বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি বা প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে কেউই তেমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করছে না। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সই বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি এবং তৈরি পোশাক শিল্পের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আয়ের খাত।
স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিবছর ক্রমান্বয়ে এই আয় বৃদ্ধি পেলেও গত অর্থ বছরে তা প্রথম বারের মত হ্রাস পায়। এর মূল কারণ মধ্যপ্রাচ্য, ইতালিসহ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনশক্তি আমদানিকারক দেশে বাংলাদেশের জন্য শ্রমিক ভিসা বন্ধ থাকায় বিদেশ থাকায় প্রবাসীরা দেশে ফিরে গেলেও নতুন কেউ প্রবাসে আসতে পারছে না।
রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যে কেউ এদিকে নজর না দিলেও বাস্তবতা ঠিকই ধরা পড়েছে দেশের অর্থনীতিতে। গত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার কয়েক শতাংশ কমে যাওয়া এর অন্যতম কারণ। সরকারের দুর্বল পররাষ্ট্রনীতিই এর মূল কারণ। সরকারের পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ নামে দুটো পৃথক মন্ত্রণালয় থাকলেও আসলে এদের কাজ কি হয়ত এটাই এরা ঠিকমত জানে না।
আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইউরোপ, আমেরিকা বা পরাশক্তি দেশগুলোর মত বিশ্ব নেতৃত্ব বা কর্তৃত্ব বা নিয়ন্ত্রন নিয়ে মাথা ঘামানো বা ব্যস্ত থাকতে হয় না। আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান কাজই সম্ভবত কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে জনশক্তি রপ্তানি ও তৈরি পোশাক রপ্তানি কিভাবে করা যায় এটা নিয়ে ব্যস্ত থাকা। কিন্তু এর কোনটাই সঠিকভাবে হয় বলে মনে হয় না।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও কোন রাজনৈতিক পক্ষ এটা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না। তাদের সবার লক্ষ্যই দেশের জনগণকে বোকা বানিয়ে কিভাবে ক্ষমতায় থাকা যায় বা ক্ষমতায় আরোহণ করা যায়। দেশের উন্নতি নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যথা নেই।
আশা করব আমাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দেশের উন্নয়নের কথা চিন্তা করে এই বিষয়ে গুরুত্ব দিবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



