রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করুন
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাবু
এবারের মতো শেষ হয়ে আসছে ,মাহে রমজানের মাস।রোজা যেমন ইসলামের একটি নিয়ম,ফরজ,তেমনি রোজা রাখা একটি অভ্যাস এবং পারিবারিক শিক্ষা।আরবের মানুষ রোজা রাখে,তাদের আমাদের মতো কষ্ট হয় না। তারা সে পরিবেশে বড় হয়েছে,প্রাকৃতিক ভাবে আবহাওয়া সয়ে গেছে তাদের যারা আমাদের দেশ থেকে গেছে জীবন জীবিকার জন্যে তারাও রোজা রাখতে পারে।সমস্যা হয় না।বেশির ভাগ রোগীকে ডাক্তার নিয়ম বদলে ইফতার,সেহরী কিংবা মধ্যরাতে বন্টন করে দেন ওউষধের নিয়ম।অসুস্থ্যতার কারনে কেউ না রাখতে পারলে তার কিছু নিয়ম দেয়া আছে ইসলামে কাফফারা স্বরুপ। কিন্তু আমি লক্ষ্য করেছি অনেক রোগী রোজা রাখতে পারেন যাদের ছোট বেলা থেকে অভ্যাস আছে।যারা রাখতে পারছেন না তাদের অভ্যাস ছিলো নআ।বাবা মা অতি আদরে প্রথম দিকে বয়স,স্বাস্থ্য হানি পরবর্তীতে পড়া শোনার ক্ষতি হবে ভেবে রোজা রাখতে দেন না এতে অভ্যাস হয়ে উঠে না। আর বয়স কালে কাজের চাপ, অসুস্থতা জেকে বসে কিংবা সামান্যতেই রোজা রাখেন না,মনের দিক থেকেও দুর্বল হয়ে পড়েন।
আজকের এই লেখাটি আমি কট্টর মুসলিম হিসাবে নয়,সামান্য, নগন্য একজন পাপী মানুষ হিসাবে লিখছি কারন রোজার একটা পবিত্রতা আছে,তার লঙ্ঘন মনে হয়েছে বলে লিখলাম, যেমন ইফতারের আর কয়েক মিনিট বাকী এমন সময় সত্যিকারের রোজাদার কিংবা শুধুই ইফতার করতে আসা মানুষ রেষ্টুরেন্টে ইফতার নিয়ে অপেক্ষায় নির্দিষ্ট সময়ের বা আজানের।সে সময় দোকানদার বিক্রি করছেন,আর বেশ কিছু লোক খাচ্ছেন,শব্দ করেই খাচ্ছেন,যাদের আমি মুসলিম হিসাবেই জানি,অন্যদিকে এক জন হিন্দু বসে আছেন খাবার নিচ্ছেন না,ইশারায় বললাম খান,তিনি পালটা ইশারায় ঘড়ি দেখিয়ে বললেন, অসুবিধা নেই,একটু পরে হলেও চলবে। সমাজের কিছু বিত্তবান,ধনী,রাজনিতিবিধ, সাহিত্যিক,লেখক, সাংবাদিক অনেক কে চিনি,জানি রোজা না রাখলেও রোজার ভাব রাখেন আর কত জন ডিক্লিয়ার দিয়ে খাবার খান।এতেও রমাজানের পবিত্রতা নষ্ট হয়। এখানে প্রবাসে কাজ কাজ আর কাজ,মাটি কাটা, ব্রেকার চালানো, রডের কাজ,ঢালাইয়ের কাজ,শিপ ইয়ার্ডের তপ্ত লোহা কাটা,প্যেল্ডিং,টানেলের কাজ, ড্রেনের ভিতরে কাজ রোজা রেখে করা সত্যি কঠিন। মুসলিম দেশ সৌদি আরবের মতো ছয় ঘন্টা কাজ করার সুযোগ অন্য দেশে নেই।আমার দেখা অনেককেই দেখি রোজা রাখছে আর কঠিন কাজ করছেন,খাবার সাথে রাখেন, শেষ মুহুর্ত চেষ্টা করেন,মা পারলে ভেঙ্গে ফেলেন। রোজাদারের সামনে খান না, আড়ালেই খান,তবে এই আড়ালে খাবারের বিষয়টা কর্ম ক্ষেত্রে ভিন্ন ধর্মীয়রাই বেশী করে। আর দেশীয় স্বধর্মীয়রা করে বেশী।রোজাদার এদের চোখে অপরাধী তার অহংকার সে মুসলিম হয়ে রোজা রাখে না।
রোজা শেষ হয়ে যাচ্ছে আবার আসবে এগার মাস পর, বাকী যে কদিন আছে রোজার পবিত্রতা রক্ষা কঅঅরি,আগামীতে সতর্ক হই,রোজা রাখার অভ্যাস করি।ইফতারের দশ পনের মিনিট পুর্বে থেকে খাবার বিক্রি বন্ধ রাখি যারা রোজাদারের সামনে বসে খায় তাদের কাছে,আর যারা রোজা রাখিনা তারা রোজাদারের এই উপবাস,এই সং্যমকে সন্মান করি,তাদের সামনে খাবার না খাই।যদি এতে রোজাদারের ক্ষতি হয় না,হবে না,দেখতে খারাপ দেখা যায় আর কি? ইসলামের ভালো দিক গুলি যদি পালনের চেষ্টা করি তাতে আপনার আমার সবার মঙ্গল। জঙ্গিবাদ ইসলামের অংশ নয় আপনি আমি সবাই জানি।এই সব মানুষ হত্যা কারীদের ঘৃনা করি।শাস্তি চাই।অশান্তি কারীদের বিনাশ চাই।মানবতা ফিরে আসুক।টুরিষ্ট ভিসা নিয়ে যারা বিদেশে আসেন বিশেষ করে রোজার মাসে মসজিদ,মাদ্রাসার নির্মান,উন্নয়ন,এতিম খানার খরচ চালানোর জন্য তারা প্রশ্নবিদ্ধ করছেন ইসলামকে। দান খয়রাতের নামে কতিপয়,সবাই নয় নিজেদের ঝুলিতে নিচ্ছেন।অনেকেই পথে ঘাটে মাঠে বিব্রত করছেন পথচারীদেশী ভাইদের,বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের।এটা মহৎ কাজের স্থলে হয়ে যাচ্ছে বছরান্তের বিলাসি এক পেশা,কেউ করছেন স্বর্ন, ইলেক্টনিক সরঞ্জামের ব্যাবসা। এবার সিঙ্গাপুরে গত বছরের তুলনায় কম এসেছে এই ভ্রমন ভিসায় আসা সাহায্য কামনাকারী মৌলভী বা দ্বীনের খেদমতগার। কেন? জানা না গেলেও ফিস ফাস শব্দে ভাসছে সম্প্রতি জঙ্গী দমন তৎপরতা।রমজান মাসে ইফতার, সেহরীর সময় সেরাঙ্গুন এলাকায় স্বল্প সময়ের জন্য আসা দ্বীনের খেদমতগারদের দৌড় ঝাঁপ বিব্রত করে অনেকেই।তারা অনেকেই বাধ্য করে নানা ভাবে।সাহায্যের জন্যে। এতে করে নিজ ধর্ম সম্পর্কে অনেকের ধারনা হয়ে যায় ভিন্ন।ঈদের সকালে জামাতের আগে মসজিদে তারা কিভাবে পবিত্রতা নষ্ট করেন যারা দেখেছে তারা বলতে পারবেন।গত দুই তিন বছর বিভিন্ন পত্র পত্রিকায়,স্থানীয় বাংলার কন্ঠ পত্রিকায় একাই প্রতিবাদ করায় অনেকে বলেছেন,আপনার সমস্যা কোথায়? তারা তো ভালো কাজ করছে,ধর্মের কাজ করছে।তাই আমি এই বছর কাউকে কিছু বলিনি।তাও প্রাসঙ্গ এসেই গেলো।আমার কাছে দৃষ্টি কটু মনে হয়।মনে হয় ইসলামে ছোট করা হচ্ছে।যদি বিশ্বাস এই সব ঠুনকো কাজে ইসলাম ছোট হবার নয়।
ইসলামের দ্যুতিতে আলোকিত হোক দশ দিগন্ত।আসুন রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করি।
সিংগাপুর, ২১-৬-২০১৬ ইং

সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুন, ২০১৬ সকাল ১০:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



