ঈদকার্ড বাংলার বিলুপ্তপ্রায় সংস্কৃতির মধ্যে একটি । ঈদকার্ড মূলত এমন একটি মাধ্যম যার মাধ্যমে প্রেমিক-প্রেমিকা, বন্ধু , শুভাকাঙ্ক্ষী দের ঈদের শুভেচ্ছা দেয়া হয় । এক সময় মনে হতো কাওকে ঈদের শুভেচ্ছা দেয়ার জন্য ঈদকার্ড ই একমাত্র মাধ্যম ।
আগে যখন খুব ছোট ছিলাম ।।তখন রমজানের শুরুতেই এলাকার প্রতি মোড়ে মোড়ে ঈদকার্ড এর দোকান দেখা যেত, এগুলো সাধারনত ঈদের আগের দিন অথবা ঈদের দিন পর্যন্ত স্থায়ী হত ।বিশেষ করে ঈদের কিছুদিন আগে যখন সব ফ্রেন্ড বাসায় আসতো তখন ওইসব দোকান গুলো তে দিনভর আড্ডা চলত । সেই আড্ডা গুলো এখনো স্মৃতি হয়ে গেছে ।
বাসায় আসলেই মনে হইত ঈদ মানেই নতুন জুতার পাশাপাশি ঈদ মানেই ঈদ কার্ড । কিন্তু এখন আর এই ঈদকার্ডের দোকান আগের মতো দেখা যায় না । বর্তমান এই ডিজিটাল এস এম এস এর যুগে ঈদকার্ডের ব্যবহার প্রায় নাই বললেই চলে । এখন আর এলাকায় আসলে আগের মতো ঈদকার্ডের দোকান দেখা যায় না । এখন আর ঈদ আসলে কেউ কাওকে ঈদ কার্ড দেই নাই । একসময়ের অতি প্রচলিত প্রথা আজ বাংলার ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে । বর্তমানে ঈদের শুভেচ্ছা পাঠাতে সবাই এস এম এস নির্ভর হয়ে গিয়েছে । যান্ত্রিক এই জীবনে সবকিছুই যান্ত্রিক হয়ে গিয়েছে , এখন আর কাগজের খামে আঁকা নকশা কেউ কাওকে দিতে চায় না । কিন্তু ঈদকার্ডের মাধ্যমে আপনি ঈদের যে শুভেচ্ছা পাঠাতেন আমি নিশ্চিত এস এম এস কিংবা ফেসবুকে এর শতকরা ১০ ভাগ ও পূরণ করতে পারবেন না ।
আজ অনেক ছোট শিশুরা জানেই না ঈদকার্ড কি । আমি আমার এক ৫ বছরের কাজিন কে বললাম ঈদকার্ড কি ? সে আমাকে উত্তর দিল ঈদ কার্ড হচ্ছে ঈদের সালামি হিসেবে দেওয়া মোবাইলের রিচারজ কার্ড। এই হোল আমাদের নতুন প্রজন্মের অবস্থা । একসময় এমন অবস্তা হতে পারে কেউই ঈদকার্ড চিনবে না । তখন কেউ কেউ হইত একে রূপকথার মিথ্যা গল্প বলেই বিশ্বাস করবে । হইত তখন ঈদকার্ডের আলোক চিত্র প্রদশ্যিত হবে । তখন এটি হবে আমাদের বিলুপ্ত সংস্কৃতি ।
আমরা কেউই চাইবো ঈদকার্ড আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যাক । কারন এটা আমাদের সংস্কৃতি , এটা আমদের ঐতিহ্য । আমরা একে হারিয়ে যেতে দিতে পারি না । তাই আসুন আমরা ঈদকার্ডের মাধ্যমে আমাদের প্রিয়জনকে শুভেচ্ছা জানাই । আরও অনেক কিছু লিখার ছিল .. লিখতে পারলাম না বলে দুঃখিত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



