বাংলাদেশ লাগোয়া অংশ দুর্গাদুয়ানীতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিদু্যৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছে। গোসাবা, বাসন্তি, আরামপুর এবং কাটাখাল এলাকায় মানুষের কাছে বিদু্যৎ পেঁৗছে দিতে এ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এই বিদু্যৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা হবে 3 দশমিক 6 মেগাওয়াট। এটি নির্মাণে ব্যয় হবে 90 লাখ মার্কিন ডলার।
বিপন্নপ্রায় বাঘের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অভয়ারণ্য হিসাবে পরিচিত সুন্দরবন। বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে অবস্থিত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবনের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বেশ কয়েকটি নদী এবং অসংখ্য শাখা নদী। সেই নদীতেই জোয়ারের পানির তীব্রতাকে ব্যবহার করে বিদু্যৎ কেন্দ্র বানাতে উদ্যোগ নিয়েছে ভারত।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতিমন্ত্রী কান্তি গাঙ্গুলী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ঐ এলাকার মানুষকে সারা জীবন তো আর অন্ধকারে রাখা যায় না। সেখানকার গ্রামবাসীদের জীবনধারা বদলাতেই এই বিদু্যৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। পরিবেশের যাতে ক্ষতি না হয় সে বিষয়ে আমরা সাবধানতা অবলম্বন করবো। তবে এ প্রসঙ্গে ভিন্নমত দিয়েছেন পরিবেশবিদগণ। তারা বলেছেন, হয়তো এ বিদু্যৎ কেন্দ্র ঐ এলাকার 15 হাজার মানুষের বিদু্যৎ সমস্যা সমাধান করবে কিন্তু প্রাকৃতিক জোয়ারকে আটকিয়ে ভালো কিছু সম্ভব নয়। এর ফলে সুন্দরবনের ব্যাপক এলাকায় বিরূপ প্রভাব পড়বে। যা এ বন ধ্বংসের কারণ হতে পারে। বিশ্ব বন্যপ্রাণী তহবিলের (ডবিস্নউডবিস্নউএফ) কর্মকর্তা এস আর ব্যানার্জি বলেছেন, যদিও এটি খুব ছোট একটি বিদু্যৎ প্রকল্প কিন্তু এটি বিপন্ন ব্যাঘ্রকুলকে ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট। আমাদের সংগঠন ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকারকে এ ধরনের কাজ বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে। তিনি জানান, সংরক্ষিত এ বনাঞ্চল এমনিতেই সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে হুমকির মুখে রয়েছে।
ভারত প্রায় 4 বছর আগেই সুন্দরবনে জোয়ারভিত্তিক বিদু্যৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প রিপোর্ট তৈরি করে। এর আগে 1995 সালে এ প্রকল্পের বিষয়ে জরিপ চালায় পশ্চিমবঙ্গ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন এজেন্সি এবং ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ওশানোগ্রাফি।
সংশিস্নষ্টরা বলেছেন, এ বিদু্যৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে হলে ুইস গেটের মাধ্যমে সংশিস্নষ্ট ক্যানেলের মুখ বন্ধ করে দিতে হবে। ফলে পানি প্রবাহ বন্ধের সাথে সাথে পলির গতিপথেও বাধা পড়বে। ফলে বাংলাদেশ অংশেও মারাত্মক ক্ষতি হবে।
সংশিস্নষ্টরা বলছেন, গত 2004 সালে সমাপ্ত সুন্দরবনে বৈজ্ঞানিক উপায়ে চালানো প্রথম জরিপের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, এই ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে বাঘ রয়েছে মাত্র 419টি। ইউএনডিপি'র অর্থায়নে সেই জরিপে দেখা যায়, সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জে রয়েছে 18টি পুরুষ বাঘ এবং 79টি মহিলা বাঘ। চাঁদপাই রেঞ্জে রয়েছে 14টি পুরম্নষ বাঘ এবং 49টি মহিলা বাঘ, খুলনা রেঞ্জে রয়েছে 54টি পুরম্নষ বাঘ এবং 93টি মহিলা বাঘ, সাতক্ষীরা রেঞ্জে রয়েছে 35টি পুরম্নষ বাঘ এবং 77টি মহিলা বাঘ। এছাড়া হিসাবে দেখা গেছে এখানে রয়েছে 21টি ব্যাঘ্র শাবক।
বিদু্যৎ কেন্দ্র করার ফলে বেশি পানি বনের মধ্যে জমে থাকবে। এর ফলে ক্রমে ধ্বংস হবে বাঘের আবাস। বিপন্ন হবে বিশ্বের প্রতাপশালী প্রাণী রয়েল বেঙ্গল টাইগার। প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, তারা বিদু্যৎ কেন্দ্র নির্মাণ বিষয়ে যথেষ্ট চিন্তিত। তারা আশা করছেন, ভারত এ প্রকল্প স্থগিত করবে।
জোয়ারভিত্তিক বিদু্যৎ কেন্দ্র থেকে বিদু্যৎ উৎপাদন শুরু হয় 70 বছর আগে যুক্তরাজ্যে। এরপর ফ্রান্স, কানাডা, সাবেক সোভিয়েট ইউনিয়ন, চীন ও আর্জেন্টিনায় এ বিদু্যৎ কেন্দ্র থেকে বর্তমানে বিদু্যৎ উৎপাদিত হচ্ছে।
ঃঃ দৈনিক ইত্তেফাক ঃ 02.07.2006 ঃঃ
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




