somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৬ই মে'র শাপলা চত্বর ঃবালাকোটের বাংলা প্রান্তর

০৮ ই মে, ২০১৪ বিকাল ৫:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইসলামের শুরু যুগ থেকেই,যখনই যেখানে ইসলামের উপর কিংবা আল্লাহ,নবির উপর কোন আঘাত এসেছে,মুসলিম উম্মাহ তা নিজের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে প্রতিহত করেছেন।কখনো বিনা প্রতিরোধে বিনা আঘাতে মুসলিম উম্মাহ ইসলামের উপর কোন আক্রমনকে ছেড়ে দেয় নি।সেই সাহাবী যুগ থেকে যার শত শত উপমা বিদ্যামান রয়েছে। ইতিহাসের পাতা সে সকল ঘটনা দিয়ে ভরপুর। কোন কোন যুগে এ ধরনের ঘটনার মাত্রা ছিল বেশি,আবার কখনো কম।এই ধরণের ঘটনা কখনো এসেছিল শাসকদের চরিত্র এবং শাসনতান্তিক বিচ্যুতির মধ্য দিয়ে।
আবার কখনো তা প্রকাশ পেয়েছিল ভ্রান্ত আকীদার রেশ ধরে।কখনো এসেছিল আল্লাহ এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অবমাননা এবং কটুক্তির কালো অবয়ব নিয়ে।কিন্তু মুসলিম উম্মাহ সবখানেই সর্বক্ষেত্রে এসবের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে চুলেছিল।এজন্য অনেকেই দীনের উপর এমন বিচিত্র হামলা আর উম্মাহর তুলনাহীন প্রতিরোধকে ঐতিহাসিক পারস্পরা বলেছেন।
দীনের উপর আঘাত এবং উম্মাহর কঠিন প্রতিরোধেরএমন একটি ঘটনা ঘটেছিল দুইহাজার তেরো সবের পাচঁ -ছয় ই মে'তে।
পথভ্রষ্ট একদল অবিশ্বাসী তরুন-তরুণীদের দল "যুদ্ধাপরাধীরর"ফাঁসির কথিত দাবীর মুখোশ পরে ইসলাম এবং মুসলমানদের নির্মূলের ষড়যন্ত্র নিয়ে নেমেছিল শাহবাগে।উপরে যুদ্ধাপরাধীর মুখোশ পরলেও ভেতরে চলছিল ইসলাম এবং ইসলামি সংস্কৃতি নির্মূলের গভীর ষড়যন্ত্র। তাদের এই কালো থাবার গোপন রহস্য উম্মোচিত হয়েছিল, তাদেরই এক নরককীটের প্রাণনাশের পর।পেছন থেকে তাদের এই কর্মকান্ডে উৎসাহ দিচ্ছিল বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সেক্যুলার সরকার। এই নরককীটের প্রাণনাশের পর তাদের সকল ষড়যন্ত্র জনস্মুখে প্রকাশ হয়েগেল।একে একে বেরিয়ে আসতে লাগলো ভয়ংকর সব ষড়যন্ত্র। ইসলাম এবং মুসলামানের বিরুদ্ধে ভিবৎস সব চক্রান্ত বেরিয়ে গেল।
মহান রাব্বুল আলামীন এবং কোটি মুসলিম উম্মাহর প্রাণের স্পন্দন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র চরিত্রের উপর এমন নগ্ন হামলা! নিষ্ঠুর আক্রমন!
এদেশের কোটি মুমিন তা কখনোই সহ্য করবে না।
শুরু হয়েগেল প্রতিটি মুসলিম উম্মাহর অন্তরে ইসলামি চেতনার গণবিস্ফোরোন।
বেয়াদব নাস্তিকদেরকে তারা কখনোই ছাড় দিবে না।
বাংলাদেশের মুসলিম উম্মাহর মুকুট বিহীন সম্রাট, আল্লামা শাহ আহমদ শফির ডাকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতৃত্ব এ, সরকার এবং বামপন্থীদের সব-ধরণের নাটকীয় বাধার প্রাচীর ভেঙ্গে, নবিপ্রেমিক তাওহীদী জনতা ৬ই এপ্রিল শাপলাচত্বরে গণ-জাগরণ সৃষ্টি করেছিল।এর পর সারাদেশজুড়ে চলতে থাকে নবিপ্রেমিকদের শানে রেছালাত মহা-সমাবেশের শান্তিপূর্ণ অগ্রযাত্রা।
ঠিক একমাস পর ৫ই মে শাপলায় আবারো গণ-জাগরণ সৃষ্টি করেছিল এ দেশের কোটি জনতা।
কিন্তু সেক্যুলার সরকারের সন্ত্রাসী বাহীনি দিনভর শান্তিপ্রিয় নিরস্ত্র জনতার উপর গুলিবর্ষণ, হামলা,হত্যা,অগ্নিসংযোগ করে।
৬ই মে'র রাত্রে ঘুমন্ত ক্লান্ত মুসল্লীদের উপর দশহাজার সসস্ত্র বাহীনি দেড়লক্ষাদিক গোলা-বারুদ নিয়ে হায়েনার মত ঝাপিয়ে পড়ে।
শাপলাচত্বর এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে,মিডিয়াকে সরিয়ে দিয়ে নির্বিচারে গণহত্যা চালানো হয় ঘুমন্ত মুসল্লীদের উপর।
সেই নরকীয় অভিযানে কতজন নিখোঁজ, কতজন নিহত হয়েছিল তা এখনো অন্ধকারেই রয়েগেছে।
৫ই মে'র দিবাগত রাত,মানব ইতিহাসে একটা কলঙ্কময় রাত হিসেবে বিবেচিত হবে।এই দিনটি বাংলাদেশের মুসলমানদের নিকট স্বাধীন বাংলার নতুন বালাকোট হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবমাননার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠা জনতার রক্তে রঞ্জিত ইতিহাসের তুলনা একমাত্র ঐতিহাসিক বালাকোট ময়দানের শহীদদের আত্নদানের সাথেই হতে পারে।
১৮৩১সালের ৬ই মে,বালাকোট প্রান্তরে ইংরেজ -বেনিয়াদের বিরুদ্ধে আজাদী আন্দোলনের বীর শহীদদের শাহাদাতে বাহ্যত মনে হয়ে ছিল ঈমানদারদের পরাজয় এবং ইংরেজ দের বিজয়।
কিন্তু,ইতিহাস বলে ভিন্ন কথা।
সেই দিনের বীর শহীদদের আত্নাদান,স্বাধীনতার চেতনায় মানুষ যেভাবে যুগ যুগ ধরে স্মরণ রেখেছিল,ঠিক তেমনিভাবে ২০১৩ সালের৬ই মে'র নবিপ্রেমিক জনতার "শাহাদাত " বাংলাদেশেরর মুসলমানদের ঈমানী চেতনার প্রোজ্জল মশাল হিসেবে চির-স্মরণীয় হয়ে থাকবে।অন্যদিকে ইতিহাসের ঘৃণিত খুনি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে আজকের ক্ষমতাসীন সেক্যুলার সরকার......
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০১৪ রাত ৮:২৫
৯টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×