িতে তার দুই নাম্বার স্বামীকে নিয়ে সূখেই দিন যাপন করছে!
আমার সেই দুই নাম্বার বউয়ের দুই নাম্বার স্বামীর বাড়ির পিছনের দুই নাম্বার গেটের সামনে গিয়ে , বুকে দুইটি ফু দিয়ে দুইগজ যাইতে না যাইতে দেখলাম আমার দুই নাম্বার বউটি তার দুই নাম্বার স্বামীর সাথে কি যেন আলাপ করছে।
আমাকে দেখা মাত্র সে দুই সেকেন্ডের ভিতর দুই হাতে দুইটি ঝাড়ু নিয়ে আমার দিকে তেড়ে আসলো। এই পরিস্থিতিতে দুই সেকেন্ডের ভিতর দুইটি লাফ দিয়ে দিলাম আমি ভু দৌড়; আর আমার এ অবস্থা দেখে তারা দুইজনে দুই রকমের দাঁত বের করে খিল খিল করে হাসতে লাগলো।
এর পর আমি আমার দুই নাম্বার প্রচেষ্টায় পাশের পাড়ার দুই শত দুই নম্বার বাড়ির দুইতালায় দুই জন ছাত্রীকে পড়াবার সুযোগ পাইলাম; কিন্তু দুই বছর পড়াবার পরও যখন আমি তাদের রোল নং দুই থেকে উঠাতে পারলাম না; তখন তাদের অভিবাবক দুই মাসের বেতন না দিয়ে বলতে গেলে একরকম গলা ধাক্কাদিয়ে আমাকে বিদেয় করে দিলেন।
সে অনেক আগের কথা। এখন আমার বয়স দুই ডাবল কুড়ি হতে দুই বেশী, মানে বিরাশি। এখন আমার অবস্থা বর্তমানে প্রচলিত দুই টাকার নোটের মত জরাজীর্ণ। এখন আরো দুই সেকেন্ড পর অক্কা পেলেই আমি যেন রক্ষা পাই........।
(পড়ার জন্য আপনাকেকে দুই দুইবার ধন্যবাদ।)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একান্ত ভাবনা

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪০

একবার রিয়েক্টর ফিজিক্স ক্লাসে আমাদের একজন শিক্ষক বলেছিলেন, "এই দেশে আসলে সবাই সবার সঙ্গে বাটপারি করে।" কথাটা শুনে প্রথমে একটু অবাক হয়েছিলাম। কিন্তু যতদিন গেছে, চারপাশটা যতটুকু দেখেছি, ততই মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×