আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষ৷ কিন্তু আমাদের দেশের মানুষের গণকবর পাওয়া যায় থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালেশিয়ার জঙ্গলে৷ এটা যেন রূপকথাকেও হার মানায়৷ আজ থেকে অনেক বছর পর যখন আমাদের উত্তরসূরিরা ইতিহাস থেকে জানতে পারবে বাংলাদেশের মানুষের গণকবর পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাওয়া গিয়েছিল তখন হয়ত অনেকে রূপকথার কোন কল্পকাহিনী বলে ভুল করবে৷কারণ বিদেশের মাটিতে দু-একজন মানুষের মৃত্যু হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়৷কিন্তু একই দেশের শতশত নাগরিকের গণকবর বিভিন্ন দেশে পাওয়াটা বিস্ময়কর!
বাংলাদেশ নাকি উন্নতির শিখরে পৌছে যাচ্ছে বলে একদল মানুষ জিগির তুলছে তখন কর্মহীন অভুক্ত মানুষ কাজের খোঁজে অবৈধ পথে পাড়ি জমিয়ে লাশ হচ্ছে৷ লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলেও কথা ছিল৷ তাদের লাশ তো দূরের কথা মৃত্যুসংবাদও প্রিয়জনের কাছে পৌছায় না৷ আর বৈধ পথে যে যাবে সে সুযোগ তো নাই৷
দেশে পত্রপত্রিকার টুটি চেপে ধরে আইন করায় দেশের সমস্যা নিয়ে কোন কিছু লিখতে না পারায় হয়ত দেশ বিদেশে সবাই জানতে পারছে না৷ কিন্তু দেশে অভাব যে ভয়াবহ তা তো শুধু ভুক্তভোগীরাই বুঝতে পারছে৷ আর এসব মানুষকে বিভুইয়ে জীবন দিয়ে প্রমাণ করতে হচ্ছে আমরা অভাবে আছি৷
বাংলাদেশ কিছু দ্বীপরাষ্ট্র ব্যতীত পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ৷ এই দেশে কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ থাকায় জনশক্তি রপ্তানি করে দেশের জনসংখ্যা ও বেকার সমস্যার চাপ কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট পন্থা৷
জনশক্তি রপ্তানীর জন্য প্রয়োজন জনশক্তি আমদানিকারক দেশসমূহের সাথে সুসম্পর্ক ও কুটনৈতিক তৎপরতা৷ কিন্তু বর্তমান সরকারের শুধুমাত্র ভারত আর রাশিয়া ছাড়া পৃথিবীর আর কোন রাষ্ট্রের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নাই৷ ফলে জনশক্তি রপ্তানীও পুরোপরি বন্ধ হয়ে আছে৷ আর তাই কর্মসংস্থানের খোঁজে অবৈধ পথে বিদেশে গিয়ে গণকবরেই হচ্ছে শেষ ঠিকানা৷
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মে, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



