somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাঙ্গা পা [ ছোট গল্প ]

১৮ ই জুলাই, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১ -
বিয়ের পর এইবারই প্রথম ঈদ পেলো রেবেকা আর ফারুক দম্পতি । প্রথম ঈদ বলেই হয়তো দু’জনের মধ্যে উত্তেজনাটা একটূ বেশি । নাহলে তাদের আবার ঈদ কিসের ?
রেবেকা একটা বাসায় কাজ করে আর ফারুক রিক্সা চালায় । দু’জনেই আয় করে বলে তাদের আর্থিক অবস্থা একেবারে খারাপ না । এক রুমের একটা বাসায় থাকে । ঠিক “বস্তি” না , তার থেকে একটু ভালো জায়গা । কয়েক পরিবারের জন্য একটা রান্না ঘর এবং দুইটা পাকা পায়খানা ।
২ -
রেবেকা অপেক্ষায় আছে ২৬ রোযার কারণ তার ম্যাডাম বলছে তখন তাকে ঈদের বোনাস দেবে । সবে ২০ রোযা , ২৬ রোযা কত দূর লাগে তার কাছে । যদিও সে জানে রোযার মাসে দিনগুলো খুব দ্রুত যায় । বোনাসের টাকা দিয়ে ফারুককে এই ঈদে সে একটা ঘড়ি কিনে দিবে । বেচারার একটা ঘড়ির খুব শখ ।
৩ –
ফারুকের রোযায় ইনকাম ভালোই হচ্ছে । দূরের খ্যাপ নেয় । জ্যাম আর ঈদের বকশিসের নামে ভাড়াও বেশি চাইতে পারে এবং মানুষ দেয়ও । জমার ১২০ টাকা দেয়ার পর যা বাকি থাকা তা দিয়ে দৈনিকের বাজার করে আর বাকি টাকা নিজের কাছে জমিয়ে রাখে , অন্যসময় হলে রেবেকার হাতে জমা দিতো । নতুন বউকে ঈদে লাল শাড়ি দিবে সে , লাল রঙ্গে তার বউকে খুব মানায় । দোকানের একটা শাড়ি তার পছন্দ হয়েছে কিন্তু ঐটা কেনার মতো টাকা এখনো তার জমে নাই । আরো কয়েকদিন সময় লাগবে ।

আজ সোমবার ২৬ রোজা ।
৪ –
ফারুক হিসেব করে দেখলো আর এক/দুই খ্যাপ মারলেই তার শাড়ি কেনার টাকা হয়ে যায় । ভাগ্য ভালো ছিল বের হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার কাছে শাড়ি কেনার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা এসে গেছে । এতো আগে বাড়ি যেতে তার ইচ্ছা করলো না । আরো কিছুক্ষণ রিক্সা চালালো । এরপর শাড়ি কিনে বাড়ি ফিরলো । রেবেকার আসতে দেরি হবে জেনেই সে তার জন্য অপেক্ষা করছিল ।
৫ -
অন্যদিনের চেয়ে রেবেকা আজকে বেশ আগেই কাজে গেলো । দ্রুত সব কাজ শেষ করে তার ম্যাডামের কাছে বোনাসের কথা বলতেই দিয়ে দিলো । সে খুশি মনে বাড়ি ফিরলো । কাপড় পরিবর্তন করে মার্কেটে যেতে হবে । এই জন্যই এতো তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করা । ম্যাডামের বড় ছেলে কি একটা যেন ঘড়ি কিনছে দেখতেও সুন্দর আছে আবার দামও কম । ফারুকের পছন্দ হবে । মার্কেটের নাম জেনে এসেছে সে ।
বাড়িতে এসে দেখে দরজা খোলা । ভিতরে ফারুক শুয়ে আছে । আর খাটের উপরে একটা ব্যাগ রাখা ।
রেবেকাকে দেখে ফারুক হাসি মুখে উঠে বসলো আর রেবেকার দিকে ব্যাগটা বাড়িয়ে দিইয়ে বললো –
“ এই লও তোমার লিগা ঈদের শাড়ি আনছি । খুইলা দেহো পছন্দ হয় নি ?”
রেবেকা বুঝতে পারছিল না যে সে খুশি হবে নাকি কারণ ফারুকের হাব ভাব দেখে মনে হচ্ছিল যে , সে আর আজকে রিক্সা চালাতে যাবে না । তাহলে রেবেকাও বের হতে পারবে না । রেবেকা পড়ে গেলো মহা মুশকিলে ।
হাসি মুখে শাড়িটা নিয়ে রেবেকা বললো , “ বাহ , ভালা হইছে । তয় মেন্দি আনছেন ?”
ফারুকের মুখটা চুপসে গেলো । তার বউইয়ের যে হাতে পায়ে মেহেদী দেয়া অনেক পছন্দের সে তা ভুলে বসে আছে ।
রেবেকা বুঝতে পারল আর একটু খুশিই হলো তাতে কিন্তু উপরে উপরে দেখালো যে সে কষ্ট পেয়েছে । তড়িঘড়ি করে ফারুক মেহেদী আনতে বেরিয়ে পড়লো ।
আর রেবেকা ঘড়ি কেনার জন্য বেরিয়ে পড়লো ।
৬ –
বউ যখন মেহেদী চেয়েছে ভালো জায়গা থেকেই দিতে হবে । ফারুক রাস্তা দিয়ে হাটছিল আর রেবেকাকে কল্পনা করছিল লাল শাড়িতে , হাতে কনুই পর্যন্ত মেহেদী আঁকা , সাদা পায়ে লাল মেহেদী টকটক করছে । সেই সুখের কল্পনাকে সঙ্গী করে সে ভালো দোকান খুঁজছে মেয়েদের কস্মেটিকের জিনিস পাওয়া যায় এমন ।
৭ –
রোযার মাসে রাস্তায় অনেক ভীর থাকে । আর রেবেকা সাধারণত একা মার্কেটে আসে নি এর আগে কখনো । রাস্তার ওপাড়ে মার্কেটটা কিছুতেই সে রাস্তা পাড় হতে পারছিল না । সব গাড়ি যখন সিগনালে থামলো তখন সে রাস্তা পাড় হওয়ার জন্য পা বাড়ালো আর বিপরীত থেকে আসা একটা মোটর সাইকেল রেবেকাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে পায়ের উপর দিয়ে চলে গেলো ।
৮ –
ফারুক খুশি মনে হাতে মেহেদী নিয়ে বাড়ির দিকে ফিরছিল । হঠাৎ করে তার মোবাইলে ফোন আসে । সে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যায় । হাসপাতালে গিয়ে দেখে জরুরি বিভাগের মেঝেতে শুয়ে রেবেকে কাতরাচ্ছে । পা দুটো থেতলে গেছে আর আর............... পা দুটো লাল রঙ্গে রাঙ্গা , আস্তে আস্তে চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে আসে তার ।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুলাই, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:২৮
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিয়োগের রূপকথা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩



মা বরাবরই পাতে ভাত কম নিতো , বলতো- ভাতে না-কি  বাত বাড়ে।
বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়ি পোষা মোরগের ঝোল কিংবা রুই মাছের তরকারীর সবটুকু  আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কঠিনতম সব চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপির ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১০



বিএনপির সামনে অনেক কঠিন সব চ্যালেঞ্জ...

তাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে দ্বিমুখী বিরোধী-দলীয় রাজনীতি বা কর্মকাণ্ড (যেটা কিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি)।

জামাত-এনসিপি যতই লীগের ফিরে আসার বিরুদ্ধে বিএনপির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার নানা মরহুম শাহাবুদদীন মাহমুদ জায়গীরদার

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৫



আমার আম্মার সেঝ চাচা’র লেখা ‘My life is not mine’ বইটি পড়ছি। বইটিতে ‘মাইজম ভাই’ নামের একটি অধ্যায় আছে। এতে সেঝ নানা আমার নানার বিভিন্ন সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×