somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ইমরান তপু-সরদার
এলোমেলো ভাবনার বাইরে বই পড়তে ভালোবাসি, আর পছন্দ নতুন জায়গায় নতুন মানুষের সাথে মিশে তাদের সুখ দুঃখের গল্প শোনা। খুব ইচ্ছা করে এই দেশ ছাড়িয়ে খুব দূরে ভিন্ন দেশের মানুষের খুব কাছে যেতে (সাদা-কালো মানুষের মনের কথা জানতে, তাদের ভালোবাসার রঙ জানতে।

ভালবাসা দিবসঃ একাল-সেকাল। ভালবাসা দিবসের বাংলাদেশ এবং বিশ্ব ইতিহাস।

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১০:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভালোবাসাকে কেউ কি অবমূল্যায়ন করে? আমার মনে হয় এই ভালোবাসা নিয়ে কারও মনে বিতর্ক নাই। ভালোবাসা না থাকলে এই পৃথিবী টিকে থাকতো কিনা সন্দেহ! ভালোবাসা ছাড়া এই জগতের কোন কিছু টিকে থাকাও সম্ভব না। পৃথিবীর প্রত্যেকটা প্রাণীর মধ্যে ভালোবাসা বিদ্যমান।
ভালোবাসা না থাকলে এই পৃথিবী সৃষ্টি হতো না। এই পৃথিবী টিকে থাকতো না। সৃষ্টি রহস্য বন্ধ হতো।
ভালবাসা ছাড়া যেহেতু এতো কিছুর কোনই মূল্য থাকতো না, সেহেতু এই ভালোবাসা নিয়ে যদি একটা বিশেষ দিন থাকে, খুব কি ক্ষতি?
ভালোবাসা দিবসের ইতিহাসঃ
ভালোবাসা দিবসের ইতিহাস হয়তো কারও অজানা নই, তারপরও আমি একটু ছোট করে আমার মতো করে ব্যাখ্যা করি।
ভালোবাসা' পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর কোমল দুরন্ত মানবিক অনুভূতি। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ছিলেন একজন ধর্মযাজক। ভ্যালেন্টাইন ছিলেন একজন শিশুপ্রেমিক, সামাজিক, মানবিক এবং খ্রিস্টধর্ম প্রচারক। অন্যদিকে রোম সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস ছিলেন বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজায় বিশ্বাসী। সম্রাটের পক্ষ থেকে তাকে দেব-দেবীর পূজা করতে বলা হলে ভ্যালেন্টাইন তা অস্বীকার করায় তাকে কারারুদ্ধ করা হয়। সম্রাটের বারবার খ্রিস্টধর্ম ত্যাগের আজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করলে ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রীয় আদেশ লঙ্ঘনের দায়ে ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। সেই থেকেই দিনটির শুরু। এ ছাড়া আরও একটি প্রচলিত ঘটনা আছে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে নিয়েই। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন কারারুদ্ধ হওয়ার পর প্রেমাসক্ত যুবক-যুবতীদের অনেকেই প্রতিদিন তাকে কারাগারে দেখতে আসত এবং ফুল উপহার দিত। তারা বিভিন্ন উদ্দীপনামূলক কথা বলে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে উদ্দীপ্ত রাখত। এক কারারক্ষীর এক অন্ধ মেয়েও ভ্যালেন্টাইনকে দেখতে যেত। অনেকক্ষণ ধরে তারা দু'জন প্রাণ খুলে কথা বলত। একসময় ভ্যালেন্টাইন তার প্রেমে পড়ে যায়। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের আধ্যাত্মিক চিকিত্সায় অন্ধ মেয়েটি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায়। ভ্যালেন্টাইনের ভালোবাসা ও তার প্রতি দেশের যুবক-যুবতীদের ভালোবাসার কথা সম্রাটের কানে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ২৬৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ( ইতিহাস সুত্র দৈনিক ইত্তেফাক)


বাংলাদেশে ভালোবাসা দিবসের ইতিহাসঃ
১৯৯৩ সালের দিকে আমাদের দেশে ভালোবাসা দিবসের আবির্ভাব ঘটে। সাংবাদিক ব্যক্তিত্ব শফিক রেহমান পড়াশোনা করেছেন লন্ডনে। পাশ্চাত্যের রীতিনীতিতে তিনি ছিলেন অভ্যস্ত। দেশে ফিরে তিনিই ভালোবাসা দিবসের শুরুটি করেন। এ নিয়ে অনেক ধরনের মতবিরোধ থাকলেও শেষ পর্যন্ত শফিক রেহমানের চিন্তাটি নতুন প্রজন্মকে বেশি আকর্ষণ করে। সে থেকে এই আমাদের দেশে দিনটির শুরু।


অনেকে এই ভালোবাসা দিবস নিয়ে কটূক্তি করতে ভুলেন না। তারা এই দিনটাকে নানাভাবে খারাপ বলে অবিহিত করে।
আচ্ছা তাদের কাছে আমার একটা প্রশ্ন ভালোবাসা দিবসের কি কোন ভালো দিক নাই। এইদিন কি মা ছেলেকে ভালোবাসে না। ভাই বোনকে ভালোবাসে না!


আবার প্রেমিক জুটিও কি সব লীলাখেলায় জড়িত। কেউ কি তার প্রিয় মানুষটাকে নিয়ে নির্জন কোন কথা বা আলাপে মগ্ন থাকছে না।
আচ্ছা মনে করেন ভালোবাসা দিবস নাই। তাহলে কি এই প্রেমিক জুটি তাদের প্রেম প্রণয় বাদ দিয়ে দিবে?
আমার মনে হয় না। আপনাদের কি মনে হয় জানি না।
এক সময় এই দেশে কেউ প্রেমে পড়লে তাকে সামাজিকভাবে শাস্তি দেওয়া হতো। এখন এইসব রূপকথার গল্প মনে হয়, আবার অনেক জায়গায় এখনও এই প্রথা প্রচলিত আছে। আচ্ছা আসলে কি এই প্রেম প্রনয় শাস্তি পাওয়ার মতো ছিল।
আসলে আমরা জাতি হিসেবে অনেক পিছিয়ে। সব কিছু আমরা গ্রহণ করি কিন্তু একটু দেরিতে। এই ধারণা থেকে কি আমরা বেরিয়ে আসতে পারি না?
একটু পালন করুক না তারা, সবই তো আর সমালোচনা করে আটকানো যায় না। ভালোবাসাই তো! খারাপ কিছু তো না।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১২:৪৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দরজা ভাঙ্গে যে রাষ্ট্র।। দ্বীপ সরকার

লিখেছেন দ্বীপ ১৭৯২, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪০



দরজা ভাঙ্গে যে রাষ্ট্র

একদা এক রাতে-
রাষ্ট্র, কড়া নাড়তে নাড়তে দরজা ভেঙ্গে
ঢুকে পড়লো
আমি নিথর,নিস্তব্ধ এক জনগণ
বললাম,আমি ভয় পাচ্ছি
রাষ্ট্র হাসতে হাসতে ভাঙ্গা দরজা দিয়ে
এক পা দুই পা করে,লোকালয়ে মিশে গেলো

রাষ্ট্র কি ভয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×