ভিজে চুপচুপ হয়ে ওপরে উঠে এলাম । আঙ্কেল-আন্টি দুজনেই বাসায় । তারা শঙ্কিত মুখ করে তাকিয়ে ছিল । কিছু বলল না যদিও । তবে চেহারার ভঙ্গীই বলে দেয়, ‘এই ছেলে উন্মাদ ! বদ্ধ উন্মাদ !’ । আমাকে নামতে দেখেই ভড়কে গিয়েছিলেন । বাইরে ঝড় হচ্ছে । বিজলী চমকাচ্ছে ঘন করে । এর মধ্যে এই ছেলে বাইরে যাচ্ছে কেন ? নীচে নামতেই বর্ষা ফুলে ফেঁপে উঠল । আমি ভিজতে ভিজতে মগবাজার মোড়ের দিকে এগুলাম । এমন উপলক্ষ্য খুব বেশী একটা আসে না । এমন জমাট ঝড়-বৃষ্টিতে ভেজা হয় না অনেকদিন । তার ওপর ভ্যাপসা গরমে ঢাকার অবস্থা এতোগুলো দিন ধরে ছিল বেহাল । মগবাজারে ফেলে রাখা কনস্ট্রাকশনের ধূলিবালি নিয়ে টর্নেডো-টাইপ কিছু একটা হচ্ছে কিছুদিন যাবত প্রায়ই । এর মধ্যে আজকেরটা জমাটি । সেইরকম ! বাতাসের বেগ এত যে বৃষ্টিস্নাত রিকশাওয়ালারা সর্বশক্তি দিয়েও প্যাডেল চাপতে পারছে না । তারপরও তার মুখজোড়া ফ্লোরোসেন্ট হাসি । বৃষ্টি তাহলে সত্যিই দেখা দিয়েছে !
এর মধ্যে দেখি এক লোক কালো ছাতি মাথায় চড়িয়ে বাতাস কেটে টেনে টেনে হেঁটে যাচ্ছে । সুবিধা করতে পারছে না তেমন । আমি যারপরনাই বিরক্ত হলাম । শালা, এতদিন পর বৃষ্টি এসেছে- ফুর্তি কর ! উল্লাস কর ! ‘এসো কর স্নান নবধারাজলে’ ... তা না- ছাতা নিয়ে টানাটানি । আমার মুডটাই গেল নষ্ট হয়ে । মনে মনে কতক গালি দিলাম । নিম্নরূচির গালি যা মাথায় আছে- সব । গালিও ঠিকমত মাথায় আসছে না ---
শুধুমাত্র আজকের জন্য সুপ্রীম কোর্ট থেকে ‘কেন মানুষ ছাতা নিয়ে রাস্তায় বের হবে’ জানতে চেয়ে রুল জারি করা উচিত ! আজকের দিনে আবার কিসের ছাতা ? পহেলা বৈশাখে বৃষ্টি হলেও এদেশের মানুষ পান্তা-ইলিশ খায় । অথচ রৌদ্রদগ্ধ বৈশাখ উত্তরণী কালবৈশাখী এরা উদযাপন করতে ভুলে গেছে । হতাশাজনক । অত্যন্ত হতাশাজনক । লোকটার হাত থেকে দমকা বাতাসে ছাতি উড়ে গেল । এইবার আমি মুখ ভর্তি হাসি নিয়ে টং এর চাচামিয়াকে ধোঁয়া ওঠা গরম চায়ের অর্ডার দিলাম । সাথে সিগারেট । আজ গুদাম গ্রাম হোক ! এমন উপলক্ষ্য প্রতিদিন আসবে না । সিগারেট বাঁচিয়ে বৃষ্টিতে ভেজা কঠিন । টেকনিকটা কিছুতেই আয়ত্বে আনতে পারছি না । এটাও হতাশাজনক ।
আজ সারা রাত ঝড় হলে কিছু জম্পেশ প্ল্যান হওয়া প্রয়োজন । সারা রাত ছাদে বসে আড্ডা মারলে কেমন হয় ?? সাথে মাল-মশলা

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



