শুধুমাত্র মানসিক ভারসাম্যহীনরাই বিপদগ্রস্ত মানুষের সাথে তামাশা করতে পারে৷ কোন সুস্থ ও বিবেকবান মানুষের পক্ষেই আতঙ্কিত, নিরাপত্তাহীন, স্বজনহারা মানুষের সাথে মশকরা করা সম্ভব নয়৷
আমাদের দেশের কোন চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড, অপহরণের ঘটনায় দেখা যায় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন অপরাধীদের গ্রেফতার করার জন্য৷ এরপর পরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আদাজল খেয়ে নেমে পড়ে অপরাধীদের গ্রেফতারের জন্য৷
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ না পেলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পর্যন্ত কিছুই করতে পারেন না৷ তিনিও অপেক্ষায় থাকেন উপরের নির্দেশের৷ তারমানে কোনটা অপরাধ আর কোনটা অপরাধ নয় অথবা কোন অপরাধীকে আটকের চেষ্টা চালাতে হবে আর কোন অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধারে অভিযান চালাতে হবে এর সবই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়৷ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছুই করার ক্ষমতা নাই৷
প্রধানমন্ত্রীই কে অপরাধী আর কে অপরাধী নয় তা তার কার্যালয়ে বসে নির্ধারণ করেন৷ তিনি তার কার্যালয়ে বসে যেহেতু নির্ধারণ করেন সেহেতু যত দ্রুত নির্দেশ দিতে পারেন তত দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের কাজে নেমে পড়তে পারে৷ যেমনঃ রিজওয়ানার স্বামীর উদ্ধারে তিনি দ্রুত নির্দেশ দেওয়ায় তাকে উদ্ধার করা হয়েছিল৷ যদিও তাকে কে অপহরণ করেছিল এটা জানা যায়নি৷ এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কারও চাপেও তাকে ফেরত দিয়েছিল এমনটাও জানা যায়নি৷ বরং অপহরণকারীরা নিজেরাই ছেড়ে দিয়ে যাওয়ায় অনেকে এটাকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর সাজানো নাটকও মনে করেন৷
কথা হল প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর যেকোন অভিযান শুরু করাতে একটা বিষয় পরিস্কার যে, দেশের লিখিত আইন দ্বারা সংজ্ঞায়িত অপরাধ কর্ম এখন পুরোপুরি অচল৷ শুধু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত কথাটাই আইন বলে বিবেচিত৷
নারায়নগঞ্জের অপহরণের ক্ষেত্রেও আমরা দেখলাম প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের অপেক্ষা করতেছিলেন স্বয়ং স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও! সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কথা উল্লেখ করাই বাহুল্য! যাইহোক প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিলেন ঠিকই৷ কিন্তু নির্দেশ প্রদানের জন্য অপেক্ষা করলেন তিনদিন৷ ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে৷ তারপরও নিজ দলের লোক হওয়ায় তার নির্দেশ দেরিতে হলেও পাওয়া গিয়েছিল৷ কিন্তু অধিকাংশ সাধারণ মানুষ এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রে কখনই তাদের উদ্ধারের নির্দেশ আসে না৷ আর ফলাফল তো আমরা নিয়মিতই পাচ্ছি৷
যাইহোক এবার আসি সেই প্রথমের কথায়৷ প্রধানমন্ত্রী যেহেতু অপরাধ কর্ম ও অপরাধী নির্ধারণ করে দেন তার কার্যালয়ে বসে সেহেতু নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশের অপরাধীদের তারই নির্ধারন করার কথা! আমরা ভালভাবেই একটা বিষয় অনুধাবন করতে পারি বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজেদের জীবন বাঁচানোই দায় সেখানে দিনে দুপুরে রাস্তার মধ্য থেকে সাত আটজন মানুষকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার মত দুঃসাহস দেখানো অসম্ভব ব্যাপার৷ সাধারণ মানুষও সেটা মনে করে না৷ নিহতের আত্মীয়স্বজনও সরাসরি নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তিকে দায়ী করছে৷ কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী অপহরণের ঘটনায় সরাসরি বিএনপি জামায়াতকে দায়ী করলেন৷ তিনি প্রকৃত অপরাধীদের বাঁচানোর জন্য ও তাদের অপরাধ কর্মে উৎসাহিত করার জন্য উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে নিহতের শোকাহত আত্মীয়স্বজন তথা দেশবাসীর সাথে তামাশা করে নিজের মানসিক ভারসাম্যহীনতার প্রমাণ দিলেন৷
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মে, ২০১৪ রাত ২:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



