“আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাইনা, দেশের মানুষের শান্তি চাই।”- না, এটা আমার কথা নয়। এটা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা। তিনি না চাইলেও দেশের প্রধানমন্ত্রী!
সংবাদে দেখলাম দক্ষিন কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী চাং হং-উন পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। ফেরিডুবি প্রতিরোধ ও উদ্ধার তৎপরতায় ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে এ ঘোষণা দেন তিনি। সংবাদটা শুনে খুব অবাক হলাম। ইনার তো বাংলাদেশে এসে রাজনীতির তালিম নেওয়া প্রয়োজন ছিল।
তিনি আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীর মত ঢাকঢোল পিটিয়ে শান্তি কামনা করেন নাই। তিনি কাজে প্রয়োগ করিয়ে দেখিয়েছেন।
ফেরিডুবিতে ১৮৭ জন শিক্ষক ও ছাত্র মারা গিয়েছেল। আর এতেই পদত্যাগ!
আমাদের শিক্ষকরা রাজপথে তাদের ন্যায্য দাবী আদায়ে আন্দোলন করলে তাদের গুলি ও গরম পানি নিক্ষেপ করে হত্যা করা হয়।
মাত্র শতাধিক লোকের মৃত্যুতেই দক্ষিন কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। অথচ তাজরিন গার্মেন্টস এ আগুন বা রানা প্লাজা ধ্বসে সহস্রাধিক লোকের মৃত্যুতে পদত্যাগ তো আশাতীত ব্যাপার, মহান সংসদে এ বিষয়ে কথা বলার সময়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী হাস্যজ্বল ভঙ্গিতে বলেন, যারা মারা গেছেন তারা মালামাল সরাতে গিয়ে বের হতে পারেনি। আরও বলেন, এরকম দুর্ঘটনা হতেই পারে।
আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মখা আলমগীর উদ্ভাবন করেছিলেন, তার সেই কুখ্যাত হাস্যরসের 'ঝাকুনি ত্তত্ব'। আমাদের কারও পদত্যাগ তো দূরের কথা দায়িত্ব থেকে জোর করে সরিয়ে দিলেও আমাদের রাজনীতিবিদরা পদত্যাগ করে না। যেমনঃ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তর এপিএস এর পচাত্তর লাখ টাকার কেলেংকারি ধরা পড়ার পর তাকে রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরও বেহায়ার মত দপ্তরবিহীন মন্ত্রী হিসেবে সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করেছেন।
আমরা এসব দেখে এতটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছি যে, দক্ষিন কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দেখে বলতে ইচ্ছা করছে লোকটা কি আসলে বোকা নাকি!
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



