somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হত্যার হুমকি পাওয়া ব্যবসায়ীকেই উল্টা গ্রেপ্তারের হুমকি দিচ্ছে পুলিশ!

২৪ শে জুন, ২০১৬ ভোর ৫:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হত্যার হুমকি পাওয়া ব্যক্তিকেই পুলিশের বিদেশে চলে যেতে বলা নতুন কিছু নয়৷ এবার হুমকি পাওয়া ব্যবসায়ীকে ফেসবুক স্ট্যাটাস মুছতে বাধ্য করে তাঁকেই আরো আতঙ্কে রেখেছে পুলিশ৷ হুমকিপ্রাপ্তকেই গ্রেপ্তারের হুমকি দিচ্ছে পুলিশ!
ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের মৌলভিবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে৷ ব্যবসায়ী রাজর্ষি ধর রাজন গত ১২ মে তার কুটুমবাড়ি রেস্টুরেন্টে ‘ইসলামী খেলাফত মুজাহিদীন বাংলাদেশ (আইকেএমবি)'-র নামে ডাকযোগে পাঠানো একটি চিঠি পান৷ সেই চিঠি এবং চিঠির খাম স্ক্যান করে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেছিলেন রাজন৷ স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন, ‘‘জানি আমাকে মেরে ফেলা হবে৷''
পরের দিনই তাঁর কাছে ছুটে যায় পুলিশ৷ ফেসবুক স্ট্যাটাসটি মুছে ফেলতে বলে৷ স্ট্যাটাস মুছে ফেলার পর তদন্তের কথা বলে আইকেএমবি-র নামে পাঠানো চিঠিটিও নিয়ে যায় পুলিশ৷ শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি ইদ্রিস আলী ডয়চে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানান, পুলিশ তারপর তদন্তের কোনো উদ্যোগ তো নেয়নি, উল্টে থানার ওসি বলেছেন, রাজনকেই গ্রেপ্তার করা হবে৷

চিঠিতে রাজন এবং শ্রীমঙ্গলের অন্যান্য অমুসলিম ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছিল, ‘‘ইসলামী ফেলাফত প্রতিষ্ঠা করায় আপনাদের প্রতি কিছু নির্দেশ দিচ্ছি৷ নির্দেশগুলো মেনে না চললে অথবা ইসলামের পথে চলতে কেউ বাধাদান করলে বা করার চেষ্টা করলে এবং ইসলামের পথে না চললে আপনাদের পরিণতি হবে ভয়াবহ, আমাদের সেনানিদের পদতলে আপনাদের শির লুটাবে৷ আমাদের নির্দেশনা আজ থেকে আপনাদের জন্য আইন৷'' ‘অমুসলিম সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমাদের নির্দেশ' শিরোনামে চিঠিতে আরো লেখা হয়েছিল, ‘‘(অমুসলিমদের) সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ ফটকে ‘বিছমিল্লাহির রাহমানির রহিম' লেখা থাকতে হবে এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখতে হবে৷ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাবা শরিফের ছবি স্থাপন করা বাঞ্ছনীয়৷ কোনো ধরনের দেব-দেবী অথবা প্রাণী জাতীয় কোনো মূর্তি, ছবি/প্রতীক অথবা অশ্লীল ছবি রাখা যাবে না৷ থাকলে শিগগিরই সরিয়ে ফেলতে হবে, না হয় তাতে করে কোনো মুসল্লির ইমান নষ্ট হতে পারে৷''

এমন চিঠি পেয়ে রাজর্ষি ধর রাজন শুধু নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন৷ পুলিশ দৃশ্যত হুমকিদাতাদের খুঁজে বের করার কোনো উদ্যোগই না নিয়ে কেন ফেসবুক স্ট্যাটাস মুছে ফেলতে বাধ্য করল? কেন অমুসলিম ব্যবসায়ীদের মনে আতঙ্ক ছড়ানো চিঠির প্রেরকদের গ্রেপ্তারে তৎপর না হয়ে আতঙ্কিত ব্যবসায়ীকেই গ্রেপ্তারের হুমকি দেয়া? শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমানের কাছে এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চাওয়া হয়েছিল৷ ডয়চে ভেলেকে দেয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি ফেসবুক স্ট্যাটাস মুছে ফেলতে বাধ্য করার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন৷ কথিত চিঠিটি নিয়ে যাওয়ার কথা অবশ্য স্বীকার করেছেন তিনি৷ আরো বলেছেন, ‘‘তদন্ত চলছে৷''
এ প্রসঙ্গে রাজনের সঙ্গে কথা বলার জন্য কয়েকবার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি৷ সূত্র জানায়, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বললে বিপদ আরো বাড়তে পারে – এমন আশঙ্কার কারণেই তিনি ফোন ধরছেন না৷

শ্রীমঙ্গল প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারি ইদ্রিস আলীর কথায় বোঝা গেল, রাজন এখন দ্বিমুখী আতঙ্কে৷ একদিকে চিঠির প্রেরক ‘সন্ত্রাসীরা', অন্যদিকে পুলিশ৷ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ইদ্রিস আলী জানান, ‘‘ওসি সাহেব সাংবাদিকদের বলেছেন, শ্রীমঙ্গলে শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে৷ পরিবেশ অশান্ত করার জন্য সে (রাজন) নিজেই এই কাজটি করেছে বলে আমার ধারণা৷ আমি তাকে উঠিয়ে নিয়ে আসব৷''
ইদ্রিস আলী জানিয়েছেন, স্থানীয় সাংবাদিকদের রাজর্ষি ধর রাজন বলেছেন, ‘‘আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি৷ আমাকে কখন যে মেরে ফেলবে বুঝতে পারছি না৷''
তবে ইদ্রিস আলী ওসি মাহবুবের প্রশংসাও করেছেন৷ তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে শ্রীমঙ্গলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে ওসি মাহবুবুর রহমান প্রশংসনীয় ভূমিকাই রেখেছেন৷ সম্প্রতি তাঁর উদ্যোগে এলাকার সব মন্দিরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে৷ তবে সাংবাদিক ইদ্রিস আলী মনে করেন, শহরের সব অমুসলিম ব্যবসায়ীর মনে আতঙ্ক ছড়ানো চিঠির রহস্য উদঘাটনে পুলিশের যাবতীয় ভূমিকাই এখন প্রশ্নবিদ্ধ৷(সুত্রঃ ডয়চে ভেলে)

চিঠিটা দেওয়া নেওয়া নিয়ে কোন প্রশ্ন আমি তুলছিনা, যেহেতু সাংবাদিক ইদ্রিস আলী সাহেব বলেছেন, শহরের সব অমুসলিম ব্যবসায়ীর মনে আতঙ্ক ছড়ানো চিঠির রহস্য উদঘাটনে পুলিশের যাবতীয় ভূমিকাই এখন প্রশ্নবিদ্ধ! সেখানে আমি কিছু বলার বা প্রশ্নবিদ্ধ আছে, সেটা বলার দুঃসাহস দেখানোর ক্ষমতা আমার নাই!

তবে কথা হচ্ছে যে, পুলিশ কেন উল্টা রাজর্ষি ধর রাজনকে গ্রেপ্তারের হুমকি দেবে? এখানে কি পুলিশের কোন যোগ লাভসুত্র আছে? তো হত্যার হুমকি পাওয়া রাজর্ষি ধর রাজন ব্যবসায়ীকে পুলিশও যদি নিরাপত্তা না দেয়, তবে তাঁকে নিরাপত্তা দেবে কে?
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০১৬ ভোর ৫:৫৬
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×