বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমার অভ্যন্তরে ভারতীয় টহল নৌ-যানের মদদে অনুপ্রবেশকারী সে দেশের জেলেদের গুলিতে এক বাংলাদেশী জেলে নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার থেকে পাথরঘাটাসহ সুন্দরবন উপকূলে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছে। ভারতীয় জেলে বহরের হামলায় হটে যাওয়া বাংলাদেশী ট্রলারসমূহ এদিন বিকালে ও গতকাল সকালে দুবলারচর, পাথরঘাটা ও পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরে নিরাপত্তার অভাবে প্রাণ ভয়ে ফিরে এসেছে। গুলিতে নিহত পাথরঘাটার কালমেঘা ইউনিয়নের কুটাবাছা গ্রামের আমীর আলীর (65) লাশ নিয়ে তার সহকমর্ীরা গতকাল দুপুরে পাথরঘাটা পৌঁছালে সেখানে যুগপৎ গভীর শোক ও ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়। ফিরে আসা জেলেরা জানায়, রবিবার সকাল থেকে একযোগে ভারতীয় 20/25টি ট্রলার হঠাৎ এসে সুন্দরবন উপকূলের মান্দারবাড়িয়া অভয়ারণ্য কেন্দ্রের অদূরে বাংলাদেশী ট্রলার বহরের উপর গুলি চালাতে চালাতে হামলা করে। শক্তিশালী ইঞ্জিনধারী, মজবুত ও বড় আকারের এসব ট্রলার এ দেশের অপেক্ষাকৃত দুর্বল ট্রলারগুলোর উপর গলুই দিয়ে আঘাত করে ভাংচুর করে। হামলাকারীরা এফবি সাজু ও নাজমা-3 থেকে কয়েক লাখ টাকার জাল এবং অন্যান্য ট্রলার থেকে জাল-মাছ লুট করে। এ সময় শতাধিক বাংলাদেশী ভারতীয় অনুপ্রবেশকারী জেলেদের হাতে প্রহৃত ও আহত হয়। পাথরঘাটার ছগির মেম্বরের ট্রলার এফবি আলাউদ্দিন হাফিজের বাবুর্চি আমীর আলী ভারতীয়দের গুলিতে নিহত হয়। হানাদার ভারতীয় জেলেরা ট্রলারে স্থাপিত বেতার যন্ত্রের মাধ্যমে আন্তঃযোগাযোগ করে এ হামলা পরিচালনা করছিল। প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে চালানো অনুপ্রবেশকারীদের এ অভিযানকালে ভারতীয় উপকূলে টহলরত একটি গানবোটকে দূরে অবস্থানরত দেখা যায়। প্রত্যৰদশর্ী জেলেরা জানায়, আক্রমণকারী দু'টি ভারতীয় ট্রলারকে কয়েকবার বাংলাদেশী জলসীমা থেকে চলে গিয়ে উক্ত টহলযানে অবস্থানকারীদের সাথে কথা বলতে দেখা যায়। গতকাল বিকাল পর্যন্ত পাথরঘাটা হাসপাতালে সাতজন আহত জেলেকে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আরো 15/16 জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। দুবলারচর থেকে জেলেরা জানায়, দীর্ঘকাল ধরে ভারতীয় নৌ-বাহিনী, উপকূল রক্ষী ও কাস্টমস এর টহল নৌ-যান বাংলাদেশের জলসীমা লংঘন করে মান্দারবাড়িয়া পার হয়ে 1নং ফেয়ারওয়ে বয়ার কাছে প্রায়ই ঘোরাফেরা করে। এসব টহল নৌ-যানের ছত্রচ্ছায়ায় পশ্চিম বঙ্গের শাম্বোস, কাকদ্বীপ, ডায়মন্ড হারবার, দীঘা, শংকরপুর প্রভৃতি মৎস্য বন্দরের জেলেরা বাংলাদেশী জলসীমায় অনুপ্রবেশ করে অবৈধভাবে মাছ শিকার করে চলেছে।
ঃঃ দৈনিক ইত্তেফাক ঃ 28.02.2006 ঃঃ
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


