। দিনাজপুর সংবাদদাতা ।।
দিনাজপুর সীমান্তে গত এক বছরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ 14 বাংলাদেশী কৃষক ও দিনমজুরকে গুলি করে হত্যা করেছে। অপহৃত হয়ে নিখোঁজ রয়েছে 5 জন। এছাড়া বিচ্ছিন্ন ঘটনায় আহত হয়েছে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক বাংলাদেশী। প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, 332 কিলোমিটার সীমান্তে বিএসএফ দিনাজপুর সদর, বিরল, ফুলবাড়ি, বিরামপুর, হাকিমপুর, পীরগঞ্জ, হরিপুর ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা সীমান্তে উস্কানিমূলকভাবে যখন-তখন গুলিবর্ষণ করে। অহেতুক গুলিবর্ষণ ও মানুষ খুনের প্রতিবাদে দিনাজপুর সেক্টরের অধীনস্থ বিডিআর, বিওপি ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে একাধিকবার প্রতিবাদলিপি প্রেরণ করে। সীমান্তে বিডিআর-বিএসএফ দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উচ্চ পর্যায়ের বিডিআর-বিএসএফ-এর সেক্টর কমান্ডার ও জেলা প্রশাসক পর্যায়ের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু কোন সমস্যারই সমাধান হচ্ছে না। আলোচনায় বিএসএফ সীমান্তে গুলিবর্ষণ না করার কথা ঘোষণা করে। কিন্তু বৈঠকের পর সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যা কমেনি, বরং তা বেড়ে গেছে। প্রাপ্ত তথ্যে আরো জানা যায়, দিনাজপুর সদর সীমান্তে 2 জন, বিরল সীমান্তে 1 জন, বিরামপুর-ফুলবাড়ি সীমান্তে 3 জন, হাকিমপুর সীমান্তে 3 জন ও রাণীশংকৈল-হরিপুর-বালিয়াডাঙ্গী সীমান্তে 5 জন কৃষক গুলিতে নিহত হয়। বিএসএফ কতর্ৃক মানুষ খুনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সীমান্ত ঘেঁষা গ্রামগুলোতে বসবাসকারীরা বিএসএফ আতঙ্কে ভুগছে। অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুরের সীমান্তের ওপারে বিএসএফ প্রায় 230 কিলোমিটার সীমান্তে বেড়া নির্মাণ ও রিংরোড তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছে। নতুন নতুন পর্যবেক্ষণ টাওয়ার নির্মাণ করে বাংলাদেশের সীমান্তবতর্ী গ্রামবাসীদের ওপর প্রতিনিয়ত নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। বিএসএফ-এর অতিরিক্ত বাড়াবাড়ির কারণে কাঁটাতারের বেড়া সংলগ্ন বাংলাদেশের অভ্যন্তরের চাষযোগ্য জমি ঠিকমতো চাষাবাদ করা যাচ্ছে না।
ঃঃ দৈনিক ইত্তেফাক ঃ 04.02.2006 ঃঃ
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




