বাঙালীদের জাহান্নাম
এক জান্নাতীর খাহেশ হল জাহান্নাম দেখার। তাকে সুযোগও দেয়া হলো। সারা জাহান্নাম দেখার অনুমতিপত্র হাতে পেয়ে সে ভাবল, জাহান্নামের ভিতরে ঢুকার আগে সারা জাহান্নাম বাইরে থেকে এক বার দেখব।
সে বাইরে থেকে যা দেখল তার সারসংক্ষেপ এই, জাহান্নাম মূলত একটি বড় আকারের গর্ত। অনেক গভীর। তার চারধারে ফেরেশতারা দাঁড়িয়ে আছে। ভীষন তাদের চেহারা, বিশাল তাদের আকৃতি। আরও বিশাল তাদের হাতের গদা। জাহান্নামীরা বছরের পর বছর চেষ্টা করে যখন গর্তের পাড়ে উঠে আসে। তখন ফেরেশতারা শহীদ আফ্রিদির মত বেপরোয়া স্টাইলে গদা হাঁকায়(বল আকাশেও উঠতে পারে, আবার গ্যালারিতেও যেতে পারে। তবে আকাশেই বেশি উঠে)। বেচারা জাহান্নামী চিৎকার করতে করতে জাহান্নামের মাঝখানে আছড়ে পড়ে।
জাহান্নামের চারও দিকে ঘুরে মোটামুটি একই দৃশ্য দেখতে পাচ্ছিল। তবে এক পাশে সে কোন পাহারা দেখতে না পেয়ে থমকে দাঁড়ালো। অনেকক্ষন দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগল – কোন জাহান্নামী এদিক দিয়ে উঠে আসে কিনা। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও কেউ উঠল না। শেষে সে গাইড ফেরেশতাকে জিজ্ঞেস করল,
-আচ্ছা এদিকে কি কোন লোক নাই?
-আছে সাহেব। এদিকের লোক অনেক বেশি। জাহান্নামের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এটি।প্রতি বর্গ মিটারে সাতজন করে।
-তবে পাহারা নাই কেন?
-কারন এদিকের লোকেরা উপরে উঠতে পারেনা।
-কেন? এদের কি উপরে উঠার ক্ষমতা নাই?
-না সাহেব, আসলে এদের মত সক্ষম জাতি জাহান্নামে খুব কমই আছে। এরা অবিশ্বাস্য দ্রুত গতিতে জাহান্নামের ঢাল বেয়ে উঠতে পারে।
জান্নাতী কিছুটা অসহিষ্ঞু হয়ে বলল, এতই যখন ঢাল বাইতে পারে, তাহলে তারা উপরে এস পৌঁছতে পারেনা কেন?
-সাহেব, এরা খুব হিংসুটে জাতি। এরা ঢাল বাইতে গিয়ে যখন কাওকে নিজেদের সমান উচ্চতায় বা উপরে উঠতে দেখে তখন উপরে উঠা বাদ দিয়ে পরস্পর মারামারি শুরু করে দেয়। ফলে দুজনেই নিচে গিয়ে পড়ে। আর উপরে উঠা হয়ে উঠেনা।দারোগা মালেক যখন দেখল এক হাজার বছরেও কেউ পাড়ে উঠতে পারেনি তখন এদিকের পাহারাদারদের অন্যত্র ডিউটিতে পাঠিয়ে দেয়।
(ভাই, আমিও বাঙালী নিজ জাতিকে কটাক্ষ করা আমার উদ্দেশ্য নয়। আমাদের রাজনৈতিক চিত্রসহ আরও অনেক বিষয় কি গল্পটির মূলভাবে সাথে মিলেনা?)
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ৭:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



