বাল্যবিবাহ রোধে প্রস্তাবিত এক আইনে আমাগো বাংলাদেশে ছেলে ও মেয়েদের বিয়ের সর্বনিম্ন বয়সসীমা কমিয়ে যথাক্রমে ১৮ ও ১৬ বছর করার সুপারিশ করা হয়েছে এবং মন্ত্রিসভা এ ব্যাপারে অলরেডি নীতিগত অনুমোদনও দিয়ে দিয়েছেন!
বাহ, ভালো তো, ভালো না!! যদিও প্রস্তাবিত আইনে বাল্য বিয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির মাত্রা আরও বাড়ানো হয়েছে, তথাপি বিষয়টি আমারে হতবাক করে দিয়েছে! আজ থেকে ১০৫ বছর আগে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন তার ‘সুলতানার স্বপ্ন’ লেখায় যেখানে শিক্ষাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মেয়েদের ন্যূনতম বিয়ের বয়স ২১ করার কথা বলেছেন সেখানে আমরা কি তবে সামগ্রিক উন্নয়নের উল্টো পথে হাঁটছি না?
প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে মেয়েদের ঝরে পড়ার হার এমনিতেই অনেক বেশি। এই আইন এই হারে আরও বাড়িয়ে দেবে সুনিশ্চিতভাবেই। সরকার নারীশিক্ষার প্রসারে ডিগ্রি পর্যন্ত ব্যয় মওকুফ এবং বৃত্তি প্রদানসহ যে সব পদক্ষেপ নিয়েছে তার মূলেও পড়বে কু্ঠারাঘাত। এছাড়া পরিবার পরিকল্পনার মাধ্যমে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের যে সাফল্য সেটিও হুমকির সুম্মুখিন হবে। আর ১৬ ও ১৮ বছর যথাক্রমে মেয়ে ও ছেলের বিয়ের বয়স হলে বালিকা মাতার সংখ্যা বৃদ্ধির হার কোথায় গিয়ে ঠেকবে আর নির্ভরশীল জনসগোষ্ঠী কী পরিমাণ বাড়বে তা একবার অনুমান করে ভেবে দেখবেন কি?
বাল্যবিবাহ রোধে সরকারের ব্যর্থতা ঢাকার এই প্রচেষ্টায় বলির পাঁঠা কি তবে নারীকেই হতে হবে? নিঃসন্দেহে এই হঠকারী সিদ্ধান্ত মেয়েদের আরও পিছিয়ে দেবে!
বিয়ের বয়স কমানোর ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে অনেক যুক্তি দেখান হয়েছে, তার মধ্যে একটি হচ্ছে যে, ইউরোপের অনেক দেশেও বিয়ের বৈধ বয়স ১৬। এখন প্রশ্ন হচ্ছে শিক্ষাসহ অন্যান্য আর্থ-সামাজিক অবস্থানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নারীরা ইউরোপীয় নারীদের সমপর্যায়ভুক্ত কিনা? অনেক ক্ষেত্রে ইচ্ছার বিরুদ্ধে পড়াশুনা বন্ধ করে বিয়ে বা বিয়ের পর স্বামী বা তার পরিবার কর্তৃক পড়াশুনা বা চাকরির স্বপ্ন জলাঞ্জলি, সংসারে নারীর মতামতে গুরুত্ব না দেয়ার ঘটনা ইউরোপীয়দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কিনা তাও ভেবে দেখতে হবে। পারিবারিক সম্পদে সমান অধিকার, বহুবিবাহ অবৈধ ঘোষণা এমন অনেক কিছুই তো ইউরোপীয় আইনে আছে, সেগুলো গ্রহণ না করে কেন বিয়ের বয়সের ক্ষেত্রে তাদের উদাহরণ হিসেবে নেয়া হবে?
এতে যা বুঝলাম, রাষ্ট্রের একজন যথার্থ নাগরিক, সমাজের একজন প্রতিনিধি এবং ভবিষ্যতের নেতৃত্বের পথে মেয়েদের বিকাশকে ব্যহত করবে! তবে কি ধীরে ধীরে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া মেয়েদের আরও পিছিয়ে দেয়াই সরকারের লক্ষ্য??

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




