ঐ থরথর ধরনীর বুকে কম্পন ওঠে বাজি
ঐ শোনা যায় বিশ্বগ্রাসী ও ইস্রাফীলের বাঁশি
আজিও মুমিন চোখ বুজে দ্যাখো পূব-সায়নার ধূ-ধূ ?
থাকিছো বাঁচিয়া কলেমা পড়িয়া ‘মুসলিম’ নামে শুধু ?
সুব্হে সাদিকে ঘুমায়ে পড়িছো, ফযর গিয়াছে ফাঁকি !
চোগা-শেরওয়ানী পড়িয়া পিয়েছো মদ- হাসিয়াছে সাকী ।
পড়িতেছো তব ল-রিপোর্ট কিনি বাঁচায়ে রাখিতে পেশা
এতকিছু পড়ে পড় নি’ক হায় যোহর, আসর, এশা
তব হাবেলীতে চোখ-মুখ বাঁধি কুরানে রাখিছো ফেলি
দেখনি’ক তবু একবার তার পৃষ্ঠাখানিরে মেলি
‘কাফনে’ দাফন করিতে যাইয়া ধরেছো ঈমানী সাজ
অশ্রু তবুও ঝরে নি ক’ফোটা- শুকনো জায়নামাজ !
নিশ্চুপ-নিঝ্ঝুমে চলিতেছে মহাবিচারক-সেরেস্তা
দু’স্কন্ধে রাখিছে হিসাব দুই দ্রঢ়ীয়ান ফেরেস্তা
মনে রেখো, তব যত পাপ আর পঙ্কিলতার ভার
তোমারই কাঁধেতে বয়ে নিতে হবে সুকঠিন সাজা তার
তব যত সংশয়-পরিহাস তোমারে করাবে অগ্নিস্নান
তব সম্পদ, অর্থ-অদ্রি সমুখে তাহার হইবে ম্লান
চক্ষে মোহর, অর্চিঃরে ফুল ভাবিছো তাই এ দরবারে ?
কারবালা এথা- রক্তপ্লাবন- আগুন ! আগুন চারধারে !
সত্যই তব আঁখিতে মোহর- কর্ণেতে সাঁটা কঠিন বেড়
নতুবা কি করি পিয়ো নাই সুধা ‘লা-ইলাহ্-ইল্লাল্লা’-এর
বদলে তাহার যেই কাযাবের আজাব লয়েছো ঠোঁটে
তার যার্রাত অংশে নরকে পণব বাজিয়া ওঠে !
এই দরবার জেনে রেখো শুধু ক্ষণিকের প্রহেলিকা
প্রদীপের সম একদা নিভিয়া যাইবে প্রসৃত শিখা
নিভিবে সূর্য, নিভে যাবে তব সৌদামিনীর আলো
এই ধরাপারে নামিবে তমসা, ঘোর অমানিশা- কালো
কেমনে তাদেরে দানিবে পরান, ওহে সামান্য নৃ !
আসিবে না কাজে সেই ক্ষণে কোন পুতুল-জয়শ্রী ।
হায় মুসলিম ! তোমার ঈমান তাসের ঘরের মত
তুলেছো গড়িয়া ? বাতাসে উড়িয়া যেতেছে সহজে কত !
বার্তাকু-তলে বসে যাবে হাট- এখনও পাও নি টের ?
প্রশ্নের ছলে করছো ব্যাঙ্গ, ‘আর কতখানি দের ?’ !!
কান পাতো বুকে শুনিবে তোমার ক্ষুদ্রকায়ার গানে
কতখানি বেগে ছুটিছে সে তব মৃত্যুবিবর পানে !

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



