somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

:P:P বাঈজির মসজিদ কালের নিরব স্বাক্ষী :P:P

২৬ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নটির মসজিদ। গোমতী নদীর তীরে অবস্থিত। প্রায় দু’শ বছর আগের নির্মিতব্য এই মসজিদটি। যেখানে কোন দিন আজান হয়নি। কোন মুসল্লী নামাজ পড়েনি। ধর্মীয় দৃষ্টি ভঙ্গিতে এটা মসজিদ হলেও এখানে কোন দিন আজান হয়নি। উচ্চারিত হয়নি আজান। কারণ এই মসজিদটি একজন নারীর উপার্জিত অর্থে তৈরি হয়েছিল। সেই নারী ছিলেন পেশাগতভাবে ত্রিপুরা মহারাজার দরবারের বাঈজি বা নর্তকী। কুমিল্লা শহরতলী চান্দপুর গোমতী ব্রীজ পার হয়ে নদীর উত্তর তীর ঘেঁষে মাঝিগাছা নন্দীর বাজার সড়কের মুখপথে মঠ আকৃতির জীর্ণ-শীর্ণ এই মুসজিদটি। এই মসজিদটি নিয়ে এখানকার মানুষের রয়েছে নানা কল্পকাহিনী। চান্দপুর-মাছিগাছা এলাকার লোকজন এটিকে নটির মসজিদ বলে থাকে। ইতিহাসের পালা বদলের পটভূমিতে মসজিদটি নিয়ে নানান কাহিনী শোনা গেলেও ত্রিপুরা মহারাজার আমলের উত্তরসূরীদের অনেকেই তাদের বাপ-দাদার কাছ থেকে এই মসজিদের কাহিনী শুনেছেন। তবে কাহিনী বিন্যাসে অমিল থাকলেও মসজিদটি যে একজন বাঈজির আর্থিক অনুদানে নির্মিত হয়েছিল এব্যাপারে কোন দ্বিমত নেই।
জানা যায়, গোমতী উত্তর পাড়ের মাঝিগাছা গ্রামে নুরজাহান ও তার ছোট দু বোন মোগরজান ও ফুলজানরা বসবাস করতেন। তাদের বাবা-মার পরিচয় জানা যায়নি। খুব সম্ভব ১৭৭০ সালে দুর্ভিরে সময় কিশোরী নুরজাহানকে সাপে কামড়ালে তাকে ভেলায় করে গোমতী নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়। ত্রিপুরার মহারাজার দরবারে নিয়ে চিকিতসায় সুস্থ করে তুলে। ধীরে ধীরে মেনেকা তাকে নাচ-গান শিখিয়ে মহারাজার দরবারে সেরা বাঈজিতে পরিণত করে। প্রায় ৩৫ বছর রাজা মহারাজাদের দরবারে নর্তকী হিসেবে থাকার পর মধ্য বয়সেই নর্তকী নুজাহান রাজদরবার ছেড়ে নিজ গ্রাম মাঝিগাছায় আসেন। এ সময় ত্রিপুরার মহারাজা বাঈজি নুরজাহানকে মাঝিগাছায় কয়েক একর জমি ও প্রচুর অর্থ, স্বর্ণালংকার দান করেন। নুরজাহান নিজেকে এক জমিদারের বিধবা স্ত্রী পরিচয়ে মাঝিগাছায় বসবাস শুরু করে। তখন প্রায়ই নুরজাহান তার ছোট দু বোনকে খুঁজতে বেরুতো। গ্রামের মানুষদের নানা রকম সাহায্য সহযোগিতা করতেন। এক সময় বাঈজি নুরজাহান তার অতীত কৃতকর্মের প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য এক হুজুরের শরণাপন্ন হলে হুজুর নুরজাহানকে নিজ খরচে এলাকায় একটি মসজিদ নির্মাণ করতে বলেন। হুজুরের পরামর্শ মতে বাঈজি নুরজাহান এলাকায় মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন। স্থানীয় গণ্যমান্য লোকজন এ কাজে এগিয়ে আসেন। নুরজাহানের পুরো আর্থিক যোগানে মসজিদ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। নুরজাহান যে হুজুরের পরামর্শে মসজিদ নির্মাণ করেছেন সেই হুজুরকে গ্রামবাসীদের সঙ্গে বসে মসজিদে নামাজ পড়ার দিন তারিখ ধার্য করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। একদিন হুজুর গ্রামবাসীদের সঙ্গে এক সভায় এসে অতি উতসাহী হয়ে নুরজাহানের জীবন কাহিনী বলে দিলে নুরজাহানের বাঈজি পরিচয় প্রকাশ পেয়ে যায় এবং তা পুরো গ্রামে জানাজানি হয়। ঐ দিনই সভায় সিদ্ধান্ত হয় নর্তকী নুরজাহানের অর্থে নির্মিত মসজিদে কেউ নামাজ পড়বে না। এটি নটির মসজিদ। এই মসজিদে নামাজ পড়া জায়েজ না। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই ঐ মসজিদে কোনদিন আজান হয়নি। কেউ নামাজ পড়েনি। এ ঘটনার পর বাঈজি নুরজাহান আক্ষেভে দুঃখে নিজ গৃহে একাকীত্ব জীবন কাটিয়েছেন বেশ কয়েক বছর। অনেকের মতে, গ্রামের মানুষের ওই আচরণে আঘাত পেয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। আবার কারো মতে, গ্রামের মানুষের অপবাদ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে এবং তার নির্মিত মসজিদের পাশেই তাকে সমাহিত করা হয়েছে। সম্ভবত সেই থেকেই মসজিদের পশ্চিম দিকের কিছু অংশ বর্তমানেও কবরস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
কুমিল্লা শহর থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার উত্তর পূর্বে চান্দপুর এলাকা অতিক্রম করে যেতে হয় নটির মসজিদে। গোমতী নদীর উত্তর পাড়ে বাঈজি বা নটির মসজিদটি দু’শ বছর ধরে কালের নীরব সাী হয়ে আছে। বাঈজি নুরজাহানের রেখে যাওয়া মসজিদ ও আশপাশের বেশ পরিমান জায়গা এখন ওয়াকফ সম্পত্তি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে উদাসীনতার কারণে দিনে দিনে বেদখল হয়ে যাচ্ছে ওয়াকফ সম্পত্তি। বর্তমানে মসজিদ সংলগ্ন একটি স’মিল কারখানা গড়ে ওঠায় এর আশেপাশে আরো কয়েকটি দোকান কোটা নির্মাণ হওয়ায় মসজিদটি সহজে পথচারী বা দর্শনার্থীদের চোখে পড়ে না। দু’শ বছরের এই কালজয়ী নিদর্শন নটির মসজিদটি। এর ঐতিহ্য রা ও সংরণে সকলের এগিয়ে আসা উচিত।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×