এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ল্যাপটপের মাদারবোর্ড নষ্ট হল । সার্ভিস সেন্টার থেকে বলেছে আরথিং এর কারনে নাকি এমনটা হচ্ছে । ভেবে দেখলাম ভুল বলেনি লোকটা পুরানো বাড়িতে ভাড়া থাকি ইলেকট্রিক কানেকশন সেই মান্ধাতা আমলের , হলে হতেও পারে । তারপর ঠিক করলাম নূতন করেই আরথিং বসাই । যেমন ভাবা তেমন কাজ উঠেপড়ে লাগলাম আরথিং এর পেছনে , লাগার পর খেয়াল হল আরথিং কিভাবে বসায় সে পরেছিলাম কোন সে ছোটবেলায় এখন আর কিছুই মনে নেই । প্রথমে ভেবেছিলাম বাবাকে জিজ্ঞেস করি তারপর ভাবলাম তিনি উলটো আমার পড়াশোনা নিয়ে দুশ্চিন্তা শুরু করেন তাই সে চিন্তা থেকে বিরত থাকলাম । কি করব ভাবছি তখন মনে হল আমার এক বন্ধু অনেক দিন আগে বাড়িতে আরথিং বসিয়েছিল তাকেই জিজ্ঞেস করিনা কেন , সাথে সাথে ফোন দিলাম । জেনে নিলাম আরথিং এর মুল মন্ত্র । প্রথমে বেশ গভীর একটা গর্ত খুড়ে তার মধ্যে লবন তারপর কয়লা এই ভাবে কয়েক স্তর দিয়ে মাটিচাপা দিতে হবে , তারপর একটা লম্বা লোহার ডাণ্ডা বা রড একদম গর্তের ভেতর অব্দি ঢুকিয়ে দিতে হবে । বেশ খুশি খুশি মনে সেদিন ঘুমাতে গেলাম । পরদিন সকালে ৯টার বেরিয়ে পরলাম মিশন আরথিং এর কাজে । পাশের ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে একটা শাবল জোগাড় করে এনেই ঘরের পাশে খোঁড়াখুড়ি শুরু করেদিলাম । হাত দুই এর মতো খুঁড়ে ফেলেছি , হটাত একটা ভারি কিছুতে শাবলটা যেন ঠকোর খেলো , আরেকবার আঘাত করতেই, ঠাং !!!! ধাতুর তৈরি কিছুতে লেগেছে । প্রচণ্ড উৎসাহের সাথে সাবধানে মাটি সরাতে লাগলাম । সরাতে সরাতে দেখলাম একটা গোল ধাতব জিনিস একটু হলুদ আভা যুক্ত , মন তখন উত্তেজনায় টগবগ করছে মাটি সরানোর পর দেখলাম ঠিক যতটা আশা করেছিলাম ঠিক ততটা বড়ো নয় ঘটির থেকে সামান্য একটু বড়ো । ছোট বড়ো সে যাই হোক ব্যাপার না , ভেতরে কোনও মোহর টোহর আছে কিনা তার জন্য ঘটি টাকে পরিস্কার জায়গায় এনে ভেতরের জিনিস গুলো ঢেলে দেখলাম , কিন্তু ভাগ্য বিরূপ মাটি আর কয়েকটা কয়লার টুকরো ছাড়া আর কিছুই বেরোলনা । উৎসাহটা আগের থেকে অনেক কমে এলো , তবু ভাবলাম মোহর সে নাই বেরোল ঘটিটা তো সোনার হতে পারে । তাই শেষ চেষ্টা হিসেবে ঘটিটা নিয়ে গেলাম মায়ের কাছে , সোনা চেনার ব্যাপারে মেয়েরা কষ্টি পাথরকেও হার মানায় বলে শুনেছি । মা একটু সময় দেখে তারপর হেসে বললেন আরে বোকা এটাতো সোনার না , এটা তো কাঁসার তৈরি ঘটি ! বলে হাসতে লাগলেন । আমার মাথায় তখন যেন বাজ পড়লো , পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যেতে লাগলো, এতক্ষণের পরিশ্রম সব নষ্ট ????? আমি যেন মিইয়ে গেলাম । লজ্জায় মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছে করছিল । মাথাটা কাজ করছিল না , তাই হয়ত গুরুজনরা বলে গেছেন বেশী আশা করোনা পস্তাতে হবে । তারপর কোনোক্রমে আরথিং এর অধ্যায় শেষ করে স্নানে চলে গেলাম , সত্যি বলতে মুখ বাঁচাতে পালিয়ে এলাম । স্নানে বের হচ্ছিলাম এমন সময় পেছন থেকে কে যেন বলল , “ এইটারেই কয় কপালে ঘইট্টা “ ।
আলোচিত ব্লগ
চন্দ্রপ্রভা
চন্দ্রপ্রভা
সাইফুল ইসলাম সাঈফ
তোমাকে দেখে মোহিত হই চন্দ্রপ্রভা
রোদ পড়লে চকচক করে
এতই সুন্দর লাগে
একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকি।
তোমাকে ছুঁতে ইচ্ছে করে
কিন্তু পাই না যে সাহস।
তুমি নাই বলে কি এত ঝড়?
তুমি পাশে নাই বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আপনি কি পেলেন?

বাংলার দুই নোবেল জয়ী রবি ঠাকুর আর ডঃ ইউনুসের পিছনে অনেক কথাই তো বললেন।
ব্লগ লেখায় ভরিয়ে ফেললেন!
খোদা তাঁদেরকে যে জায়গা দিয়েছেন, তা থেকে এক চুল কি নিচে নামাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন
তোমরা নেহা বোরা কে বাংলাদেশের কথা বোলো না

নেহা বোরাকে তোমরা বাংলাদেশের কথা বোলো না। বোলো না যে, তিনি যখন বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করছেন, তখন বাংলাদেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুনেরা ক্যাম্পাসে গরু জবাই করে জেয়াফত খাওয়ার আন্দোলন... ...বাকিটুকু পড়ুন
জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?
জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন
অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।