somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইরান আমেরিকা যুদ্ধ এবং নস্ত্রাদামুস এর ভবিষ্যৎবানী

০৭ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, “ইরানে মার্কিন হামলা প্রাথমিক পূর্বাভাসের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ইরানে হামলার চারটি প্রধান লক্ষ্য রয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রথমত, আমরা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করছি। দ্বিতীয়ত, তাদের নৌবাহিনী নিশ্চিহ্ন করছি। তৃতীয়ত, বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসে পৃষ্ঠপোষক দেশ যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র না পায়, তা নিশ্চিত করছি।” এই জাতীয় স্বস্তা সেন্টিমেন্টের অভিযোগ তুলে আমেরিকা ইতিপূবে বেশ কিয়েকটি দেশ ধ্বংশ করেছে। অনেক দেশের হাজার হাজার মানুষের রক্ত তারা বয়ে বেড়াচ্ছে। ইরাক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে- এমন অভিযোগ এনেই যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন সরকার বিতর্কিত একটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল এবং ইরাক নামক রাষ্ট্রটির ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছিলো। ইরাকের রাসায়নিক অস্ত্র সম্পর্ক ত্রুটিপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের ভুল ছিল না হাজার হাজার ইরাকির হত্যার কারন হয়ে দাড়িয়েছিলো। এই আমেরিকার আফগানিস্তান দখল করে নেয়। এখানেও ছিলো একটি অভিযোগ। আফগানিস্তোর লাখ মানুষের রক্তের দায় নিয়ে এবার শুরু করেছে ইরানের সাথে। ঠিক একই অভিযোগ পারমানবিক বোমার উৎপাদনের প্রচেষ্টা করছে ইরান।

আধুনিক রাষ্ট্রযুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরায়েলের রয়েছে অত্যাধুনিক বিমানশক্তি ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। অন্যদিকে ইরান দীর্ঘদিন ধরে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীর মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি যুদ্ধ দীর্ঘ হলে এটি রূপ নিতে পারে “ক্ষয়যুদ্ধে”—যেখানে উভয় পক্ষই আঘাত হানবে, কিন্তু কেউই দ্রুত চূড়ান্ত জয় পাবে না। শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক টেবিলেই হয়তো সমাধান খুঁজতে হবে। অর্থাৎ সামরিক বিজয়ের চেয়ে রাজনৈতিক সমঝোতাই বেশি সম্ভাব্য পরিণতি বলে মনে হয়। কিন্তু আমেরিকার মতো একটি বিশাল শক্তিশালী একটি রাষ্টের সাথে ক্ষুদ্রতম রাষ্টে ইরান যে দূর্দান্ত প্রতাপ নিয়ে যুদ্ধে এগিয়ে যাবে এটি কি কেউ ভাবতে পেরেছে? দীঘদিন ধরে ইরান নিজেকে তৈরী করেছে। ইরান হয়তো বুঝতে পেরেছিলো পূর্বের ইসলামিক দেশগুলোর মতো তারও কপালে যুদ্ধ আছে। তাই সে নিজেকে সাজিয়েছিলো যুদ্ধের রমরমা পোষাকে। কেউ হয়তো বোঝেনি। যেটা বোঝা গেলো ২০২৬ সালে ইরান ইসরাঈল যুদ্ধে। ইরানের ব্যপক মিসাইল সক্ষমতা আমেরিকা ইসরাইলের মতো শক্তিশালী দুটি রাষ্ট্রের ব্যপক ক্ষতিসাধন করতে সক্ষম হয়েছে।

কিন্তু ইরানের এই উন্নত মিসাইল সক্ষমতা এবং সামরিক সরঞ্জমাদি বিশ্বের কিছু আলোডিত ভবিষ্যতবক্তার ভবিষ্যতবানীর দিকে ইঙ্গিত করছে। বিশেষ করে ফ্রান্সের ভবিষ্যতবক্তা নস্ত্রাদামুস। Nostradamus Dangerous Prediction: নস্ট্রাদামুসের ২০২৬ সালের হাড়-কাঁপানো ভবিষ্যদ্বাণী। ফরাসি ভবিষ্যদ্বক্তা মিশেল দে নোস্ট্রাদামুস (Michel de Nostredame)-এর ভবিষ্যদ্বাণীগুলি centuries (শতাব্দী) ধরে জন্য বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে আলোচনা চলছে। নস্ত্রাদামুস লিখেছেন-তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়বে পশ্চিমী দুনিয়া। ভয়ংকর মৌমাছির দল ঢেকে দেবে আকাশ। এখানে ইরানি কামিকাজি ড্রোনের আত্মঘাতি হামলায় আমেরিকার দিশেহারার কথা তুলে ধরা হয়েছে। 2026 নিয়ে নস্ত্রাদামুস এর ভবিষ্যৎবানী সতিই চমকপ্রদ তথ্য দেয়। আমেরিকান ভবিষ্যৎবক্তা জিন ডিকশনের।“দি ম্যান অব দি মিডল ইষ্ট হু ইজ টুমরো” নামের মধ্যপ্রাচের একজন দূধর্ষ মানুষের কথা উল্লখ করা হয়েছে। যে মানুষটির সাথে যুদ্ধ করতে গিয়ে পশ্চিমা সভ্যতা ধ্বংশস্তুপে পরিনত হবে। এবং মধ্যপ্রাচের এই মানুষটির শত শত জাহাজ ভর্তি গোলা ইউরোপিয় ইউনিয়নে আঘাত হানবে। এবার আসুন আমরা আলোচনা করি বিশ্বখ্যাত আমেরিকান অ্যানিমেটেড ফিল্ম সিম্পসনস নিয়ে। যা ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত কার্টুন সিম্পসনস (The Simpsons) যা ব্যপক আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে পড়েছিলো। ম্যাট গ্রোনিং সৃষ্ট এই ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুনটি স্প্রিংফিল্ড শহরের কাল্পনিক সিম্পসন পরিবারের দৈনন্দিন জীবন, সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে তৈরি। এটি তার নির্ভুল ভবিষ্যতের ভবিষ্যদ্বাণীর জন্য পরিচিত। ১৯৯৮ সালে সম্প্রচার হয় দ্য সিম্পসন্সের ‘হোয়েন ইউ ডিশ আপুন অ্যা স্টার’ পর্বটি। এখানে দেখানো হয়, ডিজনি টুয়েন্টিএথ সেঞ্চুরি কোম্পানিটি ফক্স কোম্পানি কিনে নিচ্ছে। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর ৫২.৪ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে ডিজনি টুয়েন্টি-ফার্স্ট সেঞ্চুরি কোম্পানিটা ফক্স কিনে নেয়। এই সিম্পসন কাটুনে ইরান ও ইসরাইল যুদ্ধে একটি ভবিষ্যতবানী বর্ননা করা আছে সাংকেতিকভাবে। কাটুনটিতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার মতো ঘটনারও বর্ণনা করা আছে। শুধু তাই নয় কোন এক ১২ এপ্রিল ট্রাম্প নামের আমেরিকান প্রেসিডেন্ট এর মৃত্যুর ঘটনারও বর্ননা দেওয়া হয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো ২০২৬ সাল থেকে যে যুদ্ধের বণর্ণা ভবিষ্যৎবানী আছে তার সাথে ইরানের ঘটনার যথেষ্ট মিল পাওয়া যাচ্ছে। কারন মধ্যপ্রাচের রাষ্ট্রসমূহ যেখানে তেল বেচে আর খায় সেখানে ইরানের মতো একটি রাষ্টের এত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন সামরিক সক্ষমতা সত্যিই চমকে দেবার মতো। তাহলে সময়ই বলে দেবে মুসলিম বিশ্বের উত্থান আদ্যৗ সম্ভব কিনা? দেখা যাক ভবিষ্যতবানী এবং আগামী বিশ্বের অগ্রযাত্রা।

লেখক : রাশিদুল ইসলাস লাবলু
গবেষক , কলামিষ্ট
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:০৮
৭টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী, কিন্তু ঘরে ফিরে তিনি একজন বাবা

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:২৩



বেশিরভাগ মানুষ বিজ্ঞানীদের জীবনের সাফল্যটাই দেখে; কিন্তু সেই সাফল্যের পেছনে কত বছরের শ্রম, ত্যাগ আর ব্যক্তিগত জীবনের কত কিছু বিসর্জন দিতে হয়েছে, সেই গল্পটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের অজানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংবাদপত্র

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৩



একালে কি কেউ কেউ সাতসকালে এখনো অপেক্ষায় থাকেন কখন আসবে সংবাদপত্র?
একদা যিনি সংবাদপত্র বয়ে আনতেন তার সাথে কতো মান- অভিমানের খেলা!
এমনও হয়েছে বিলম্ব দেখে তার আগমনী পথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ, উদ্বাস্তু এবং রোহিঙ্গা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪২



দেশভাগের অনেক পরে আমার জন্ম।
আমি দেশভাগের ইতিহাস জানি। দেশভাগের পরে যা হয়েছে, অতি মন্দ সব ঘটনা ঘটেছে। লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং হাজার হাজার নারী নির্যাতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেশে এখন শেখ হাসিনা প্রয়োজন- নাকি আমরা তাঁর সময়ের কিছু বাস্তবতাকে নতুন করে অনুভব করছি?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭


এদেশে এখন শেখ হাসিনা প্রয়োজন- নাকি আমরা তাঁর সময়ের কিছু বাস্তবতাকে নতুন করে অনুভব করছি?

একটা সময় ছিল- শেখ হাসিনার নাম উচ্চারণ করলেই কারও চোখে ক্ষোভ, কারও মনে শ্রদ্ধা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুক্তিযোদ্ধাদের তরুণ প্রজন্ম পছন্দ করে না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৮


২০২৫ সালের ডিসেম্বরের কথা। একদিন মিরপুরে গেলাম, যে স্কুলে পড়েছি সেটার কী অবস্থা দেখতে গেলাম। এখনো কয়েকজন শিক্ষক আমাকে চেনেন। পুরাতন জায়গা বলে একটা টানও ছিল। দীর্ঘ প্রায় ১৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

×