বৃহত্তর দিনাজপুরের হরিপুর উপজেলার গোবিন্দপুরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কুলিক নদীর বাংলাদেশ অংশে নদী ভাঙ্গন রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় বাঁধ নির্মাণ কাজ ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ বন্ধ করে দিয়েছে। বাঁধ নির্মাণ ঠেকাতে বিএসএফ কুলিক নদীর পাড়ে গত 1 সপ্তাহ ধরে সশস্ত্র অবস্থান নিয়ে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গুলিবর্ষণের পাশাপাশি বোমা বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে। গুলি ও বোমার বিকট শব্দ ও উচ্চ আলোতে এলাকার শত শত গ্রামবাসী আতংকিত হয়ে গ্রাম ছেড়ে প্রতিরাতেই পালিয়ে অন্যত্র রাত্রি যাপন করছে। এর প্রতিবাদ জানিয়ে বিডিআর-এর পক্ষ থেকে গত 26 জানুয়ারি বিএসএফ-এর নিকট পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।
গত বুধবার বিকেলে সীমান্তবতর্ী গ্রাম গোবিন্দপুর, তাজিয়া ও ভাতুরিয়ায় গিয়ে দেখা গেছে, বিএসএফ-এর আগ্রাসী কর্মকান্ডে মানুষজন ভীত-সন্ত্রস্ত। কুলিক নদীর তীরে ভারতীয় সীমানায় বিএসএফ লাল পতাকা উড়িয়ে সশস্ত্র অবস্থানে রয়েছে। নদীর পাড়ে বাঁধের ওপর দিয়ে রাস্তায় কোন লোক চলাচল করতে পারছে না। গ্রামবাসী বিকল্প রাস্তা হিসেবে বাড়ির পিছন দিকে ক্ষেত-খামারের মধ্য দিয়ে চলাচল করছে। দিনের বেলায় জরুরী কাজ ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে বের হচ্ছে না। গ্রামবাসী মতিউর (65), ফারম্নক হোসেন (55), এমরান আলী (70)সহ আরো অনেকে জানান, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম। তারা আরো জানান, গত 16 জানুয়ারি বাঁধ নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদার নদীর পাড়ে সিসি ব্লল্ল্লক ও স্পার এনে ফেললে বিএসএফ বাধা দেয় এবং গুলি ছুঁড়ে আতংকের সৃষ্টি করে। বাঁধ নির্মাণ কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা ভয়ে পালিয়ে গেছে। এরপরও বিএসএফ ঐ এলাকার ভারতীয় অংশে সশস্ত্র অবস্থান নিয়ে দিনের বেলায় টহল জোরদার রেখেছে। রাতের বেলায় কাঁটাতারের কাছ থেকে মর্টার শেল নিক্ষেপ করছে। মর্টার শেলগুলো গোবিন্দপুর গ্রামের ওপর এসে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হচ্ছে। গ্রামবাসী জানায়, এ ঘটনার পর স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ কেউ ঐ গ্রামে যাননি। বিডিআর এ ব্যাপারে অবহিত হলে তারা বিএসএফ-এর ছোঁড়া/ বিস্ফোরিত মর্টার শেলের কয়েকটি খোলস সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। বিডিআর দুইটি মর্টার শেল ছোঁড়ার কথা স্বীকার করেছে। কচোল সীমান্ত ফাঁড়ির সাথে যোগাযোগ করা হলে এ সম্পর্কে তারা কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিডিআর-এর জনৈক পদস্থ কর্মকর্তা জানান, কোরবানি ঈদের ছুটির কারণে লোকবল কম থাকায় কোন পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে দিনাজপুর 14 রাইফেলস অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আব্দুল হামিদ জানান, বাঁধ নির্মাণ হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণের জন্য মঙ্গলবার রাতে বিএসএফ ঐ এলাকায় 2টি এ্যালুমোনিয়াম বোমা নিক্ষেপ করে। এতে ঐ এলাকার মানুষের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে এ কথা ঠিক। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে গত 26 জানুয়ারি বিএসএফ-এর নিকট পত্র দেয়া হয়েছে।
ঃঃ দৈনিক ইত্তেফাক ঃ 28.01.2006 ঃঃ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


