এ দেশের চিকিৎসকদের ব্যবহার ভাল নয় ও অনেকে চিকিৎসার নামে বাণিজ্য করার অভিযোগ প্রায় রোগীর এবং তাদের অভিভাবকদের মুখে মুখে। এসব কারণে অনেক স্বচ্ছল ব্যক্তি দেশে চিকিৎসা করাতে উৎসাহিত হন না। তারা প্রতি বছরে চিকিৎসার নামে কোটি কোটি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে বিদেশে যাচ্ছেন। কিন্তু তারা জানে না এদেশে অনেক ভাল চিকিৎসক ও সার্জন রয়েছেন। তারা বিশ্বের যে কোন উন্নয়নশীল দেশের চিকিৎসকদের সমান কিংবা কোন কোন ৰেত্রে বেশী অভিজ্ঞতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন। এমন প্রমাণও রয়েছে। বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা সম্ভব নয়, চিকিৎসকরা বলে দিয়েছেন- রোগীর চিকিৎসা কিংবা অপারেশন করে কোন লাভ হবে না- এ ধরনের কথা বলে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। এই ধরনের অনেক রোগী এদেশের চিকিৎসকদের চিকিৎসায় তারা এখন সুস্থ হয়ে বেঁচে আছেন। এ সকল চিকিৎসকের মূল্যায়ন হয় না। মূল্যায়ন হয় দলীয় চিকিৎসক, কমিশন গ্রহণকারী ও বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের। তাদের দাপটে ভাল ও মেধাবী চিকিৎসকরা কোনঠাসা হয়ে আছেন এমন অভিযোগ অহরহ পাওয়া যায়।
এদেশে বিশিষ্ট সার্জনদের মধ্যে অন্যতম তরম্নণ কার্ডিয়াক সার্জন ডাঃ লুৎফুর রহমান। গত রবিবার তার এক হাজার সফল বাইপাস সার্জারী তালিকা পূরণ হল। তিনি সর্বশেষ ঐদিন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেনের বাইপাস সার্জারী করে এক হাজারে পূরণ করলেন। হৃদরোগীদের জন্য ধানমন্ডি গ্রীনরোডে বেসরকারিভাবে অত্যাধুনিক ব্যবস্থাপনায় গড়ে ওঠা ল্যাব এইড কার্ডিয়াক হাসপাতালে গত 20 মাসে ডাঃ লুৎফুর রহমান এক হাজার সফল বাইপাস সার্জারী করেছেন। তিনি জানান, তিনি শতভাগ সফল বাইপাস সার্জারী করেছেন। এর আগেও তিনি সহস্রাধিক বাইপাস সার্জারী করেছেন বলে জানিয়েছেন।
বাংলাদেশে তিনিই প্রথম বিটিং হার্ট বাইপাস সার্জারী করে আসছেন। এই সার্জারী তিনি পায়ের থেকে ধমনী বা আর্টারী না নিয়ে বুকের দুই পাশ থেকে আর্টারী নিয়ে বাইপাস সার্জারী করে থাকেন। এই পদ্ধতিতে হৃদরোগীদের বাইপাস সার্জারীতে কোন ঝুঁকি নেই। রোগীর রক্তের তেমন প্রয়োজন হয় না এবং দ্রম্নত সুস্থ হয়ে ওঠে ও দীর্ঘ জীবন স্বাভাবিকভাবে অতিবাহিত করে থাকে। পায়ের থেকে আর্টারী নিয়ে বাইপাস সার্জারীতে ঝুঁকি বেশী এবং যে কোন ধরনের জটিলতা দেখা দেয়ার আশংকা থাকে। উন্নয়নশীল অনেক দেশে বিটিং হার্ট বাইপাস সার্জারী গড়ে ওঠেনি। বাংলাদেশে তরম্নণ কার্ডিয়াক সার্জন ডাঃ লুৎফুর রহমান সফল বিটিং হার্ট বাইপাস সার্জারী করায় এদেশের সুনাম বিদেশে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিদেশ থেকে অনেক রোগী তার নিকট প্রেরণ করা হয়ে থাকে। ইতিমধ্যে বিদেশ থেকে ফেরত আসা একজন সংসদ সদস্যের তিনি সফল বাইপাস সার্জারী করেছেন। চিকিৎসাধীন কয়েকজন রোগী জানান, এদেশে এত ভাল কার্ডিয়াক সার্জন রয়েছে, এটা তাদের জানা ছিল না। তাদের মধ্যে একজন রোগী বিদেশে গিয়ে চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করার পর তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছেন। বিদেশের চেয়ে আরো উন্নত চিকিৎসা কম খরচে দেশেই করে তিনি এখন সুস্থ বলে জানিয়েছেন। এছাড়া জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে কার্ডিয়াক সার্জন ডাঃ নাসির উদ্দিন হৃদরোগীদের সফল সার্জারী করে আসছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় গ্যাসট্রোএন্ট্রালজী বিভাগের অধ্যাপক মাহমুদ হাসান, নাক-কান-গলা বিভাগের অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত, মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবিএম আবদুলস্নাহ, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল গ্যাসট্রোএন্ট্রালজী বিভাগের অধ্যাপক মিয়া মাশহুদ ও বার্ন ইউনিটের ডাঃ শ্যামনত্দ লাল সেনসহ অনেক স্বনামধন্য চিকিৎসক রয়েছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে নিয়মিত ইনকাম ট্যাক্স প্রদানকারী হিসেবে অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত সনদপ্রাপ্ত।
ঃঃ দৈনিক ইত্তেফাক ঃ 17.05.2006 ঃঃ
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



