somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জাদিদ
তুমি আমার রাতবন্দিনী। ধূসর স্বপ্নের অমসৃণ সুউচ্চ দেয়াল তুলে তোমাকে আমি বন্দী করেছি আমার প্রিয় কালোর রাজত্বে। ঘুটঘুটে কালোর এই রাজত্বে কোন আলো নেই। তোমার চোখ থেকে বের হওয়া তীব্র আলো, আমার হৃদয়ে প্রতিফলিত হয়ে সৃষ্টি করে এক অপার্থিব জ্যোৎস্না।

যাপিত জীবন কড়চাঃ অপ্রকাশিত।

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ রাত ১১:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভোর রাত থেকেই ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। টিনের চালে বৃষ্টির শব্দে তৈরী হয়েছে অদ্ভুত এক মাদকতা। ঝিম মেরে বিছানায় পড়ে আছি, পাতলা কাঁথার আবরনে সারা শরীরে অদ্ভুত এক আলস্য। কেমন যেন সামান্য জ্বর জ্বর অনুভুতি। সকাল সাড়ে ছয়টা। বৃষ্টির শব্দ বিদীর্ণ করা এর্লাম ঘড়ির কর্কশ সর্তকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বললাম, ঘুমাবো।

চোখ বন্ধ করতেই দেখতে পেলাম, সারি সারি ঘন পাট ক্ষেতের মধ্যে দিয়ে চলে গেছে একটি নির্জন পাকা সড়ক। বড় এক বাদাম গাছের নিচে একটা মাটির ঘরের চা দোকান। আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামায় দোকানের ভেতরটা এখন অন্ধকার। আমি ভেতরের ধূষর অন্ধকার থেকে জানালা দিয়ে বাইরের প্রচন্ড সবুজ দেখছি। আশেপাশে কেউ নেই। চারিদিকে শুধু পাটক্ষেত আর ভেজা মাটির এক অদ্ভুত সুন্দর গন্ধ।

হঠাৎ প্রচন্ড ঠান্ডা লাগল। চোখ মেলে দেখি আম্মা এসে কপালে হাত দিয়েছেন। বললেন, শরীরে তো জ্বর এসেছে? আজকে আর বের হবি?
আম্মার কথায় অদ্ভুত একটা আলসেমী ছিলো। বললাম - নাহ বের হবো না।

আম্মার হাত জড়িয়ে ধরেই ঘুমিয়ে পড়লাম। আজ মনে হয় ঘুমের মধ্যে অনেক প্রলাপ বকেছি। স্বপ্নে মনে হয় অতীতে ফিরে গিয়েছিলাম। কিছু প্রিয় মুখ, কিছু স্মৃতি, লাফাঙ্গা জীবন, আহ!

একটা সময় জীবনটা অদ্ভুত বাউন্ডুলেপনায় আছন্ন ছিলো। প্রায়ই রাতে গাড়ীর তীব্র গতির মাঝে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করতাম জীবন আর হারানো সময় কে। যত দ্রুত গতি, তত স্মৃতির গভীরে যাওয়া, তত জীবনের দর্শন খুঁজে পাওয়া। আমরা চিৎকার করে গাইতাম, আবৃতি করতাম, পানি পান করতাম। কারন পানির অপর নাম জীবন হলেও তা ভাগ্যিস জীবনের মত তিতা ছিলো না।

বিরহ, বিচ্ছেদকে চিরকাল আমরা বুড়ো আঙুল দেখিয়েছি। তবুও মাঝে মাঝে গভীর রাতে কোন নদীর পাড়ে তীব্র ঢেউয়ের কাছে আমরা পরাজিত হতাম। ঢেউয়ের কাছে কিছু শিখতে চাইতাম। কিছু জানতে চাইতাম! হয়ত ঢেউয়ের মাথায় সাদা ফেনায় খুঁজে বেড়াতাম নিজেকেই।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুন, ২০২৪ বিকাল ৩:৪১
১২টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আর্মি এখনও ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছেনা কেন?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৪৫

“শেখ হাসিনার পতনের মূল কারণ ছিল চীনের দিকে অতিরিক্ত ঝুঁকে পড়া, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই ভূরাজনৈতিক অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে, দেশের অভ্যন্তরে একটি পরিকল্পিত পরিবর্তন... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীর কোথাও কেন রাত নামে না, আবার কোথাও সূর্য ওঠে না

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:০৩

পৃথিবীর কোথাও কেন রাত নামে না, আবার কোথাও সূর্য ওঠে না

ছবি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা, ভৌগোলিক প্রভাব এবং আধ্যাত্মিক প্রতিফলন

আমরা প্রতিদিন যে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখি, সেটাকে এতটাই স্বাভাবিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাংবাদিক নারীরা কি টিপিক্যাল, চিন্তার গভীরতা কি ওদের কম??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০



সাংবাদিক নারী বা সাংবাদিকতার সাথে সম্পর্কিত পেশায় জড়িত মেয়েরা কি একটু টিপিক্যাল টাইপের হয়??
আমার তো তা-ই মনে হয়! এছাড়া, চিন্তার গভীরতা ওদের একটু কমও মনে হয়েছে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×