আজ ২০শে জুলাই, আমার জন্মদিন। এই দিনে হয়তো দুনিয়ার আলো দেখেছিলাম
যান্ত্রিক জীবনে আসলে আমাদের আসলে নিজেদের কখনও যাচাই করার সময় হয়না, আমরা কখনই নিজের অস্তিত্ব বা উপলব্ধি নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ পাইনা। জন্মদিন আসলে এ সুযোগটা করে দেয়। জন্মদিন মনে করিয়ে দেয় দুনিয়াতে আমার সময় আরও এক বছর কমে গেল, এখন যা করার তা খুব তাড়াতাড়ি করতে হবে। সবারই কিছু না কিছু নিজস্ব লক্ষ্য থাকে জীবনের কাছে, সেগুলি পুরণ করার সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে।
সর্বোপরি জন্মদিন শত দুঃখ কষ্টের মাঝে জন্মদিন মানুষকে একটু খুশি হওয়ার সুযোগ করে দেয়। যাই হোক এটা ছিল জন্মদিন নিয়ে আমার অনুভুতি। আমার পরিবারে এখন পালন না হলেও আমার পরবর্তী প্রজন্মের জন্যে অবশ্যই পালন করা হবে আশা করছি।
এই লেখাটা এই মূহুর্তে লেখার কারণ বছর ঘুরে আবারও সেই দিনটি ফিরে এসেছে আমার জীবনে, ভাবতেই অবাক লাগে, আজ থেকে আমি ছাব্বিশে পদার্পণ করছি। ছাব্বিশে পদার্পণ আমাকে আরও জানান দিচ্ছে যে আমি আজ পরিণত হয়েছি, বিশাল এক অতিকায় হাতির মানরুপে।
প্রতিটি মানুষের নিজের একান্তই কিছু চাওয়া থাকে জীবনের কাছে, আজও সেগুলো পুরণ করা হয়নি, এমনকি সেগুলোর ধারে কাছে যেতেও পারিনি। আরও মনে পড়ছে আসলে বিশালাকায় হাতিরা যতি ভালো কাজ করুক তাদের বিশালাকায় গড়নটাই সবার আগে চোখে পড়ে। তাই আমি যে কাজি করিনা, যেখানেই থাকিনা কেন আমি একটা বিশালাকায় হাতি। তাই আমাকে কেঊ কখনও ভালবাসবেওনা, আর সত্যি কথা বলতে আমি কখনওনা আমি কখনও ভালবাসা নিয়ে চিন্তাও করিনি। যদিও মাঝে মাঝে মনের ভেন্টিলেটর দিয়ে ঊকি দিয়েছিল, কিন্তু এত বড় শরীর কি তাতে টের পায়?
জ়ীবন নিয়ে চিন্তা মনে হয় আমার বয়সের অন্য কারো চেয়ে আমিই সবচেয়ে বেশি করি, আর তাই আমার কাছে আমার একাকীত্বকে মাঝে মাঝে সম্পদ মনে হয়। যদিও গত কয়েকমাসে নানাবিধ ব্যস্ততায় তা হারিয়ে ফেলতে বসেছিলাম, কিন্ত তা আবার ঠিক সময়ে ফিরে পেয়েছি।
ধন্যবাদ সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তাআলাকে পঁচিশটা বছর বাঁচিয়ে রাখার জন্য, যদিও একসময় মনে হত আমি তা ডিসার্ভ করিনা, কিন্তু এখন মনে হয় আসলে আমার জন্যে না হলেও আমার পারিপার্শ্ব অর্থাৎ আমার বাবা মার জন্য আমাকে বাঁচার দরকার। তারা আমার উপর অনেক আশা নিয়ে বসে আছে। একদিন জীবনে অনেক বড় কিছু করবে। যাই হোক এই ছিল আমার জন্মদিনের কিছু আজে বাজে লেখা। কাঊকে বলতে না পেরে লিখেই ফেললাম, পড়ে থাক ওয়ার্ল্ড ফেসবুকের এক কোনায়। পঁচিশের দিনগুলি কাটাতে নিজের মত করে জীবনকে সাজ়িয়ে, জানিনা কতটুকু পারব, তবে একটু না একটূ চেষ্টাতো করব।
আমার একেকটা জন্মদিনে একেকটা পালক খসে পড়ছে। আমার যাওয়ার সময় হয়ে আসছে। কিন্তু আমার যে স্বপ্ন আছে-আর তা কি বসে থাকবে? নাকি তারাও জন্মদিনের সাথে সাথে চলে যাবে?
আমার জন্মদিনে আল্লাহর কাছে আমার চাওয়া আমার স্বপ্নগুলি যেনো পূরণ করতে পারি। আর আমার শুভানুধ্যায়ী যারা আছেন-তাদের বলছি, সত্যিই জন্ম তারিখটা এলে ইদানিং খুব ভয় পাই। মনে হয় এই বুঝি চলে যাওয়ার সময় হলো। এ কথা ভাবতেই জলে চোখ ভিজে যায়।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুলাই, ২০১৫ রাত ১০:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




