somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিচ্ছিন্ন আবেগ (পর্ব-1)

১৯ শে এপ্রিল, ২০০৭ দুপুর ২:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাঈফ
বই মেলার ভেতরে চক্কর কাটছি।
কোন খচচর (বন্ধুরা) এখনও আসেনি।
বস্তুতঃ আজ এসেছি বইয়ের কাটতি দেখতে, এবারই প্রথম বই বেরুলো তো, নামটাও হয়েছে জোশ, যজ্ঞানলে আত্তাহুতি, (আমার তো মনে হয় কোন কবিই এরকম নাম দিতে পারবেনা)। একটা বই বিক্রীও হয়েছে। গতকাল (মেলার দ্বিতীয় দিন) গুণদা কে এক কপি দিয়েছি। 'নামটা ভালো হয়েছে' বলেই ঝোলায় গেল বইটা। তিলে খচ্চর একটা; মনে মনে বলি। ওদিকে দেখছি আবার বকর স্যার এসেছেন। কলেজের বাংলা শিক্ষক এবং প্রখ্যাত 'বুড়ো কবি'। এগিয়ে গেলাম।

> আসসালাম স্যার!
> ওয়াইলাইকুম ফারুখ! (লোকটা আমাকে সাইফল্লাহে ফারুক নামেই ডাকে। মন ভালো থাকলে ডাকে ফারুখ। কোনটাই সঠিক নয়) কী ব্যাপার বাঁবু কেমন আছো?
> জ্বী স্যার, ভালো স্যার। (শালার তোরে দেখলাম, বুঝস না কেমন আছি!?)
> তোমার বইটা পড়েছি। নামটা তো বেশ দিয়েছো। তবে কী জানো, লেখা পারলেই হয় না, আরো কিছু লাগে। আর সবচেয়ে লক্ষণীয় হলো। ----------(চুপ থাক শালা)। এই এক জ্বালা বুড়ো খোকাদের নিয়ে, উফ বাইচা গেছি মামা। পাপ্পু আসছে।
> স্যার আজ আমি তবে আসি?
> নিশ্চয় নিশ্চয়, তবে লেখা লিখে যাও। কী জানো, ওহ in the year of১৯৪৫, আমি আর মানিক যাচিছলাম ... ...
> স্যার খোদা হাফেজ। প্রায় দৌড় পাপ্পুর কাছে গেলাম। পাপ্পু বললো :
> দোস্ আর বলিসনে, হঠাৎ দেখা হয়ে গেল নাফিসার সাথে (পাপ্পুর হবু)। তারপর হেঃ হেঃ বুঝিস-ই তো!
> ................. (বলার অযোগ্য ) নিয়ে কোথায় ........... (বলার অযোগ্য)।
> দেখ, তুই হচ্ছিস গিয়ে যাকে বলে সাহিত্যিক। তা তোর উচিৎ একটু ভিন্ন কিছু বলা, আর (বলার অযোগ্য), কৃষ্ণ করে তো লীলাখেলা, আমি করি তো ক্যারেক্টর ঢিলা!
> তবে রে আকাশের লাউ..............
> শোন, আজ সম্রাট ভাইয়ের ওখানে আড্ডা হবে। যাবি?
> কেন নয়?

আমরা দু'জনে রওনা হলাম সম্রাট ভাইয়ের হলে। হল মানে একরুমের এক বাড়ি। উত্তরায়। কোন এক প্রসঙ্গ জানি দেখা হয়েছিল আমাদের মধ্যে। এখন অবশ্য প্রায়ই আড্ডা মারি। বিভিন্ন জনেরা মিলে এক হই। অবশ্যই সাথে কিছু চাট-লিকার থাকে। এদিকে পাপ্পু রসিয়ে রসিয়ে বলছে সারাদিন কী করেছে। ইচেছ হচেছ, লাথি মেরে রিকশা থেকে ফেলে দিই। কিন্তু বলতে শুরু করলামঃ জানিস একবার মহর্ষি আরনি শ্বেতকেতুকে বলেছিলেন, ত্বং হোবাচ ... ...।

সম্রাটের ঘরে ঢুকতেই মনে হলো মিলন মেলা। সুমিত, রজনীকান্ত, সিমন, ফুয়াদ, তানিয়া আর শর্মিলী বসে আছে। নতুন কুটুম এসেছে দেখছি, একদম ভেরনের মত দেখতে! চান্দিছিলা, ফ্রেন্চকাট আর হাফপ্যান্ট-স্লিভলেস পরে বসে আছে। একটু পরে দেখলাম তায়েফ আর রেনি আসলো। ওরা আবার ভেরনের সাথে ভালো খাতির জমিয়েছে। আমার সাথে পরিচয় হলো, মেহেদী নাম-কী বিসদৃশ! ওদিকে ফুয়াদ, সম্রাট রজনী কার্ডে বসলো। আমিও বসলাম। কিন্তু আজ ঠিক মন নেই। হঠাৎ দেখলাম সুমিত আর রেনি নেই। দু'জনের জুড়ি ভালোই জমেছে দেকচি! ভেরন গাঁজা টানছে। হঠাৎ সিমনের সঙ্গে দেখি ওর কথা কাটাকাটি হচ্ছে। এদিকে ফুয়াদ শর্মিলীর কোলে মাথা রেখে কি বিড়বিড় করছে; বিসদৃশ্।

> এই ফুয়াদ, এক সাথে কটা সাইকেল চালাচিছস? সিমন হঠাৎ জিজ্ঞেস করলো।
> তাতে তোর কী রে শ্বশুরের পোলা।
> জানিস-ই তো, এক সাথে দু‘টো চালাতে গেলে পা ভাঙ্গে।

হঠাৎ তানিয়া ফোঁস করে উঠলো, এতো জেলাস্ হোস নে, পরে তো ঠিকই পাবি।

> তোদের পেলেই বা নেয় কে? সবাই হাসলো। ফুয়াদ উঠে বসেই একটা লাথি দিলো সিমনকে। বেচারার পাটা বোধ হয় মচকেই গেলো। তখনই সম্রাট বললো:
> শো।
আমি একটু অবাক, চার তাশেই শো? আমি তাশ ওল্টালাম-টেক্কার পেয়ার, সম্রাটের কিছুই না, স্রেফ বিবি টপ।
> তুমি বস্! কী হইলো?
> ও কিছু না, হঠাৎ হঠাৎ এরকম হয়। আজ আর খেলতে ইচ্ছে হচ্ছে না। পাপ্পু, তুই আর তায়েফ মেয়ে দু'টোকে বাসায় দিয়ে আয়। তার পর শুরু হবে আজকের রাত।

রাত প্রায় সাড়ে তিনটা
পাপ্পু গান গাচ্ছে। নদীর ঠিক মাঝখানে নৌকায় আমরা। চারদিকে অর্ধচন্দ্রের ঝাপসা আলো। সম্রাট গীটার বাজাচেছ, সিমন, ফুয়াদ, তায়েফ আর সুমিত বসে বসে তাল দিচেছ। সিমনটা একটু বেশীই টাল মনে হয়। তারপরও অদ্ভুত লাগছে, অদ্ভুত সুন্দর, অসাধারন! হঠাৎই ফুয়াদ পানিতে পড়ে গেল। সবাই হই হই করে তুলতে লাগলো ওকে, আমি আধ খাওয়া চাদের আলো দেখতে থাকলাম। হঠাৎ একফোটা পানি চোখ বেয়ে পড়লো।
> পৃথিবীটা সত্যিই খাসা; অস্ফুট গলায় বললাম।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

প্রশ্নটি এখন আর নিছক কল্পনা নয়।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান Makkah Joint Defence Agreement-এ স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ একটি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার

লিখেছেন রাজসোহান, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮



বাড়িটা দেখতে বাড়ির মতো না, যেনো একটা ঘোষণা। দ্যাখো, আমি কে।

গেটে দুইটা সিংহ, পাথরের, মুখ হাঁ করা; সিংহ দুইটা কী পাহারা দিচ্ছে তারা নিজেরাও জানে না। ভিতরে উঠান... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?
====================
একটি ১১ বছরের শিশু যার বয়স খেলাধুলা, পড়াশোনা আর স্বপ্ন দেখার। সেই শিশুকে যদি যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং তার গর্ভে একটি সন্তান জন্ম নেয়, তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×