
‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ শ্লোগানটি বুকে লিখে গতকাল নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে দাঁড়ালো এক যুবক। বিএনপির বাঘা-বাঘা নেতারা যেখানে বের হওয়ার সাহস পাইনি পুলিশি গ্রেফতার আর নির্যাতনের ভয়ে, তখন এই যুবকের উপস্থিতি সবাইকে চমকে দেয়!
একটি গলি থেকে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এসে দাঁড়ান দেলোয়ার নামে ওই যুবক। তার বুকে ও পিঠে লেখা ছিল ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক’ স্লোগান। তার দাঁড়ানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ তাকে আটক করে।
এসময় প্রতিবাদী ওই যুবক বলেন, “আমিতো কোনো সহিংসতা করতে আসিনি। আমার অধিকার আছে প্রতিবাদ জানানোর, আমার অধিকার কেন কেড়ে নিচ্ছেন?
দেলোয়ারকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকরা এর কারণ জানতে চেয়েছিল কিন্তু জনগণের বন্ধু নামের শত্রু বোবা পুলিশ কোনো কথা বলেনি। বলবে কোথায় থেকে তাদের মুখ থাকলেই তো বলবো!
শুধু যুবকটিকে বলে, “চলো, থানায় গিয়ে তোমার কথা শুনব” বর্তমান গণতন্ত্র যে থানায় সেইটা হয়তো দেলোয়ারের জানা ছিল না!
১৯৯০ সালে তৎকালীন স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের আমলে একইভাবে বুকে পিঠে এই স্লোগান লিখে মিছিলে গিয়ে শহীদ হয়েছিলেন নুর হোসেন। দেলওয়ার কি তবে নিজেকে ২০১৫ সালের নূর হোসেন হিসেবে দাঁড় করালেন জনগণের সামনে? এটার বিশ্লেষণ সময়ই বলে দেবে!

১৯৮৬ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় নূর হোসেন যখন তার শরীরে "স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক" স্লোগান লিখে রাজপথে শহীদ হয়েছিলেন, তখন ঘুণাক্ষরেও কেউ ভাবতে পারেনি নূর হোসেনের সেই রক্তের প্রতিদান দেশের শাসকগোষ্ঠী আজ এভাবে হবে!
আজ তাই মনে হয়, নূর হোসেন যদি আজ বেঁচে থাকতেন বর্তমান দেশের এই অবস্থা দেখে তিনি হয়তো তাঁর স্লোগানটি এভাবে লিখতেন...
"গণতন্ত্র নিপাত যাক, স্বৈরাচার মুক্তি পাক"
ছবিঃ ১ম বিডিটুডে ও ২য় গুগল থেকে সংগৃহীত...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


