somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কবি ভবন সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য সময়ের দাবী

১০ ই অক্টোবর, ২০১৬ রাত ৯:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কবি ভবন সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য সময়ের দাবী

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাবু

একটি স্বাতন্ত্র কবি ভবন ,সাহিত্য প্রেমীদের বিশেষ প্রয়োজন।মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর কাছে বিশেষ আবেদন ,একটি কবি ভবন ,যে খানে থাকবে সাহিত্যের সকল শাখার লেখক ,পাঠকদের বিচরণ। কবি ভবন নাম হলেও সকল লিখিয়েদের জন্য এ ভবন। বলছিলাম একটি বহুতল বিশিষ্ট কবি ভবনের দাবি তোলা প্রসঙ্গে। কবিতা বা যত সহজে মানুষের কাছে, হৃদয়ে,মননে পৌছোতে পারে অন্য বিষয় গুলি তুলনা মূলক কম আমার দৃষ্টিতে । তাই নাম কবি ভবন হওয়াটা সমীচীন । কবি ভবনের দাবিটি ফেসবুকে জোরে শোরে শুরু হওয়ার পর হাতে গোনা কয়েকজন বিদ্রুপ করছেন। অনেকেই আলাদা করে ছড়া ভবন,লেখক ভবন এর কথা ও বলছেন টিপ্পনী করছেন। ভালো কাজে এই সব কীর্তি নতুন নয়। শিক্ষিতরাই এই সবে আঙুল তোলেন।কারন কি জানেন, ইগো!

যে কোন বিষয় যে কোন এক জন তোলেন বা প্রকাশ করেন।হয়তো এ বিষয়টি অনেকের মাথায় ছিলো। এখন শুধু বাংলাদেশ কবি পরিষদ সভাপতি টিপু রহমান এর নাম হবে, এ ভেবে বাঁকা চোখে ভালো কাজে বাগড়া দিচ্ছেন। অথচ যদি কোন দিন সফল হয়,কবি ভবন হয় প্রথম আহ্বানকারী বা উদ্যোগতার নাম ভুলে চেয়ার নিয়ে কক্ষ নিয়ে দলীয় প্রভাব বিস্তার ইত্যাদী কর্ম যজ্ঞে লিপ্ত হবেন। এক্ষন যে দলীয় প্রভাব নেই একেবারে তা নয়.

সে দিন জাদুঘরে যখন কবিতা পাঠের মঞ্চে জনাব টিপু রহমান বিষয়টি উচ্চারন করেন তার গলা কাঁপছিলো,হাত পা নড়ছিলো।কি ভাবছেন ?ভয়ে,মোটেই না, তিনি একটা দাবী, একটা অধিকার,একটা সৃষ্টির শুরু করছিলেন। তখন শুধু যে আমার মতো নগন্য প্রবাসির চোখ টিপু সাহেবের দিকেই ছিলো তা নয়।চোখ ছিল মঞ্চে উপবিষ্ট অতিথিদের দিকে,চোখ ছিলো দর্শক সারিতে কবিদের দিকে,আবৃতিকারদের দিকে। আমরা প্রবাসে যারা লেখা লেখি করি দেশের খ্যাতিমানদের কাছে কতোটা গ্রহনযোগ্য,ব্যাক্তি পরিচয় কতোটা শক্তি ধর তার প্রমাণ যে পাইনি তা কিন্তু নয়।

টিপু সাহেব মঞ্চে উঠার পুর্বে আমরা ক্যান্টিনের পেছনে রক্তে নিকোটিন দিতে যাই।সেখানে তিনি বলেছিলেন ,আজ মঞ্চে উঠলে একটা সারপ্রাইজ পাবেন।ভেবে ছিলাম, উনি বোধ হয় আমার সাথে লাগেজ দেখে ভেবেছেন ,আমার থাকার জায়গা নেই ,তাই তার ঢাকায় বাসায় যাবার অফার দেবেন এই রকম ভাবার কারণ বেশ কয়েকবার এক সাথে আড্ডা দেয়ার প্রোগ্রাম হয়েছিলো। আবার ভাবলাম হয়তো তিনি তার স্থলে আমাকে পাঠাবেন কবিতা আবৃতি করতে। না তেমন হয়নি,হলে এই কবি ভবনের দাবী শুরুটা সে দিন দেখা হতো না,শোনা হতো না । মিস করতাম ,এই দাবীর প্রথম দিনের শ্রোতা হওয়া থেকে বঞ্চিত হতাম ।

সে দিন প্রাণের প্রিয় বন্ধুকে দেখেছি আবৃতি করতে।দেখেছি দেশ বরেণ্য কবিদের। আবৃতিকারদের আবৃতি শুনেছি। ফেসবুকের কল্যানে অনেক প্রিয় মুখ ছিলো যাদু ঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে।যেখানে শুদ্ধতার কবি খ্যাত কবি অসীম সাহা মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্ম দিনে বঙ্গোত্তম উপাধি দেন। সারা মিলনায়তনে করতালিতে বার বার বঙ্গোত্তম উচ্চারন করেন। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে বঙ্গীয় সাহিত্য সংসদের অনুষ্ঠানে ,বঙ্গোত্তম উপাধির সন্ধ্যায় অনেকেই সাহিত্য সংস্কৃতির প্রতি উদার মনোভাবাপন্ন প্রধান মন্ত্রীর কাছে এই কবি ভবনের দাবীটাকে আমলে নেন নি। হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন,নীরব ছিলেন।

আমার কাছে দুটি কাজ ই ভালো লেগেছিলো। কিন্তু মঞ্চের কেউ কবি ভবনের দাবীটাকে সাথে সাথে সাধুবাদ দেননি।কারণটা আমার কাছে মনে হয় ,তারা দাবী করেননি বা তাদের কেউ এই দাবি উত্থাপন করেননি বলে ,কেউ উচ্ছসিত ছিলেন না। এখন এই দাবি তীব্র হচ্ছে দিন দিন।

ফেসবুক এখন প্রচার প্রসারের সহজ মাধ্যম,কবি ভবনের দাবিতে কবি গন দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিজের ছবি দিয়ে কবি ভবনের দাবী করছেন ।আমি সে দিন তাৎক্ষনিক একাত্বতা জানিয়ে পত্রিকায় লিখেছি। আমি চাই সর্ব শ্রেনীর লেখকদের একটা মিলন স্থান হোক। নাট্য মঞ্চ প্রেস ক্লাবের মতো কবি লেখক সাহিত্যিক লিখিয়ে গনের একটা নির্ধারিত স্থান থাক। ব্যাক্তি ছবি দিয়ে কবি ভবনের দাবীটা চোখে লাগছে বটে । কেমন যেন কবি ভবনের চাইতে আত্মপ্রচারটা বেশী।

কবি লেখকদের নিয়ে একটা বৈঠক করে প্রেস রিলিজ দিয়ে কমিটির মাধ্যমে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী পর্যন্ত না পৌছালে দাবী আদায় কঠিন হবে।দিন দিন ছড়া ভবন, গল্প ভবন,উপন্যাস ভবনের ও দাবী উঠিতে পারে। গা জ্বালা ধরা মানুষ যারা ফ্রন্ট লাইনে আসেও না,অন্যকে দেখতে চায় না তারা চুলকাবে জায়গা,বেজাগায়। কবি ভবন হলে দলাদলি হবে। ঘরে ঘরে আজ হচ্ছে দলাদলি আরতো সাহিত্যাঙ্গন। ব্যাঙের ছাতার মতো গ্রূপিং দেখে অনুমান করা যায় পদ পদবী কতটা জরুরী।

কবি ভবন হোক আর সাহিত্য ভবন হোক আসলে একটা স্থান দরকার।আমরা প্রবাসীরা না হয় থাকবো দর্শক সারিতে। অবশ্য আরেকটি অনুষ্ঠানে কবি অভিনেতা সোহেল রশিদের তৎপরতায় ,কবি ইউনুস ফার্সির সহযোগিতায় অনুপ্রাসের অনুষ্ঠানে কয়েকটি লাইন পড়ার সুযোগ হয়েছিলো অনুষ্ঠানের শেষ দিকে। প্রবাসে কাজের মাঝে ব্যাস্ত সময় আমাদের ,ছুটিতে গেলে কখনো সখনো দেখবো মুখ চেনা লোকের হাতে মাইক্রোফোন। তারা পড়বে স্তুতি কবিতা। প্রবাসী দর্শক হিসাবে তালি দেব ঠাস ঠাস। ভেদাভেদ ভুলে ,ছড়া ,কবিতা ,গল্প ,উপন্যাস ,ফিচারিস্ট,কলামিষ্ট এর আলাদা ভবনের দাবী না তুলে লেখকদের জন্য একটি স্থানের দাবি তুলি।হোক না ,নাম তার কবি ভবন.এ দাবি কবি টিপু রহমানের একার দাবি নয় , কবি ভবন সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য সময়ের দাবী।


সিঙ্গাপুর প্রবাসি
১০-১০-২০১৬ ইং

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই অক্টোবর, ২০১৬ রাত ৯:০৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×