somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এর নাম সাহরী?

০৫ ই জুন, ২০১৭ ভোর ৪:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার একসময় ধারণা ছিল, সাহরী মানে আলাদা ধরনের কোনো খাবারের আইটেম। ভোররাতে সবাই উঠে একই রকম খাবার খায় বলে নাম রাখা হয়েছে সাহরী। ছোটবেলায় আমাদের এলাকার মসজিদ থেকে সাইরেন বাজাত। আমি ধরেই নিয়েছিলাম কেউ একজন সাহরী সবার বাসায় বাসায় দিয়ে যায়। এটা সাহরীর কলবেল! একদিন ব্যাপক কান্নাকাটি জুড়ে দিলাম সাহরী খাব বলে। বাধ্য হয়ে আমাকেও সাহরী খাওয়াতে বসানো হলো। খেতে বসে আমি হতাশ। এর নাম সাহরী?

কই, সেই একই রকম ভাত-ডাল-তরকারিই তো! কয়েক দিন টানা খাওয়ার পর আমি মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গেলাম সাহরী মানে বোয়াল মাছ দিয়ে মটরশুঁটি রান্না। আমার ছোটবেলায় রোজা পড়ত শীতকালে। আমরা সব ভাইবোন এই একটা মাছই খেতাম। তার ওপর রান্নাটাও বেশ সহজ বলে মা যে রোজই এই খাবার চালিয়ে দিতেন, সেটা আমি ধরতেই পারিনি। ঘটনা বুঝতে পারলাম ঈদে। আমরা গ্রামের মানুষ। ঘরের পাশেই বিল। মাঝরাতে ঘরের দরজা খুললে ঠান্ডা বাতাসে কাঁপুনি ধরানোর পাশাপাশি একটা সুন্দর গন্ধ নাকে এসে ধাক্কা দেয়। ঘ্রাণটা সরষে ফুলের। এমনকি লাউপাতা, কুমড়াপাতারও যে একটা নিজস্ব ঘ্রাণ আছে, সেটা আমাদের পাশের লোক ভালো করেই জানে।

তো, রাতে খেতে বসে দেখি, বাকি সব মোটামুটি ঠিক আছে। শুধু মটরশুঁটি-বোয়ালের সেই খাবারটা নেই। উল্টো লাউপাতা দিয়ে কই মাছ টাইপের একটা তরকারি বড়রা খুব প্রশংসা করতে করতে খাচ্ছেন। একে তো শীতে ঠকঠক করে কাঁপছি, তার ওপর সাহরী নেই। আমার রীতিমতো কান্না পেতে শুরু করল। ভোরের দিকে সবাই যখন ঘুমাতে যাবে, তখন আমি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে বুক ভাসিয়ে ফেলেছি এই জন্য যে মা আমাদের সাহরী খেতে দেননি। অনেক দিন পর্যন্ত আমার বিশ্বাস ছিল যে লোকটা কলবেল বাজিয়ে সাহরী দিয়ে যেত, তাকে ঠিকানা দিলে সে হয়তো এখানেও বোয়াল মাছ আর মটরশুঁটি পৌঁছে দিত। কেন কাঁদছি, এ ধরনের প্রশ্নে বাবাকে ঘটনা বুঝিয়ে বলতে তিনি প্রথমে একচোট হেসে নিলেন। এরপর মাকে ডাকলেন। মা বড় আপু আর ছোট আপুকে ডাকলেন। একে একে বাড়ির সবাই এল। হাসির রোল উঠে গেল
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দাদুরা বুঝি এমনই হন

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬



সবুজের বুক চিরে ঝকঝক করে বাড়ির পথে এগিয়ে চলেছে ট্রেন। আনমনে জানলার দিকে তাকিয়ে সবুজের ছুটে চলা দেখছি। সদ্য ধোয়া রাস্তার পাশে শুকাতে দেওয়া পাটের গন্ধ এসে নাকে লাগছে। চোখ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্ভীক অভিযাত্রা

লিখেছেন আকিব হাসান জাভেদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৩

আমি চলি ঐ প্রান্তে,
যেখানে অসৎ থেকে মানুষ হয়েছে সৎ।
আমি চলি উড়ে উড়ে,
ডানাহীন পাখির মতো,
যেখানে দুর্বলতাকে জয় করে
হয়েছে দুঃসাহস।
আমি চলি শক্তির সাথে,
দেহ যায় না ঝুঁকে।
করি না প্রণাম,
করি না চাটুকারিতা আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ - একদম চুপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



আমরা শুধু চুপ থাকবো -
আমাদের কথা বলার মুখ নেই
আমাদের দেখার মতো চোখ নেই
আমাদের শোনার মতো কান নেই
মনে হয়, মনে হয় -
আমাদের হাত-পাও নেই।

আমাদের বিবেক নেই
আমাদের চিন্তা-চেতনাও নেই
আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৩



জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

১৫ আগস্ট আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে গিয়েছিলাম জুলাই মিউজিয়ামে। সেখানে গিয়ে মনে হলো- এটি শুধু একটি জাদুঘর নয়; এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায়ের বিরুদ্ধে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×