শনিবার সকাল, মনটা ভীষন খারাপ । এসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে কিন্তুু এখনও করতে পারিনি। রাতে ভাল ঘুম হয়নি। ঘুম থেকে উঠে কম্পিউটারে বসলাম।
এমন সময় পাশের বাসার খালাম্মা বাসায় আসল। বলল, শাহিনকে কে বা কারা মেরে ফেলেছে? কথা প্রথমে আমার মাথায় ঢুকল না , কি বলে! শাহিনকে মারা হয়েছে।
শাহিন আর হ্যাপি দুই ভাই-বোন। আমাদের মত ছোট সংসার। থাকত আমাদের নিচ তলায়। শাহিন রাজউক কলেজের স্টুডেন্ট ছিল। পড়াশুনা ভালই করত। কিন্তুু কলেজের ইচড়ে পাকাদের সাথে মিলে যা হবার তাই হল ।স্টাইলিশ দাড়ি, জিন্স প্যান্ট ....
শাহিনের আব্বু অসুস্থ । যায় যায় অবস্থা, রক্ত দিতে হচ্ছে নিয়মিত ।বাবার এই অবস্থায় কোন সন্তান কি বসে থাকতে পারে? তিনি বাংলাদেশ মেডিক্যালে ভর্তি। তার জন্য রক্তের দরকার । রাত নয়টায় বাসা থেকে বেড়িয়ে যায় সে বাবার জন্য রক্ত যোগাড় করতে। এই যাওয়াই যে তার শেষ যাওয়া এটা কে জানত?
শাহিন এবার রাজউক থেকে এইচএসসি পাশ করেছে। বাইরে চলে যাওয়ার সব ব্যবস্থা কম্প্লিট। শুধু মাত্র চারদিন পরেই সে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা হাতে পাবে। তারপর স্বপ্নের দেশ অস্ট্রেলিয়া ....
কিন্তুু না । দশটার দিকে শাহিনের ফোন হ্যাপির কাছে।
-হ্যালো,হ্যালো।
- আপু আমি বাসায় আসছি।
- তুই এখন কোথায়!হ্যালো, শাহিন হ্যালো!
-............
- তোর কথা এরকম শোনাচ্ছে কেন।
-...............
হ্যাপি বুঝতে পারে শাহিন এর কোন সমস্যা হয়েছে। সংগে সংগে ফোন দেয় আম্মু কে। কিন্তুু তার আম্মু তখন ব্যস্ত তার আব্বুকে নিয়ে।
না, শাহিনকে আর পাওয়া যায়নি। পাওয়া গেছে তার লাশ। কে বা কারা তাকে মেরে ফেলেছে? মাত্র ছয় মাস আগে তার মামা গুলশান থানার এস.আই মিজান খুন হন।তার ধারাবাহিকতায় এবার ভাগিনা...
সবাই ভাবছিল, শাহিন এর বাবাকে চিরকালের বিদায় দিবে কিন্তুু না তার আগে বিদায় দিতে হল শাহিনকে।
এসাইনমেন্টটা করা হয়ে উঠল না।চলে গেলাম শাহিনদের বাসায়। অনেক মানুষের ভীর ঠেলে দেখলাম শাহিনের মুখ, পরিচিত সেই মুখটা.......
আমার আমি যা বলে......
-পাশা, তুমি মরবে কবে? তোমাকেও এভাবে মানুষরা দেখতে আসবে। এক সময় তোমাকে কবরে নামানো হবে। সবাই তোমাকে নিয়ে কান্নাকাটি করবে। তারপর তারপর ... । সবাই তোমাকে ভুলে যাবে ।
-জানি না।তবে আমাকে মরতেই হবে।
-তাই, রেডি হও মরনের জন্য। যে কোন সময় যে কোন জায়গায় ।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুলাই, ২০০৭ সকাল ১০:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



